|
ময়মনসিংহে আহত ফজলু থেকে রাব্বি হত্যা!
মোঃ মাইন উদ্দিন উজ্জ্বল, ময়মনসিংহ
|
![]() ময়মনসিংহে আহত ফজলু থেকে রাব্বি হত্যা! রাব্বি হত্যাকান্ডের আসামী গ্রেফতারের পর গণমাধ্যমের সামনে হাতকড়া নিয়ে হাটতে হাটতে অকপটে হত্যার কারন, তাৎকালীন সময়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অবহেলার বর্ননা দিতে গিয়ে বলেন, আমরা ভালো মানুষ মারিনাই, চাঁদাবাজ মেরেছি। আমাদের ভিডিও করে কি করবেন? আপনারা যদি আপনাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারতেন তাহলে আজ আমার এখানে আসতে হতোনা। আমি আসামি আমাকে গ্রেফতার করেছে কিন্তু আমার যে ঘরবাড়ি পোড়াইছে তা কি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি রক্ষা করতে পেরেছে। আসামির এমন কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর জনমনে ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। তথ্য সুত্রে জানা যায়, নিহত রাব্বি আওয়ামী অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সক্রিয় কর্মী ছিলো। চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ ছিলো তার হাতের মুঠোয়। পরবর্তীতে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী আদর্শ ত্যাগ করে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে বনে যান সম্মুখ সারির জুলাই যোদ্ধা। ৫ আগস্ট দেশের পটপরিবর্তনের পর স্থানীয়ভাবে মাসকান্দা দক্ষিণ পাড়া এলাকায় জোড়ালোভাবে আধিপত্য বিস্তারে ছিলেন বহাল তবিয়তে। স্থানীয় একাধিক সুত্রের দাবী, রাব্বির পিতা ভুট্রোর নির্দেশে গত ২৬ জুন ২০১৮ইং সালে রাব্বি ও আজিম গংদের বেপরোয়া আধিপত্য বিস্তারের অংশ হিসেবে ফজলুকে দিবালোকে মোটরসাইকেল থামিয়ে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত যখমের পর আসামী গ্রেফতার ও কার্যকর পদক্ষেপে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব অবহেলার কারনেই রাব্বি হত্যাকান্ডের ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। রাব্বি হত্যা মামলার আসামি পক্ষের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ফজলুল হককে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত যখমের ঘটনায় ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা যথাযথ নেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে রাব্বি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার সৃষ্টি হতোনা। তারা আরোও বলেন, “ফজলুল হককে ২০১৮ সালে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত যখম করা হলো তখনতো আমরা রাব্বির বাড়িঘরে হামলা বা আগুন দেইনি কিন্তু রাব্বি হত্যাকাণ্ডের পর আমাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। হত্যাকান্ড যেমন অপরাধ তেমনি প্রকাশ্যে ঘরবাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়াও অপরাধ। কিন্তু অদৃশ্য কারনে আমাদের ঘরবাড়ি পোড়ানো ও লুটপাটের ঘটনার মামলা নেয়নি কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। বর্তমানে ফজলুর পরিবারের নারী ও শিশুসহ অপরাপর সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবী করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, আমরা কোনো অপরাধ করিনি। যারা অপরাধ করেছে, তাদের বিচার করা হোক। কিন্তু কোনো অপরাধে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও আমাদের কেন বসতবাড়ি হারাতে হবে? আমাদের অপরাধ থাকলে আইন অনুযায়ী বিচার হোক, আর আমরা নির্দোষ হলে আমাদের নিরাপত্তা ও বসতভিটা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। এঘটনার বিষয়ে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ঘরবাড়ি পোড়ানোর ঘটনাও অপরাধ, তবে কারা পুড়িয়েছে তার সুনির্দিষ্ট প্রমান নেই। যদি কোন ভিডিও ফুটেজ বা সুনির্দিষ্ট প্রমান থাকে তাহলে মামলা নিতে বাধা নেই। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
