|
‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে অধিকারের নিন্দা ও ক্ষোভ
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে অধিকারের নিন্দা ও ক্ষোভ সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক সভায় পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ।’ তাঁর এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অধিকার এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে দেশে ব্যাপকভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে ভিন্নমতাবলম্বী, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষও বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। অধিকার আরও উল্লেখ করে, এসব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে তৎকালীন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব) যুক্তরাষ্ট্র কালো তালিকাভুক্ত করেছিল। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, হাসিনা সরকারের আমলে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন ও বর্তমান সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্তদের অনেকে বর্তমানে বিদেশে পালিয়ে রয়েছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। অধিকারের মতে, পুলিশের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তির এমন বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে একধরনের দায়মুক্তির বার্তা দিতে পারে। এতে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ইতোমধ্যে পাঁচটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে অধিকার। আইজিপির বক্তব্যের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই আইন প্রয়োগের গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হতে পারে না। এ ধরনের ঘটনায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অধিকার অবিলম্বে আইজিপির বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহারের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত সব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
