হামে মৃত্যু: দুই বয়স শ্রেণির শিশু টিকার বাইরে, সুরক্ষা কীভাবে?
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Thursday, 10 September, 2026, 10:22 AM
হামে মৃত্যু: দুই বয়স শ্রেণির শিশু টিকার বাইরে, সুরক্ষা কীভাবে?
হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারানো শিশুদের একটি বড় অংশের বয়স ছয় মাসের কম। আর কম মারা গেলেও পাঁচ বছরের বেশি বয়সি শিশুরাও আছে এ তালিকায়।
প্রচলিত টিকাদান কর্মসূচিতে এ দুটি বয়স শ্রেণির শিশুরা টিকা পায় না। এবারের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতায়ও আসেনি তারা। ফলে তাদের সুরক্ষা কীভাবে হবে, এ প্রশ্ন ওঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছয় মাসের কম এবং পাঁচ বছরের বেশি বয়সিদের বিষয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে হামের সংক্রমণ থামানো কঠিন হবে।
প্রচলিত কর্মসূচি অনুযায়ী নয় মাস বয়সে হাম-রুবেলা টিকার এক ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে আরেক ডোজ দেওয়া হয়।
এবার হামের প্রকোপ তীব্র হওয়ায় ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের টিকার আওতায় আনা হয়।
টিকা দেওয়ার পরও অগাস্ট মাস থেকে হাম সংক্রমণের উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সে কারণে টিকার ‘কাভারেজ’, অব্যবস্থাপনাসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের দাবি, অপর্যাপ্ত টিকার ‘কাভারেজ’, জনসচেতনতার অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবায় অব্যবস্থাপনায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে।
হামে মৃত্যু হাজার ছাড়াল
চলতি বছরের শুরুর দিকে হামের প্রাদুর্ভাবের খবর এলেও সরকার ১৫ মার্চ থেকে তথ্য দেওয়া শুরু করেছে।
সে হিসেবে হামে মৃত্যুর ১৭৯তম দিন হয়েছে বুধবার। চলতি বছরে এ পর্যন্ত হাম এবং উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দিনের হিসেবে গড়ে ৫ জনের বেশি মারা যাচ্ছে।
সংক্রমণ কী কমেছে?
হামের উপসর্গ নিয়ে বুধবার পর্যন্ত হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ জন। আর চিকিৎসা শেষে ছাড়া পেয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন।
হাম শনাক্ত হয়েছে, এমন রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৯০৪। তবে হাপসাতালে আসা সব রোগীর হাম পরীক্ষা করা হয় না।
আর ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ-নাইট্যাগ গাইড লাইন অনুসারে এখন পরীক্ষার দরকার নাই। কারণ ৬৪ জেলা এবং প্রায় সব উপজেলায় হাম। সে কারণে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের সবাইকে হাম আক্রান্ত হিসেবে ধরে নিতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, হাম সংক্রমণের প্রথম ৩০ দিনে ২ হাজার ৫শ’ জনের মতো রোগী সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিল। পরের তিন মাস ৪ হাজারে সীমাবদ্ধ ছিল এ সংখ্যা।
৩১ জুলাইয়ের হিসেবে বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিল ৪ হাজার ১২৮ জন। বুধবার এ সংখ্যা পাওয়া গেছে ৫ হাজার ৫৭৪ জন, যা প্রথম ৩০ দিনের তুলনায় দ্বিগুণ।
টিকা ‘কাভারেজ’ কতটা হল?
হামের প্রাদুর্ভাবের পর সমালোচনা ও বিক্ষোভের মুখে সরকার প্রথমে ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় হাম-রুবেলার টিকাদান শুরু করে ৫ এপ্রিল।
এরপর চারটি সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদান শুরু হয় ১২ এপ্রিল। আর ২০ এপ্রিল শুরু হয়ে ২০ মে শেষ হয় দেশব্যাপী হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি।
গেল ১৪ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ ‘কাভারেজ’ বা শতভাগ শিশুকে টিকাদান সম্পন্ন হওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়।
হামের প্রকোপ ঠেকাতে টিকাদানের যে লক্ষ্যমাত্রা সরকার ঠিক করেছিল তার সঙ্গে ভিটামিন ‘এ প্লাস’ ক্যাপসুল কর্মসূচির আওতায় আনা শিশুর সংখ্যার ফারাক থাকায় টিকা ‘কাভারেজ’ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
হামের মতো একই বয়সি শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কর্সূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে সরকার। অর্থাৎ দুই কর্মসূচিরই আওতায় আনা শিশুর বয়স ৬ থেকে ৫৯ মাস ছিল।
জাতীয় পুষ্টিপ্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুসারে, গেল ২৮ জুন ২ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০৯ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে।
আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনের তথ্য অনুসারে, হামের টিকা পেয়েছে এক কোটি ৮৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৬ জন শিশু। ক্যাপসুল খাওয়া ও টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে ৩৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৩ জনের পার্থক্য দেখা গেছে।
এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সরকার বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনার কথা বলেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুসারে, দেশের ১ কোটি ৮০ লাখ লক্ষমাত্রার বিপরীতে ১ কোটি ৯৭ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। যা লক্ষমাত্রার হিসাবে ১০৯ শতাংশ।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি-ইপিআইর সাবেক কর্মসূচি ব্যবস্থাপক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারী বিডিনিউজ টোয়েন্টিাফোর ডটকমকে বলেন, “টিকার ‘কাভারেজ’ সঠিক না হওয়ার কারণে মৃত্যু থামছে না। কারণ একটি জনগোষ্ঠীর অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসার আগে হাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।”
বিশেষজ্ঞদের এ মত অনুযায়ী টিকা ‘কাভারেজের’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে?
হিসাব করে দেখা যায়, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও হামের টিকা পাওয়া শিশুর সংখ্যার পার্থক্য এখনো প্রায় ২৬ লাখ। অর্থাৎ ৮৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ শিশু হামের টিকা পায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
“নতুন করে ৪০ লাখ ডোজ টিকার অর্ডার করা হয়েছে। এ টিকা এলে আমরা আরেকটা ক্যাম্পেইন করব বাদ পড়াদের নিয়ে। তখন আশা করি, হাম কমে যাবে।”
গেল ১৯ আগস্ট বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেছেন, “হাম নিয়ে অবাস্তব আশ্বাস দেওয়ার সুযোগ নেই। টিকাদানের গতি শতভাগ বাড়ানো হলেও হাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও দুই থেকে তিন মাস লাগবে।
“তবে এ সময়ে সর্বোচ্চ চিকিৎসা এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদারের মাধ্যমে শিশুমৃত্যু কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।”
দুই বয়স শ্রেণির মৃত্যুর হার
গেল ৪ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হামে মৃত্যুর বিস্তারিত তথ্য পেয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, যদিও তথ্যের জন্য আবেদন করা হয়েছিল তার এক মাস আগে। অধিদপ্তর মৃত্যুর যে তথ্য দিয়েছে সেখানে কোনো তারিখ দেওয়া হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২৫২ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে, যা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ছয় মাসের কম বয়সি শিশু রয়েছে ৬৭ জন, অর্থাৎ ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ। আর পাঁচ বছরের বেশি শিশু রয়েছে ৩ জন, যা মোট মৃত্যুর ১ দশমিক ২ শতাংশ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অগাস্ট মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হামে মৃতদের ৯০ শতাংশ এ রোগের টিকা পায়নি। মৃতদের ৭ দশমিক ৯ শতাংশ হামের এক ডোজ টিকা পেয়েছে; আর ২ দশমিক ১৯ শতাংশ হামের দুই ডোজ টিকা পাওয়ার পরও মারা গেছে।
হামে মারা যাওয়াদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণও দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাতে দেখা যায়, মৃতদের ২০ শতাংশের বয়স ছয় মাসের কম; আর ৬ থেকে ৯ মাসের কম বয়সের ৩১ শতাংশ। অর্থাৎ হামে মৃতদের ৫১ শতাংশের বয়স ৯ মাসের কম।
সরকারের কী সিদ্ধান্ত?
তথ্য বলছে, ছয় মাসের কম এবং পাঁচ বছরের বেশি বয়সি শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কিন্তু তাদের টিকার আওতায় আনা বা অন্য কীভাবে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হবে, সে বিষয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
এ দুই বয়স শ্রেণির এ শিশুদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হলে হাম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রোগতত্ত্ববিদ ও জাতীয় হাম-রুবেলা নির্মূল যাচাই কমিটি-এনভিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ হাম রোগী আছে তার ১০ ভাগের এক ভাগের বয়স ৬ মাসের কম। আর আরেকটা শ্রেণি রয়েছে যাদের বয়স পাঁচ বছরের বেশি। এই দুই বয়স শ্রেণিকে টিকাদানের সিদ্ধান্ত নেই।
তাদের নিরাপদ করতে না পারলে হামের সংক্রমণ থামানো সম্ভব হবে না, বলছেন তিনি।
ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, “আমরা বহু আগে থেকে বয়স ভিত্তিক সংক্রমণের হার বিশ্লেষণ করে টিকা এবং যাদের টিকা দেওয়া সম্ভব নয় তাদের বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বলে আসছি। কিন্তু কথা শুনলেও কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না।”
তিনি বলেন, “ছয় মাসের কম বয়সিদের সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে, সেজন্য নিবিড় গবেষণা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেছি। গবেষণার জন্য আইইডিসিআর এবং আইসিডিডিআর’বি কাজ করছে।”
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
টিকাদানের শুরুতে এপ্রিল মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তর থেকে দাবি করা হয়, টিকাদানের পর জুন মাস থেকে হাম সংক্রমণ কমতে থাকবে। তবে বাস্তবে সংক্রমণ পরিস্থিতি সেটির বিপরীত।
হামের টিকার ক্ষেত্রে শতভাগ ‘কাভারেজ’ দাবি করলেও শিশুদের কাঙ্ক্ষিত বড় অংশের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (হার্ড ইমিউনিটি) তৈরি না হওয়ায় হামের সংক্রমণ কমেনি।
টিকা কার্যক্রম পুরোপুরি সফল হয়নি, সরকার এটি না মানলেও আবার টিকা দেওয়ার কথা বলছে।
তাহলে হামের সংক্রমণ থামবে কীভাবে?
রোগতত্ত্ববিদ অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, সবার আগে টিকার ‘কাভারেজ’ পূরণ করতে হবে। তারপর দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে জনসচেতনতা কর্মসূচি চালাতে হবে, যাতে সব শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। আর নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ঠিক করতে হবে। সর্বশেষ বয়সভিত্তিক গ্রুপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেলিন চৌধুরী বলেন, “দেশের বিপুল সংখ্যক শিশু টিকাদানের বাইরে থেকে গেছে। ফলে তাদের শরীরে হার্ড ইউমিনিটি তৈরি হয়নি৷ অন্যদিকে ছয় মাসের কম বয়সি শিশুও হামে আক্রান্ত হচ্ছে৷ তারা কেন আক্রান্ত হচ্ছে? কারণ তাদের মা হামের টিকা পায়নি৷ ফলে শিশুর শরীরেও হামের ইউমিনিটি তৈরি হয়নি৷”
এ চিকিৎসকের পরামর্শ, বর্তমানে যারা বিয়ের উপযুক্ত তাদের ‘স্ক্রিনিং’ এবং টিকাদানের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। আর এবার হামে মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অপুষ্টি। সেক্ষেত্রে শিশুদের মায়ের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্বের বিষয়টি সবাইকে জানাতে হবে। আর পথশিশু, যৌন পেশায় জড়িতদের সন্তানসহ বিভিন্ন ধরনের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের টিকার আওতায় আনতে হবে।
“যদি ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় না আনতে পারেন তাহলে শিশুদের আক্রান্ত হওয়া বা মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব নয়,” বলেন তিনি।
মৃত্যু ঠেকানোর বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, “স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও ভালো হলে কিছুটা মৃত্যু ঠেকানো যেত, কিন্তু এ দিকটাও ভালো নেই। এখনো দেশের সব মানুষকে সচেতন করা যায়নি।”
সচেতনতার বিষয়ে তিনি বলছেন, শুধু জ্বর হলেই যাতে শিশুদের আলাদা রাখা হয়। আর জ্বর না সারলে স্থানীয় কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতে ভর্তি করা হয়। সেখানে যদি হাম শনাক্ত হয়, তাহলে শরীর ভালো না হওয়া পর্যন্ত ভর্তি থাকবে।
ডা. মুশতাক বলেন, “দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত করতে হবে। অর্থাৎ আইসিইউ আর বাসার মাঝখানে একটা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থাকতে হবে। এতে রোগীদের যেমন জীবন রক্ষা হবে, তেমনি শহরের হাসপাতালে ভিড় কমে আসবে। দেশের গরীব মানুষদের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে যেন তারা ঘরেই সেবা পেতে পারে।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “চলতি মাসেই টিকা আসার পর আরেকটা ক্যাম্পেইন হবে। তার আগে আমরা যেসব এলাকায় উচ্চ সংক্রমণ বিবেচনায় টিকা দেওয়া হয়েছে, সেখানে সংক্রমণের চিত্র এবং অ্যান্টিবডি যাচাই করা হবে। এটির জন্য জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, আইইডিসিআরসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করি, এবার টিকাদান শেষে হামের সংক্রমণ কমে আসবে।”