|
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জ, রণক্ষেত্র রাঁচি
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জ, রণক্ষেত্র রাঁচি পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে সোমবার সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ট্রেন, বাস এবং অন্যান্য যানবাহনে চড়ে রাজধানী রাঁচিতে জড়ো হন। শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় প্রশাসন প্রধান প্রধান মোড় ও স্পর্শকাতর এলাকায় ব্যারিকেড তৈরি করে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েনসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আজ রাঁচির বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই বন্ধ রয়েছে। রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের আগমন সীমিত করতে পুলিশ জেলার সীমানা, প্রধান সড়ক এবং মহাসড়কগুলোতে বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে তল্লাশি চালায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নেতা দেবেন্দ্র মাহাতো বিক্ষোভকারীদের পুলিশ বাধা দিলে কোনো তর্কে না জড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে বিধানসভায় পৌঁছানোর বিকল্প রাস্তা খুঁজে নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে কিছু শিক্ষার্থী ব্যারিকেড ভাঙতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশ যখন বিক্ষোভকারীদের থামাতে জলকামান নিয়ে আসে, তখন কিছু শিক্ষার্থীকে সেই তীব্র জলের সামনেই নাচতে দেখা যায়। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন বলেছিলেন, লাঠি নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই ঘরের সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনার জন্য রাজ্য সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটি এরইমধ্যে ৬ বার আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বসেছে। কমিটি আলোচনার অগ্রগতি মুখ্যমন্ত্রীকেও অবহিত করেছে। গতকাল রবিবার ষষ্ঠ দফা আলোচনায়ও দাবি মানার পরিপূর্ণ আশ্বাস না পেয়ে বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যায় আন্দোলনকারীরা। রাজ্য সরকারের দাবি, তারা শিক্ষার্থীদের ‘৯৮ শতাংশ’ দাবি মেনে নিয়েছেন এবং আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী সরেন এর আগে আন্দোলনকারীদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল জেপিএসসি-তেও বড় ধরনের রদবদল দেখা গেছে। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সিআইডি-র তলব পাওয়ার পর কমিশনের তিন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এর আগে গত ২২ জুলাই জেপিএসসি চেয়ারম্যান এল খিয়াংতেও পদত্যাগ করেছিলেন। তবে শিক্ষার্থীদের যুক্তি, তারা যে ১৩টি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন, সরকার তার মধ্যে মাত্র ৩টি বাতিল করতে রাজি হয়েছে। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা কথিত অনিয়মের বিষয়ে সিবিআইয়ের অধীনে তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছেন। 'জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্ম মঞ্চ'এর ব্যানারে গত ২৫ জুলাই থেকে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে লাগাতার বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতোসহ ৬ জন টানা ৮ দিন ধরে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ১৪তম ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত সম্মিলিত সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ব্যাপক জালিয়াতি ও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা এই বিতর্কিত পরীক্ষা অবিলম্বে বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এর আগে ২০২৪ সালের জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ ওঠে। সিআইডির তদন্তে অভিযোগের প্রমাণও পাওয়া যায়। কিন্তু রাজ্য সরকার সিআইডির রিপোর্ট ধামাচাপা দিয়ে দ্বিতীয় একটি কমিটির মাধ্যমে পরীক্ষাকে ক্লিন চিট দেয়, যা পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা ২০১৯ সালের পর থেকে হওয়া সমস্ত বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিলের দাবি তুলেছেন। সূত্র : এনডিটিভি |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
