|
কুড়িগ্রাম সরকারি খাদ্য গুদামে ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা দায়ের
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
|
![]() কুড়িগ্রাম সরকারি খাদ্য গুদামে ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা দায়ের গতকাল ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুড়িগ্রামের উপসহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম জেলা সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি করেন। মামলার বাদী নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কুড়িগ্রাম সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মজুত, সংগ্রহ ও বিল পরিশোধের নথি পর্যালোচনা এবং বাস্তব মজুত যাচাইয়ে বিভিন্ন অসংগতি পাওয়ার পর এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার ৪ আসামিরা হলেন কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ, তৎকালীন সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা তৎকালীন খাদ্য নিয়ন্ত্রক হালিমুর রহমান এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক। তাদের মধ্যে কাজী হামিদুল হক ছাড়া বাকি ৩ কর্মকর্তা বদলি হয়ে বিভিন্ন জেলায় কর্মরত রয়েছেন। দুদকের এজাহার অনুযায়ী, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪২০, ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া নথিবহির্ভূত চাল মজুতের ঘটনায় শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০(খ) ধারায়ও অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট দল কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের শিশু নিকেতন ও খলিলগঞ্জ গুদামে অভিযান চালায়। এ সময় সরকারি চাল ও ধানের মজুত, সংগ্রহ এবং বিল পরিশোধসংক্রান্ত নথি যাচাই করে বিভিন্ন অসংগতি পাওয়া যায়। অভিযানে নথিতে উল্লেখ করা চালের সঙ্গে বাস্তব মজুতের ঘাটতি, সংগৃহীত ধানের হিসাবের অসংগতি এবং বিল পরিশোধের পরও গুদামে খাদ্যশস্য না পাওয়ার মতো বিষয় উঠে আসে। এসব অসংগতির ভিত্তিতে ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫২ টাকা মূল্যের সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া এনফোর্সমেন্ট দলের অভিযানে কুড়িগ্রাম সদরের শিশু নিকেতন স্কুলসংলগ্ন গুদামের পশ্চিম গেটের পাশে নথিবহির্ভূতভাবে মজুত করা ১১৯ মেট্রিক টন চাল পাওয়া যায়। এসব চালের আনুমানিক মূল্য ৬৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৯ টাকা। দুদকের অভিযোগ, চালগুলোর সংগ্রহ, ওজন, মজুত কিংবা পরিবহনসংক্রান্ত বৈধ নথি দেখাতে পারেননি গুদামের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ। এ কারণে তার বিরুদ্ধে পৃথক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ৪ কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে খাদ্যশস্যের মজুত ও সংগ্রহ সংক্রান্ত নথিতে অসংগতি সৃষ্টি করে সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকালে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেছে দুদক। মামলার বাদী ও দুদকের উপসহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, অভিযানের পর আমরা দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলাম। সম্প্রতি প্রধান কার্যালয় থেকে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে মামলা করেছি। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
