করোনাভাইরাসের কারণে লোকজন ঘরবন্দি। পাশাপাশি শহরের প্রতিটি হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ। ফলে বেওয়ারিশ কুকুরগুলোর দেখা দেয় মারাত্মক খাদ্যসংকট। কারো কাছে খাদ্য চেয়ে নেওয়ার ক্ষমতা নেই তাদের। এক সপ্তাহ যাবৎ অভুক্ত এই কুকুরগুলো নির্জীব হয়ে পড়ে থাকে রাস্তাঘাটে। বিষয়টি নজরে পড়ে কয়েকজন সাংবাদিক ও পুলিশ কর্মকর্তার। পরে তারা খাবার রান্না করে হবিগঞ্জ শহরের ৮০/৯০টি বেওয়ারিশ কুকুরকে খাবার দেন। বুধবার গভীর রাতে এই খাবার পেয়ে মহাখুশি কুকুরগুলো লেজ নাড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করে আর পেট পুরে খায়।
হবিগঞ্জের সাংবাদিক পাভেল চৌধুরী ও হবিগঞ্জ কোর্ট স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক গোলাম কিবরিয়া বুধবার রাতে এই খাবার বিতরণ করেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন সমাজকর্মী সিদ্দিকী জনী, স্থানীয় সাংবাদিক সাইফুর রহমান তারেক, দোহা খান চৌধুরী, রবিন চৌধুরী, রাসেল আহমেদসহ কয়েকজন যুবক। তাদেরকে সহযোগিতা করেন বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. সেলিম ও তার স্ত্রী।
সাংবাদিক পাবেল খান চৌধুরী জানান, আমরা নিজ হাতে ভাত ও তরকারি রান্না করে মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস পরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ানো প্রায় ৮০-৯০টি কুকুরের মুখে খাবার তুলে দিই। মানুষের পাশে তো অনেককেই দেখা যায়। কিন্তু হোম কোয়ারেন্টিন এর কারণে শহরের সবগুলা হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় কুকুর-বেড়াল পড়ে যায় খাদ্য সংকটে। আমরা প্রতিদিন ৫ কেজি চালের সাথে আধাকেজি মুরগির মাংস ও ১ শ গ্রাম ডাল দিয়ে খিচুরি রান্না করে কুকুরদের খাওয়াব। কেউ সহযোগিতা করলে আমরা তা গ্রহণ করব।