ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ● ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ● ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
তাজমীন হত্যা: সেই সুমনকে নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Tuesday, 13 October, 2026, 10:36 AM

তাজমীন হত্যা: সেই সুমনকে নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

তাজমীন হত্যা: সেই সুমনকে নিয়ে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

কুমিল্লা স্কুলছাত্রী আলোচিত জান্নাতুন তাজমীনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সুমন মিয়াকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।  

পুলিশের ভাষ্য, সুমন মিয়া নিয়মিত গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করতেন। তিনি নিজের বাড়িঘর বিক্রি করে দীর্ঘদিন ধরে লালমাইয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। তার মাদকাসক্তির কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজন অতিষ্ঠ ছিলেন। 

পুলিশ জানায়, সুমন মিয়ার বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসাবে বসবাস করে আসছিলেন। তিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। 

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, মাদকসেবনের জন্য তিনি শ্বশুরের সব দামি আসবাব একে একে বিক্রি করে দিয়েছেন। একপর্যায়ে স্ত্রী তার বিরুদ্ধে মামলাও করেন। পরে বাধ্য হয়ে সন্তান নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন তিনি। এরপর সুমন অটোরিকশা চালিয়ে মাদকসেবন করে বিভিন্ন জায়গায় থাকতেন।

তদন্ত ও সুমনের স্বীকারোক্তির বরাতে পুলিশ জানায়, গত বুধবার মধ্যরাতে কক্সবাজার থেকে ফিরে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় নামে তাজমীন। সেখান থেকে কুমিল্লা শহরের বাসায় যাওয়ার জন্য ৩০০ টাকায় সুমনের অটোরিকশা ভাড়া করে সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া এই কিশোরী। শর্টকার্ট পথের কথা বলে সুমন একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় তাকে। 

আতঙ্কিত হয়ে তাজমীন চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে সুমন তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন। ধর্ষণের চেষ্টা করলে বাধা দেয় তাজমীন। এ সময় ধানখেতে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। পরে তার গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে ধর্ষণের পর মাটিতে ফেলে পা দিয়ে চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সুমন। তার ব্যানিটি ব্যাগ থেকে আইফোন নিলেও পরে একটি জঙ্গলে ফেলে চট্টগ্রামে পালিয়ে যান তিনি। 

বৃহস্পতিবার সেখান থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গোয়েন্দা ও থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাগমারার একটি জঙ্গল থেকে সেই আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। শনিবার রাতে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে সুমন। পরে তাকে জেলা কারাগারে পাঠান বিচারক। 

লালমাই থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘাতক সুমন মিয়া একজন উচ্চমাত্রার নেতাগ্রস্ত। গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করত। তার অপকর্মের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। 

কুমিল্লার ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ বলেন, মামলা তদন্তের স্বার্থে কথিত প্রেমিক রাজু চৌধুরীকে গ্রেফতারের পর কুমিল্লায় আনা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status