|
ব্রাজিলে আজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, কঠিন লড়াইয়ে লুলা-ফ্লাভিও
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ব্রাজিলে আজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, কঠিন লড়াইয়ে লুলা-ফ্লাভিও ৮০ বছর বয়সী লুলা শনিবার (৩ অক্টোবর) ব্রাজিলের অর্থনৈতিক কেন্দ্র সাও পাওলোতে মিছিলের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন। তার প্রচারশিবিরের দাবি, সমাপনী এই সমাবেশে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছেন। সমর্থকদের উদ্দেশে লুলা বলেন, প্রথম দফাতেই তারা নির্বাচনে জয়ী হবেন। লুলা এবারের নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্র ও বর্বরতার’ মধ্যকার লড়াই হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি ডানপন্থিদের পরাজিত করার প্রত্যয়ও জানান। একই সঙ্গে ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে নির্বাচনকে দেশের সার্বভৌমত্বের পরীক্ষাও হিসেবে দেখছেন তিনি। অন্যদিকে ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারোও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। শনিবার (৩ অক্টোবর) সাও পাওলো রাজ্যের বিভিন্ন শহরে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রচারণা চালান তিনি। পরে রিও ডি জেনেইরোতে সমাবেশ করেন। সেখানে তিনি বলেন, প্রথম দফাতেই জয় পাওয়ার মতো সবকিছু তাদের প্রস্তুত রয়েছে। ফ্লাভিও সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। সমাবেশে তার হাতে বাবার একটি ছবিও দেখা যায়। জাইর বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয় মেনে না নিয়ে ক্ষমতা উল্টে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে জাইর বলসোনারো বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্লাভিওকে সমর্থন না করলেও ব্রাজিলের নির্বাচন তিনি ‘খুব কাছ থেকে’ পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানিয়েছেন। এ নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করেছে। লুলার সমর্থকেরা এটিকে ব্রাজিলের নির্বাচনে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তুষ্ট বলসোনারোর কিছু সমর্থক মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ পরিবর্তন আনতে সহায়ক হতে পারে। সর্বশেষ জরিপে লুলা এগিয়ে থাকলেও তার ব্যবধান কমে এসেছে। ফলে আজকের (৪ অক্টোবর) ভোটে কোনো প্রার্থীই সরাসরি জয়ী হওয়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন হলে আগামী ২৫ অক্টোবর শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট হবে। জরিপ বলছে, সেই লড়াইও হতে পারে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলা জাইর বলসোনারোকে দুই শতাংশেরও কম ব্যবধানে হারিয়েছিলেন। এবারের লড়াইও সেই তুলনায় বেশ কঠিন হয়ে উঠেছে। এদিকে ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রচারণা নিয়ে অর্থায়নসংক্রান্ত একটি চলচ্চিত্র বিতর্কও তৈরি হয়েছে। তার বাবাকে নিয়ে নির্মিত ‘ডার্ক হর্স’ নামের একটি চলচ্চিত্রের অর্থায়ন নিয়ে তদন্ত চলছে। চলচ্চিত্রটির অর্থ দিয়েছিলেন ব্রাজিলের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত এক কারাবন্দি ব্যাংকার। এছাড়া গত এপ্রিল মাসে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ আদালত লুলার বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে তদন্তের অনুমতি দেয়। নির্বাচনে জয়ী হলে বাবাকে কারাগার থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করবেন বলেও জানিয়েছেন ফ্লাভিও। একই সঙ্গে তিনি ব্রাজিলের বৈদ্যুতিক ভোটব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বাবার পুরোনো, প্রমাণহীন প্রশ্নও তুলে ধরেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে হারলে ফলাফল নিয়ে আপত্তি তোলার ভিত্তি তৈরির কৌশলও এর মধ্যে থাকতে পারে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি প্রায় ১৬ কোটি নিবন্ধিত ভোটার রোববার আইনপ্রণেতা, গভর্নর ও সিনেটরও নির্বাচন করবেন। সাম্প্রতিক সময়ে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ডানপন্থি প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
