|
নিখোঁজ সন্তানের সন্ধানে বাবার আকুতি, ‘হাড্ডি-গুড্ডি হইলেও খুঁইজ্যা দ্যান’
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() নিখোঁজ সন্তানের সন্ধানে বাবার আকুতি, ‘হাড্ডি-গুড্ডি হইলেও খুঁইজ্যা দ্যান’ নিখোঁজ ইমরান খান সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া ভদ্রপাড়া গ্রামের চুন্নু খানের বড় ছেলে। সংসারের হাল ধরতে মাঝেমধ্যে বাবার ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে বের হতো সে। গত ১৪ জুন প্রতিবেশী শামীম মোল্যা (২১) ধান ভাঙানোর কথা বলে বাবার কাছ থেকে ভ্যান নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ইমরান। নিখোঁজের তিন দিন পর ১৭ জুন বিকেলে পার্শ্ববর্তী মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপট্টি গ্রামে শামীমের আত্মীয় এলিনা বেগমের বাড়ি থেকে ইমরানের সঙ্গে থাকা ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে একটি পাটক্ষেত থেকে ইমরানের ব্যবহৃত জুতা ও একটি কোদাল উদ্ধার করা হয়। ![]() নিখোঁজ সন্তানের সন্ধানে বাবার আকুতি, ‘হাড্ডি-গুড্ডি হইলেও খুঁইজ্যা দ্যান’ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে রয়েছেন এবং দুজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত শামীম মোল্যা এখনো পলাতক। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইমরানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছে পরিবারটি। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সন্তানের ছবি হাতে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইমরানের মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যরা। ইমরানের বাবা চুন্নু খান জানান, ছেলে জীবিত না মৃত কোনো তথ্যই তারা জানেন না। আড়াই মাস ধরে খোঁজ করেও ছেলের সন্ধান না পাওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটছে তাদের। ছেলের মরদেহ হলেও যেন খুঁজে বের করে দেওয়া হয় এমন আকুতি জানিয়েছেন তিনি বলেন, ‘ছেলে হাড্ডি-গুড্ডি হলেও খুঁইজ্যা দ্যান’। ইমরানের মা হাজেরা বেগম জানান, ভ্যানটি উদ্ধার হলেও ছেলের কোনো সন্ধান মেলেনি। ছেলেকে খুঁজতে ফরিদপুর হাসপাতাল, মুকসুদপুর হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন তারা। কিন্তু কোথাও ইমরানের সন্ধান পাননি। পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৪ জুন বেলা ১১টার দিকে বাজারে গিয়ে ইমরানকে না পেয়ে তারা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে প্রতিবেশী শামীম মোল্যার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ইমরান কোথায় জানতে চাইলে শামীম বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের কথা বলেছেন বলে অভিযোগ পরিবারের। সালথা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজের তিন দিন পর ১৭ জুন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় মামলা করেন ইমরানের বাবা চুন্নু খান। মামলা দায়েরের দিনই বিকেলে মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপট্টি গ্রাম থেকে এনায়েত শেখের স্ত্রী এলিনা বেগমকে (৩২) আটক করা হয়। তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ইমরানের ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত ভ্যান। ওই দিনই শামীম মোল্যা পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। একই দিন শামীমের বাবা টুকু মোল্যা (৬৫) ও স্ত্রী সাথী বেগমকে (২১) আটক করা হয়। পরে তদন্তকালে মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রাম থেকে রাসেল মাতুব্বর (২১) নামে আরও এক যুবককে আটক করা হয়। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। সালথা থানার ওসি বাবলুর রহমান খান বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে এ মামলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করছি। এ পর্যন্ত এই মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছি। কয়েকজন জামিনে আছেন, দুজন এখন জেলে রয়েছেন। মামলার প্রধান অভিযুক্ত শামীমকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
