|
মাটির প্রতিমায় দেবীর রূপ, আড়ালে কারিগরদের জীবনসংগ্রাম
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
|
মাটির প্রতিমায় দেবীর রূপ, আড়ালে কারিগরদের জীবনসংগ্রাম উপজেলার প্রতিমা কারিগর শ্রী তপন চন্দ্র মালি এ বছর তৈরি করছেন ১০টি প্রতিমা। প্রতিটি প্রতিমা ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। একটি প্রতিমা তৈরিতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা। প্রতিটি প্রতিমা তৈরির কাজে ১৫ থেকে ১৬ জন শ্রমিক যুক্ত থাকেন। তপন চন্দ্র মালি বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজটা মৌসুমি। পূজার সময় কাজের চাপ থাকে। কাজ শেষ হলে আবার কৃষিকাজে যুক্ত হই। শ্যামল চন্দ্র বলেন, প্রতিমা তৈরির জন্য ভালো ও শক্ত মাটি প্রয়োজন হয়। সাধারণত পুকুর বা ক্ষেতের শক্ত মাটি সংগ্রহ করে প্রতিমা তৈরি করি। গত বছরের তুলনায় এবার সবকিছুর দাম বেড়েছে। তারপরও কাজ ধরে রাখতে হচ্ছে। তিনি জানান, একটি প্রতিমা তৈরি করতে প্রায় ১২ দিন সময় লাগে। সব ধরনের খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটি প্রতিমায় তাঁদের প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা লাভ থাকে। তবে এই পেশা দিয়ে সারা বছর সংসার চালানো সম্ভব নয়। শ্যামল চন্দ্র জানান, সাধারণত বছরে প্রায় তিন মাস প্রতিমা তৈরির কাজ থাকে। এ সময়টুকু কাজের ব্যস্ততা থাকলেও বছরের বাকি সময় তাঁদের কৃষিকাজের ওপর নির্ভর করতে হয়। অনেক সময় অন্যের জমিতেও শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে হয়। শ্যামল চন্দ্র বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হলে আবার কৃষিকাজে চলে যাই। বছরের বাকি সময় অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালাতে হয়। তবে চাই, আমাদের সন্তানরাও এই পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকুক। নতুন প্রজন্ম এ কাজ ধরে রাখলে আমাদের ঐতিহ্যটাও টিকে থাকবে। কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিমা তৈরির সঙ্গে শুধু মূল কারিগররাই নন, স্থানীয় অনেক শ্রমিকও যুক্ত হন। ফলে দুর্গাপূজার মৌসুমে কয়েক মাসের জন্য তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হলে আবার তাঁদের অনেকেই কৃষিশ্রমিকের কাজে ফিরে যান। স্থানীয় কারিগরদের মতে, প্রতিমা তৈরি শুধু একটি পেশা নয়; এটি তাঁদের বংশপরম্পরায় চলে আসা শিল্প। মাটি, খড় ও বাঁশের সঙ্গে শ্রম আর অভিজ্ঞতা মিশিয়ে তাঁরা তৈরি করেন পূজামণ্ডপের প্রধান আকর্ষণ। কিন্তু উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি, সীমিত কাজের সময় ও সারা বছর আয়ের নিশ্চয়তা না থাকায় এই পেশার সঙ্গে জড়িতদের জীবনযাত্রা সহজ নয়। ফুলবাড়ীর প্রতিমা তৈরির কারিগরদের জীবনের গল্প তাই শুধু দুর্গাপূজার প্রস্তুতির গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামীণ মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থান, কৃষিনির্ভর জীবন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
