|
পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালায় ডুবেছে কৃষকের স্বপ্ন
মোঃ লোকমান হোসেন, দীঘিনালা
|
![]() পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালায় ডুবেছে কৃষকের স্বপ্ন শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূধি চাকমা। তাঁর মতে, চলতি মৌসুমে এত অল্প সময়ে এমন ভারী বৃষ্টিপাতের নজির খুব একটা নেই। প্রবল বৃষ্টির পর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মাইনী নদীর পানি দ্রুত বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া দিয়ে নেমে আসে প্রবল স্রোত। এতে বোয়ালখালী ছড়ার পানি উপচে জামতলীসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। পানিতে তলিয়ে গেছে সদ্য রোপণ করা আমন ধানের ক্ষেত। কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় কৃষকের পাকা-বর্ধনশীল ধান নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। অনেকের সবজি ক্ষেতও পানির নিচে চলে গেছে। ক্ষেত ডোবার সঙ্গে বাড়ছে কৃষকের ঋণের ভয় স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে পানির ধাক্কায় পড়েছেন তারা। ধারদেনা ও সঞ্চয়ের টাকা খরচ করে আমন চাষ করেছিলেন অনেকে। এবারও ফসল নষ্ট হলে শুধু উৎপাদন ব্যয়ই নয়, সংসারের খরচ চালানো নিয়েও সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এক কৃষক বলেন, “গতবারের ক্ষতিই এখনো সামলাতে পারিনি। এবার আমনের ফলন দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ছিল। কয়েক ঘণ্টার পানিতে সেই আশাটাও অনিশ্চিত হয়ে গেল।” চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা মিথুন দাস বলেন, “সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘরের ভেতর পানি। আগে অনেক বন্যা দেখেছি, কিন্তু এভাবে ঘরে পানি ঢুকতে দেখিনি। অল্প সময়ের বৃষ্টিতে পাহাড়ি ছড়াগুলোতে এমন স্রোত তৈরি হয়েছে যে পানি দ্রুত লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।” ব্যাহত যোগাযোগ, দুর্ভোগে নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানি উঠে গেছে বিভিন্ন বসতঘর ও স্থানীয় সড়কে। দীঘিনালা-মেরুং সড়কের কয়েকটি অংশে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড় ধসের কারণে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের কিছু অংশেও চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এতে মাইনী ও সাজেকের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়ে। তবে স্থানীয়দের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন কৃষিজমি। কারণ পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে পুনরায় আবাদ করতে নতুন করে অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে। ত্রাণ নয়, স্থায়ী সমাধান চান কৃষকরা স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, ছড়া-খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া, পানি নিষ্কাশনের অপর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে ভারী বৃষ্টির পানি দ্রুত লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। তাদের মতে, প্রতিবছর বন্যার পর ত্রাণ দেওয়া হলেও পানি নিষ্কাশনের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ কম। কৃষকদের দাবি, ক্ষয়ক্ষতির দ্রুত তালিকা তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি পাহাড়ি ছড়া ও খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানি দ্রুত নেমে গেলেও কৃষকের ক্ষত সহজে শুকাবে না। এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা বন্যার ধাক্কায় অনেক কৃষক এখন নতুন করে ঋণের বোঝায় পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
