|
ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ছুরিকাঘাত
১৭৪ জনের জীবন বাঁচানো কে এই ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ১৭৪ জনের জীবন বাঁচানো কে এই ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ বুধবার দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর ককপিটে হামলার ঘটনা ঘটে। ফ্লাইটটিতে ১৭৪ যাত্রীর মধ্যে ১৬৬ জনই ইসরায়েলি নাগরিক ছিলেন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, সহকারী পাইলট ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন এবং বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। তবে ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, ঘটনার কারণ ও উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত নয় এবং বিষয়টি আনুষ্ঠানিক তদন্তাধীন। ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারায়। পরে বিমানের ক্রু ও যাত্রীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন। বিকল্প ক্রুদের মাধ্যমে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। বিমানে থাকা সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে ফ্লাইদুবাই। ১৭৪ জনের জীবন বাঁচানো কে এই ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার ইসরায়েলি যাত্রী নিতে বিমান পাঠানোর অনুরোধ ফিরিয়ে দিল সৌদি আরব স্মিত মাচ্ছারের পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, মাচ্ছার মুম্বাইয়ের ঘাটকোপারের বাসিন্দা। সেখানকার পরিবারের সঙ্গে যুক্ত এবং তার বয়স ৩৫ ত্রিশের কাছাকাছি। তার ভাইও পাইলট এবং তিনিও ফ্লাইদুবাইয়ে বিমান পরিচালনা করেন। বিজনেস টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার প্রথমে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর একটি কোর্সে ভর্তি হন। তাদের পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে এই বিষয়টির সম্পর্ক থাকায় তিনি এই বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। পরে তিনি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়ার সময় ১৯ বছর বয়সে একটি বিমান চলাচলবিষয়ক সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি বিমান চালানোর প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। লিংকডইনে তার পেশাগত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ওয়েলিংকর ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট-এ ২০০৭–২০০৮ সালে পড়াশোনা করেন। হিন্দুস্তান টাইমস তার শিক্ষাগত যোগ্যতাকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি হিসেবে উল্লেখ করেছে। এরপর তিনি নিউজিল্যান্ডে বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স (সিপিএল) অর্জনের জন্য প্রায় ১৮ মাস প্রশিক্ষণ নেন। এই প্রশিক্ষণ ২০০৮ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে সম্পন্ন হয় বলে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ভারতে ফিরে হরিয়ানার মানেসর/গুরগাঁওয়ের এফএসটিসি-তে বোয়িং ৭৩৭ বিমান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিমান-ধরনভিত্তিক প্রশিক্ষণ (টাইপ রেটিং) সম্পন্ন করেন। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান দুবাইয়ে থাকেন। তবে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি দ্য গার্ডিয়ান। এনডিটিভি জানায়, ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার প্রায় চার বছর ধরে ফ্লাইদুবাইয়ে কাজ করছেন। এর আগে তিনি ভারতের স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা স্পাইসজেটে প্রায় ১১ বছর দায়িত্ব পালন করেন। বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজে তার ১৩ বছরের বেশি বাণিজ্যিক উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তার উড্ডয়ন সময় প্রায় ৯ হাজার ৭৫০ ঘণ্টা বলে তার পেশাগত প্রোফাইলে উল্লেখ রয়েছে। ফ্লাইদুবাইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর ইসরায়েলগামী ওই ফ্লাইটের যাত্রা সম্পন্ন করতে বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার কারণ বা উদ্দেশ্য নিয়ে আগাম কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি। নেতানিয়াহু পরে ভারতীয় পাইলট মাচ্ছার ও ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণে সহায়তাকারী যাত্রী ও ক্রুদের প্রশংসা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সহায়তা করেছে। সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, গার্ডিয়ান, বিজনেস টুডে |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
