নকল ডানো ক্রিম, ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, চট্টগ্রামে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
মো.মোক্তার হোসেন বাবু, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: Sunday, 1 November, 2026, 7:30 PM
নকল ডানো ক্রিম, ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, চট্টগ্রামে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
নকল ডানো ক্রিম বিক্রি, খাদ্যপণ্যে নিষিদ্ধ রাসায়নিক রং ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও মোড়কে মেয়াদসংক্রান্ত তথ্য না থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরের তিন প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রোববার (১ নভেম্বর) নগরের আতুরার ডিপো সংলগ্ন এলাকায় দিনব্যাপী বাজার তদারকি অভিযান চালিয়ে এসব অনিয়মের প্রমাণ পায় অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অভিযানে নিউ খাজা আজমির স্টোরকে ৭ হাজার, মেসার্স তৃপ্তি ফুডস প্রোডাক্টকে ১ লাখ এবং মাবিয়া বেকারিকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, নিউ খাজা আজমির স্টোরে নকল ডানো ক্রিম বিক্রির পাশাপাশি খাদ্য প্রস্তুতে ব্যবহার নিষিদ্ধ কেওড়া জল ও গোলাপজল পাওয়া যায়। এসব পণ্য খাদ্য তৈরিতে ব্যবহারের ঝুঁকি বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, মেসার্স তৃপ্তি ফুডস প্রোডাক্টে খাদ্য প্রস্তুতে রাসায়নিক রং ব্যবহার, অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদন এবং খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে তেলাপোকার অবাধ বিচরণের প্রমাণ পাওয়া যায়। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ এসব অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া মাবিয়া বেকারিতে উৎপাদিত খাদ্যপণ্যের মোড়কে মেয়াদসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ না করেই বাজারজাত করা হচ্ছিল। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, খাদ্য প্রস্তুতে নিষিদ্ধ রাসায়নিক রং ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদন এবং ক্ষতিকর কেমিক্যাল বিক্রি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। অভিযানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খাদ্যপণ্যের মান ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি পণ্যের মোড়কে প্রয়োজনীয় তথ্য নিশ্চিত করে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।