ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
চাঁদের মালিকানা দাবি ট্রাম্পের, জাতিসংঘের চুক্তি কী বলে?
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Sunday, 13 September, 2026, 11:39 AM

চাঁদের মালিকানা দাবি ট্রাম্পের, জাতিসংঘের চুক্তি কী বলে?

চাঁদের মালিকানা দাবি ট্রাম্পের, জাতিসংঘের চুক্তি কী বলে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ঘিরে চাঁদের মালিকানা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর ট্রুথ সোশ্যালে ‘দ্য মুন ইজ আওয়ার্স’ বা ‘চাঁদ আমাদের’ লেখা একটি পোস্ট দেন ট্রাম্প। এর সঙ্গে ছিল মার্কিন পতাকার ছবি।

পোস্টটি ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া সত্য হলেও এটিকে চাঁদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা দাবির কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে কোনো নির্বাহী আদেশ বা আইনি ঘোষণাও দেওয়া হয়নি।

আন্তর্জাতিক আইনে অবশ্য কোনো দেশই চাঁদের মালিকানা দাবি করতে পারে না। জাতিসংঘের আউটার স্পেস ট্রিটির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, চাঁদসহ কোনো মহাজাগতিক বস্তুকে সার্বভৌমত্বের দাবি, ব্যবহার বা দখলের মাধ্যমে জাতীয় সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করা যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তির প্রতিষ্ঠাতা স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর একটি এবং পরে এটি অনুমোদনও করেছে। ফলে চুক্তির বিধান অনুযায়ী চাঁদের ওপর কোনো দেশের একক মালিকানা প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।

জাতিসংঘের আউটার স্পেস অ্যাফেয়ার্স অফিসের একজন মুখপাত্র ১০ সেপ্টেম্বর জানান, কোনো বিবৃতি আউটার স্পেস ট্রিটির অধীনে চাঁদের আইনি অবস্থার পরিবর্তন ঘটায় না। তবে কোনো বক্তব্য চুক্তির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের অধীনে সার্বভৌমত্বের দাবি হিসেবে বিবেচিত হবে কি না, তা নির্ভর করবে ওই বক্তব্যের আইনি চরিত্র, পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্যের ওপর।

চাঁদে পৌঁছানো অন্য চার দেশ চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপানও আউটার স্পেস ট্রিতে স্বাক্ষর করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে চাঁদের মালিকানা দাবি করলে তা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটির পরিকল্পনা

মহাকাশ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি অবশ্য আগেও আলোচনায় এসেছে। ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ‘Ensuring American Space Superiority’ শিরোনামের এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প প্রশাসন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণের কথা জানায়। এতে চাঁদ ও কক্ষপথে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও মহাকাশসম্পদ নিয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি হয়েছিল। ‘Encouraging International Support for the Recovery and Use of Space Resources’ শিরোনামের ওই আদেশে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশকে ‘গ্লোবাল কমন্স’ হিসেবে দেখে না। অর্থাৎ জাতীয় এখতিয়ারের বাইরে থাকা একটি অভিন্ন এলাকা হিসেবে মহাকাশকে বিবেচনা করে না যুক্তরাষ্ট্র।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন

ট্রাম্পের পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো দেশ কি সত্যিই চাঁদের মালিক হতে পারে?

৭ সেপ্টেম্বর একটি ফেসবুক পেজে লেখা হয়, কয়েক ঘণ্টা ধরে ইন্টারনেটে একই প্রশ্ন ঘুরছে, কোনো দেশ কি সত্যিই চাঁদের মালিক হতে পারে?

এ বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিস ও জাতিসংঘের আউটার স্পেস অ্যাফেয়ার্স অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান স্নোপস। পরে ১০ সেপ্টেম্বর ইউএনওওএসএর মন্তব্য যুক্ত করে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হয়।

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের ‘চাঁদ আমাদের’ মন্তব্যটি আলোচনার জন্ম দিলেও, এর মাধ্যমে চাঁদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আন্তর্জাতিক মহাকাশ চুক্তি এখনো কোনো দেশকে চাঁদকে নিজের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করার অনুমতি দেয় না।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status