|
নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে ‘হার ভোট, হার সিট’ ক্যাম্পেইন শুরু
|
![]() নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে ‘হার ভোট, হার সিট’ ক্যাম্পেইন শুরু ক্যাম্পেইনটি বাস্তবায়ন করছে জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ (ওয়াদা)। সহায়তা দিচ্ছে ইউএন উইমেন ও জাতিসংঘের নির্বাচন সহায়তা কর্মসূচি। অনুষ্ঠানে উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘ সংস্থা, নারী নেতৃত্ব, যুব প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটারের ৪৯ দশমিক ২৪ শতাংশই ছিলেন নারী। কিন্তু ৩০০টি আসনে সরাসরি ভোটে নারী নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র সাতজন, যা মোট আসনের ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ওই নির্বাচনে ৮৫ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। পরে সংরক্ষিত ৫০টি আসনে মনোনয়ন সম্পন্ন হলে সংসদে নারী সদস্যের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৭ জনে, অর্থাৎ নারীদের প্রতিনিধিত্বের বড় অংশই আসে ভোটারের সরাসরি ভোটে নয়, দলীয় মনোনয়নে। সামাজিক রীতিনীতি, পারিবারিক বাধা, নিরাপত্তাহীনতা, অনলাইনে হয়রানি, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও সম্পদে অসম প্রবেশাধিকার এখনো নারীর রাজনীতিতে আসার পথে বড় বাধা হয়ে আছে। ক্যাম্পেইনের প্রাথমিক জরিপ ও অংশীজন পরামর্শে আট জেলার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে: কুড়িগ্রাম, বগুড়া, ময়মনসিংহ, জামালপুর, কক্সবাজার, খুলনা, সাতক্ষীরা ও পটুয়াখালী। ক্যাম্পেইনের বার্তা হলো, আসনে পৌঁছানোই শেষ কথা নয়; সেখান থেকে কথা বলা, সিদ্ধান্ত নেওয়া ও প্রভাব রাখার সামর্থ্যই আসল অর্জন। এই লক্ষ্যে তিনটি বিষয়ে কাজ হবে: রাজনৈতিক ও নাগরিক পরিসরে নারীর প্রবেশের সুযোগ, সেখানে তাঁদের সক্রিয় উপস্থিতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের প্রভাব বৃদ্ধি। অনুষ্ঠানে ‘সিট স্টোরি: কণ্ঠস্বর থেকে আসনে’ শীর্ষক একটি প্রতীকী উপস্থাপনা হয়। এতে একজন যুব নারীর সাধারণ জীবন থেকে নেতৃত্বে উঠে আসার গল্প তুলে ধরা হয়। শেষে প্রতীকী আসনে বসার মধ্য দিয়ে দেখানো হয়, আসন পাওয়ার চেয়ে সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বেশি জরুরি। ইউএন উইমেনের কমিউনিকেশন অ্যানালিস্ট শারারাত ইসলাম বলেন, “নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ তখনই অর্থবহ হয়, যখন তাঁরা শুধু সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে উপস্থিত থাকেন না, বরং মতামত দিতে, সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে ও নেতৃত্ব দিতে পারেন। এটি নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও সব অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।” জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক (গবেষণা) আইরিন সুলতানা বলেন, “নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, তবে অনেক বিষয় এখনো আমাদের নজরের বাইরে থেকে যাচ্ছে। এই জায়গায় গণমাধ্যমের আরও কাজ করার সুযোগ আছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের জন্য নারীর নিরাপত্তা বাড়াতে হবে, বিশেষ করে অনলাইনে।” বাংলাদেশে ইউনেসকোর প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুজান ভাইজ বলেন, “নারীরা সামনের দিকে কীভাবে আসবেন, সেটা আগে ভাবতে হবে। তাঁদের প্রবেশপথ কোনটা হবে, তাঁরা কোথা থেকে শুরু করবেন, কমিউনিটি কীভাবে তাঁদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আগে খুঁজতে হবে।” জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের প্রোগ্রাম হেড ইফতিখার উল করিম বলেন, “নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ শুধু নারীদের বিষয় নয়, এটি একটি কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের ভিত্তি। একটি আসনই শেষ লক্ষ্য নয়; সেই আসন থেকে পরিবর্তন তৈরির সক্ষমতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” আয়োজকরা জানান, ‘হার ভোট, হার সিট’ সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষ একটি উদ্যোগ; কোনো রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের পক্ষে এটি কাজ করবে না। ক্যাম্পেইনের আওতায় সংলাপ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও গবেষণাভিত্তিক প্রচার চালানো হবে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
