করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেই যে মৃত্যু অনিবার্য তা কিন্তু নয়। এখন পর্যন্ত পরিসংখ্যান তাই বলছে।
বিশ্বব্যাপী এ রোগে মোট আক্রান্তের ২ শতাংশ মারা গেছেন ।
করোনার উৎপত্তিস্থল চীনেই ৫০ হাজারের অধিক আক্রান্ত এ ভাইরাসটি থেকে মুক্ত হয়েছেন।
ভিয়েতনাম জানিয়েছে, সেখানে আক্রান্ত সব করোনা রোগীকে তারা সুস্থ করে তুলেছেন।
এবার জানা গেলে, করোনা রোগীর চিকিৎসায় ভিয়েতনামের মতো সাফল্য এসেছে চীনের স্বশাসিত অঞ্চল ম্যাকাওতেও। সেখানে সর্বশেষ আক্রান্ত ব্যক্তিটি সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানায়, শুক্রবার ম্যাকাউয়ের সর্বশেষ ব্যক্তিটি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন।
সর্বশেষ করোনা আক্রান্ত ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে হাসপাতাল থেকে ছাড় দেয়া হয়েছে বলে অঞ্চলটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট বলছেন, শুরু থেকেই ম্যাকাও করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেয়। সেজন্য চীনের সঙ্গে স্থল পথে যুক্ত অঞ্চলটিতে সেভাবে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঘটেনি। এরপরও দেশটিতে কভিড-১৯ এ আক্রান্ত ১০ জন শনাক্ত হয়।এসব আক্রান্তদের দ্রুত আইলোশনে নিয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন ম্যাকাও স্বাস্থ্য কর্মীরা।
করোনা মোকাবেলায় এমন সাফল্যের জন্য দেশটির স্বাস্থ্য দফতর ও করোনা মোকাবেলায় সরাসরি নিযুক্ত চিকিৎসকদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন ম্যাকাও স্বাস্থ্য দফতরের ডিরেক্টর লেই চিন-ইয়ন।
এক বিবৃতিতে লেই চিন-ইয়ন বলেন, ‘ম্যাকাওতে এখন আর কোনো করোনাভাইরাস রোগী নেই। সবচেয়ে বড় বিষয় করোনায় এখানে কারো মৃত্যু হয়নি। আক্রান্তদের সারিয়ে তোলা হয়েছে। নতুন করে কেউ আক্রান্ত হননি। কোনো গুরুতর বিষয়ও নেই। ম্যাকাওতে গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন করে কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি ।
প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার ৯৭৭ জন। তবে সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছে ৬২ হাজার ২৪০ জন। ফলে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আশাব্যাঞ্জক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৮২৮ জন। শুধু চীনেই মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৯ জন। চীনের বাইরে বাংলাদেশসহ আরও ১০৭ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাস। এসব দেশে মারা গেছে আরও ৭০৯ জন।
চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৭৩৫ জন। চীনের বাইরে ২৯ হাজার ২৪২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬ হাজার ১২৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ৪০ জন এবং মারা গেছে ২২ জন।
চীনের ভাইরাসটি এখন ইতালি ও ইরানে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। রোববার ইতালিতে মৃত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৬ জনে। ইরানে মারা গেছে ১৯৪ জন। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় ভাইরাসটিতে মারা গেছেন ৫০ জন।