|
১৫ বছরেও মেলেনি স্বস্তি
পিরোজপুর-শ্রীরামকাঠী সড়ক এখন যেন মৃত্যুফাঁদ
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() পিরোজপুর-শ্রীরামকাঠী সড়ক এখন যেন মৃত্যুফাঁদ জেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাকেন্দ্র শ্রীরামকাঠীর সঙ্গে পিরোজপুর শহরের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড়-বড় গর্ত। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন পথচারী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। আর বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে ডুবে গিয়ে পুরো সড়ক কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। কোথায় রাস্তা আর কোথায় গভীর গর্ত—তা বোঝারও উপায় থাকে না। ফলে প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে মানুষকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এই সড়কে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকচালকদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেকেই এখন দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন। এতে যেমন যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগছে, তেমনি বেড়েছে পরিবহন ব্যয়ও। অটোরিকশাচালক নজমুল ইসলাম বলেন, “কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে রাস্তার অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে গেছে। গর্তে পানি জমে থাকায় বোঝাই যায় না কোথায় রাস্তা আর কোথায় খাদ। প্রায়ই অটো গর্তে পড়ে যায়। এতে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। আয় কমে গেছে, কিন্তু ভোগান্তি বেড়েছে।” স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জামাল হোসেন বলেন, “শুকনো মৌসুমে এই সড়কে চলাচল করা মানেই ধুলোর মধ্যে দিয়ে যাওয়া। আর বর্ষাকালে কাদা ও পানির কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রোগী—সবাইকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি মানুষের চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।” শিক্ষার্থী সুমী আক্তার বলেন, “প্রতিদিন স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়। রাস্তা দিয়ে ঠিকমতো হাঁটাও যায় না। কাদা-পানি ছিটকে জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। আমরা চাই দ্রুত এই রাস্তা সংস্কার করা হোক।” স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেন বলেন, “প্রায় ১৫ বছর ধরে এই সড়কের একই দুরবস্থা। হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি।” স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের ভাষ্য, একসময় এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করত। এখন অধিকাংশ চালক ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছেন। এতে যাতায়াতে সময় ও খরচ বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা সড়কটির সংস্কারের জন্য ‘ইফতি ইটিসিএল প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দুটি প্যাকেজে ১৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে চুক্তি হয়। কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর এবং শেষ হওয়ার কথা ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হয়নি। বরং কাজ না করেই চুক্তির অর্থ উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে। এ বিষয়ে এলজিইডি পিরোজপুরের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী লায়লা মিথুন বলেন, “সড়কটির টেন্ডার হয়েছিল, কিন্তু কাজ বাস্তবায়ন হয়নি। তবে কাজের অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি নিয়ে দুদক তদন্ত করছে এবং মামলা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে থাকা এই সড়কসহ জেলার ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন সড়ক দ্রুত সংস্কারের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের আশা, চলমান তদন্তের মাধ্যমে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হবে। তাহলেই বহুদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং স্বস্তি ফিরবে এই সড়কনির্ভর হাজারো মানুষের জীবনে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
