ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ৮ জুন ২০২৬ ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৩
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Sunday, 22 September, 2019, 10:38 AM

মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৩

মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৩

পাবনায় এক কিশোরকে মধ্যযুগীয় কায়দায় মাথার চুল কেটে, গলায় জুতার মালা পড়িয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

স্কুলছাত্রীকে উত্যক্ত করার অভিযোগে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সহ গ্রাম্যপ্রধানরা শালিসের মাধ্যমে কিশোরকে এ সাজা দেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

স্থানীয়রা জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরে একই গ্রামের মুন্নাফ হোসেন নামের এক কিশোর। পরে ছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে মুন্নাফ পালিয়ে যায়। ঘটনার দু’দিন পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর স্কুল মাঠে শালিস বৈঠক করেন স্কুল কমিটির সভাপতি আনিছুর রহমান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ওহিদুর রহমান ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান সহ গ্রাম্যপ্রধানরা। শালিসের রায় অনুযায়ী মুন্নাফকে বেত্রাঘাত করেন তার বাবা। এরপর মাথার চুল কেটে ও গলায় জুতার মালা পড়িয়ে স্কুল মাঠে ঘোরানো হয়।

এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে টনক নড়ে পুলিশের। গত বৃহস্পতিবার মুন্নাফের বাবা মঞ্জু শেখ বাদী হয়ে সদর থানায় সাতজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন।

শনিবার মামলার প্রধান তিন আসামি স্কুল কমিটির সভাপতি আনিছুর রহমান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ওহিদুর রহমান ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। ঘটনাটিকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন ও অমানবিক বলে মনে করছেন স্কুলছাত্রী, শিক্ষক সহ স্থানীয়রা।

যোগাযোগ করা হলে ছেলেটির বাবা মঞ্জু শেখ জানান, তিনি গ্রামের সাধারণ মানুষ। প্রধানদের উপরে কথা বলার ক্ষমতা তার নেই। তাই তিনি প্রথমে চুপ করেছিলেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি মামলা করেন।

তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে ছেলেটা অসুস্থ্য। ছোট একটা ভুলের জন্য এত বড় শাস্তি হবে ভাবতে পারি নাই।

কিশোরের মা বলেন, ছেলে একটা ভুল করেছিল। শাস্তি পাইছে। ছেলের বাবাই তাকে শাসন করছে। আমাদের আর কিছু বলার নাই।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্কুলের সহকারি শিক্ষক আজমত আলী বলেন, মূলত গ্রামের প্রধানরা মিলে এই সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন। এখানে স্কুলের কারো কিছু বলার ছিলনা। তবে শালিশের রায়টি ছিল মধ্যযুগীয়। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় এমনটি করা ঠিক হয়নি।

স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, শালিস বা মারধর এসব ঘটনার সাথে স্কুলের শিক্ষকরা কেউ জড়িত না। মূলত বিচারটা করছে গ্রামের প্রধানরা।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহমেদ জানান, তারা আইন হাতে তুলে নিয়ে ঠিক কাজ করেননি। তারা পুলিশ প্রশাসনকে জানাতে পারতেন। শালিস করার এখতিয়ার তো তাদের নেই। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পরে অভিযুক্ত প্রধান তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status