|
৬ মাসে সিটি ব্যাংকের মুনাফা ছাড়াল ৫ বিলিয়ন টাকা
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ৬ মাসে সিটি ব্যাংকের মুনাফা ছাড়াল ৫ বিলিয়ন টাকা ব্যাংকটির অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে যেখানে ব্যাংকটির মুনাফা ছিল ৩০১ কোটি টাকা, সেখানে চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২৭ কোটি টাকায়। সোমবার পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রতিবেদনটি অনুমোদনের পর মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ঋণের সুদ থেকে ব্যাংকটির আয় হয়েছে ২ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের ২ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকার তুলনায় ১৪১ কোটি টাকা বা ৫ শতাংশের বেশি বেশি। অন্যদিকে আমানতের সুদ বাবদ ব্যয় বেড়ে ২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০৯ কোটি টাকা বেশি। অর্থাৎ সুদ আয় বৃদ্ধির হার সুদ ব্যয়ের তুলনায় বেশি হওয়ায় ব্যাংকের নিট সুদ আয় বেড়েছে। শুধু সুদ আয় নয়, সরকারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় করেছে সিটি ব্যাংক। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এ খাত থেকে ব্যাংকটির আয় হয়েছে ১ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এ খাতে আয় বেড়েছে ২৫৭ কোটি টাকা বা প্রায় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের কমিশন ও ফি-ভিত্তিক সেবা থেকেও আয় বেড়েছে ব্যাংকটির। চলতি বছরের প্রথমার্ধে এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৫২৯ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০৩ কোটি টাকা বেশি। মুনাফা বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হিসেবে দেখা গেছে মন্দ ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশনিং) কমে আসা। গত বছরের প্রথম ছয় মাসে এ খাতে ৬৫৭ কোটি টাকা সংরক্ষণ করতে হলেও চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে ৪৭৪ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। ফলে এ খাতে ব্যাংকটির সাশ্রয় হয়েছে ১৮৩ কোটি টাকা। গত বছর শেষে সিটি ব্যাংক প্রথমবারের মতো ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকার বার্ষিক মুনাফা করে রেকর্ড গড়েছিল। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই মুনাফা ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় বছর শেষে নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন বলেন, গত ছয় মাসে ব্যাংকের ঋণ প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ এবং আমানত প্রায় সাড়ে ১৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে দেশের ঋণ প্রবৃদ্ধি মন্থর থাকায় অতিরিক্ত আমানতের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারি সিকিউরিটিজে কৌশলগত বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে। তিনি জানান, এ সময়ে ব্যাংকের প্রকৃত সুদ আয় ১৭ শতাংশ এবং বিনিয়োগ থেকে আয় সাড়ে ১৫ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার কারণে ব্যাংকের কস্ট-টু-ইনকাম অনুপাত ৪৬ দশমিক ১ শতাংশে রয়েছে, যা ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার ইতিবাচক দিক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
