|
৯০০ টাকা দিলেই জড়িয়ে ধরা যাবে সুদর্শন পুরুষকে
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ৯০০ টাকা দিলেই জড়িয়ে ধরা যাবে সুদর্শন পুরুষকে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন পুরুষদের বলা হচ্ছে ‘ম্যান মাম’। সহজভাবে বললে, শক্তপোক্ত শরীরের আড়ালে যাদের আচরণ কোমল, ধৈর্যশীল ও সান্ত্বনা দেওয়ার মতো—তাদেরই বোঝানো হচ্ছে এই নামে। যেভাবে শুরু এই প্রবণতার শুরু এক তরুণীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টকে ঘিরে। পড়াশোনার চাপ সামলাতে গিয়ে তিনি একজন ভদ্র ও পেশিবহুল পুরুষের কাছ থেকে পাঁচ মিনিটের আলিঙ্গন চেয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, এমন আলিঙ্গন তাকে অতীতে নিরাপদ অনুভূতি দিয়েছিল। পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে দক্ষিণ চীনের একটি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই পোস্টে এক লাখের বেশি মন্তব্য জমা পড়ে। এরপর চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের সঙ্গী খোঁজার পোস্টও বাড়তে থাকে। পাঁচ মিনিটের আলিঙ্গনে ৯০০ টাকা এটি কোনো আনুষ্ঠানিক পেশা নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে এই অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থা। আগ্রহী পুরুষদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে তাদের বেছে নেওয়া হয়। শারীরিক গঠন, ভদ্রতা, ধৈর্য ও স্বভাব—এসব বিষয় বিবেচনা করেই সাধারণত কাউকে নির্বাচন করা হয়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মেট্রোস্টেশন বা কেনাকাটার কেন্দ্রের মতো প্রকাশ্য জায়গায় দেখা করার চেষ্টা করা হয়। সাধারণত পাঁচ মিনিটের আলিঙ্গনের জন্য নেওয়া হয় ২০ থেকে ৫০ ইউয়ান। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৯০০ টাকার কাছাকাছি। শুধু আলিঙ্গন নয়, কথা বলতেও চান অনেকে এই সেবার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন পুরুষও তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ বলেন, অন্যের মুখে স্বস্তি দেখতে পারা তাদের নিজের কাছেও ভালো লাগার বিষয়। আবার অনেক নারী শুধু আলিঙ্গন নয়, নিজেদের সমস্যার কথাও বলতে চান। চেহারা নিয়ে দুশ্চিন্তা, কাজের চাপ কিংবা পড়াশোনার নানা সমস্যা নিয়ে তারা এসব পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন। সেবাটির সঙ্গে যুক্ত একজন জানান, তিনি ভালো সাড়া পেয়েছেন এবং একাধিক আলিঙ্গনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আয় করেছেন। কেন বাড়ছে এমন প্রবণতা? শহুরে জীবনের ব্যস্ততা, একাকিত্ব, পড়াশোনার চাপ, কর্মজীবনের চাপ এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন—এসব কারণে অনেক মানুষ মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। পরিচিত মানুষের গণ্ডির বাইরে কোনো অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে অল্প সময়ের জন্য পাওয়া সান্ত্বনাও অনেকের কাছে স্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে। তবে এই ধরনের আলিঙ্গনকে কোনোভাবেই মানসিক চিকিৎসা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে দেখা যায় না। নিরাপত্তা নিয়েও আছে প্রশ্ন অপরিচিত মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ শারীরিক সংস্পর্শে ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘনের ঝুঁকি থাকে। পাশাপাশি যৌন হয়রানির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ কারণে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চীনের এই নতুন প্রবণতা তাই শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচিত বিষয় নয়। আধুনিক শহুরে জীবনে একাকিত্ব, মানসিক চাপ এবং মানুষের আবেগগত সংযোগের প্রয়োজন কতটা বেড়েছে, এই প্রবণতা যেন তারই একটি চিত্র তুলে ধরছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
