ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
পরীক্ষার আগে ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, চিরকুটে লেখা ‘সিলেবাস কমপ্লিট করতে পারিনি
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Saturday, 19 September, 2026, 10:10 PM

পরীক্ষার আগে ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, চিরকুটে লেখা ‘সিলেবাস কমপ্লিট করতে পারিনি

পরীক্ষার আগে ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, চিরকুটে লেখা ‘সিলেবাস কমপ্লিট করতে পারিনি

পিতা-মাতাকে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার কলেজছাত্রী শরিফা ইসলাম (২০) ‘সামনে পরীক্ষা। প্রস্তুতি ভালো হয়নি’, ‘স্বপ্নটা পূরণ করতে পারলাম না’- এমন দুশ্চিন্তায় পিতা-মাতার উদ্দেশে চিরকুট লিখে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শরিফা ইসলাম (২০) নামে এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন।

পরিবারের দাবি, পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ‘মানসিক চাপ থেকেই’ এ ঘটনা ঘটতে পারে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার উনিশিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
শরিফা ওই গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে এবং কোটালীপাড়া আদর্শ সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাড়ির পেছনে শরিফাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। পরে তাকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


শরিফার বোন মাহমুদা খানম বলেন, ‘শরিফা মেধাবী ছাত্রী ছিল। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে তার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো না হওয়ায় সে দুশ্চিন্তায় ছিল।’

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শরিফার পড়ার টেবিল থেকে মা-বাবার উদ্দেশে লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। সেখানে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও ফলাফল নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ ছিল বলে পরিবার জানিয়েছে।

কোটালীপাড়া আদর্শ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রিন্স আহমেদ বলেন, ‘শরিফা কবিতা আবৃত্তি, বিতর্ক ও খেলাধুলায় সক্রিয় ছিল। গত ১০ সেপ্টেম্বর বিতর্ক সংসদের আয়োজনে সে ভালো বিতর্ক করেছিল এবং তাকে প্রশংসা করা হয়েছিল। তার এমন মৃত্যুতে তিনি বিস্মিত।’

কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।’

শিক্ষার্থী শরিফার চিরকুট
চিরকুটে শিক্ষার্থী শরিফা ইসলাম লিখেন, ‘প্রিয় আব্বু, আপনাকে ছেড়ে আমি দুনিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আপনি সেদিন একটা কথা বলেছিলেন আপনার সবগুলো ছেলে মেয়ে শিক্ষিত, এখন আমি আমাকে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করাতে পারলে আপনার মনে একটা প্রশান্তি কাজ করবে। আমি আপনার এই স্বপ্নটা পূরণ করতে পারলাম না আব্বু। ২৮ তারিখ আমার পরীক্ষা শুরু অথচ আজ ১৮ তারিখ চলছে এখনো আমি সবগুলো সাবজেক্টের পুরো সিলেবাস কমপ্লিট করতে পারিনি। এমন প্রিপারেশন নিয়ে পরীক্ষা দিলে আমার রেজাল্ট ভালো হওয়ার কোনো চান্স নেই। তারপর আমি আপনাদের কী বলবো। বিভাগে প্রিয় স্যার ম্যামদের সামনে কীভাবে যাবো?

প্রিয় মা, মেয়ে হয়ে মায়ের কষ্ট কখনো বুঝতে চেষ্টা করিনি। তোমার আর আব্বুর শাসন, সাপোর্ট আমাকে আজ এ পর্যন্ত এনেছে কিন্তু আমি তোমাদের সম্মান নষ্ট করে চলে গেলাম। আমি নিজেকে অনেক বুঝিয়েছিলাম, কিন্তু মন কেন যেন মানছে না। আমি বাদে তোমাদের আরো ৬টা সন্তান আছে। কখনো আমার কথা মনে হলে তাদের মাঝে আমাকে খুঁজে নিও মা! প্রিয় আব্বু, মা আপনাদের বড্ড বেশি ভালোবাসি। মা কোনোদিন মুখে বলা হয়নি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status