ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২৮ জুলাই ২০২৬ ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনক্লুসিভ সোসাইটি গঠনের ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিক পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই প্রশংসা অর্জন করেছে- রেজাউদ্দিন স্টালিন
সায়ীদ আবদুল মালিক
প্রকাশ: Tuesday, 28 July, 2026, 8:48 PM

ইনক্লুসিভ সোসাইটি গঠনের ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিক পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই প্রশংসা অর্জন করেছে- রেজাউদ্দিন স্টালিন

ইনক্লুসিভ সোসাইটি গঠনের ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিক পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই প্রশংসা অর্জন করেছে- রেজাউদ্দিন স্টালিন

শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে যোগদানের পরে অল্প দিনেই একাডেমির কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছেন কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন৷ সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সরকারের ১৮০ দিনের কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমান কার্যক্রম ও সংস্কৃতি এবং শিল্পকলা একাডেমি নিয়ে নতুন সময় এর  সঙ্গে কথা বলেছেন রেজাউদ্দিন স্টালিন। সেসব তুলে ধরেছেন সায়ীদ আবদুল মালিক।  

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও শিল্পকলা একাডেমির বাস্তবায়নে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সরকারের ১৮০ দিনের কি ধরনের কর্ম পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেসব কিভাবে বাস্তবায়ন হবে জানতে চাইলে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, সাংস্কৃতিক উন্নয়নে জাগরণ ঘটানোর জন্য একটি ইনক্লুসিভ সোসাইটি গঠনের ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিক পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই প্রশংসা অর্জন করেছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, চাকমা, মারমা, গারো, সাঁওতালসহ পাহাড় ও সমতলের মানুষদের সাংস্কৃতিক ঐকতান ঘটিয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক, বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করতে চায় সরকার। সবাই মিলেমিশে এক নতুন বাংলাদেশ তৈরি করার লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার। ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।  এ লক্ষ্যে ১৮০ দিনের কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে সরকার। আর সংস্কৃতির উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটানোর এই বিশাল কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিকে সম্পৃক্ত করেছে সরকার। ইতোমধ্যে আমরা বেশ কয়েকটি কাজ সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে পেরেছি। আমাদের এই সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞের মধ্যে রয়েছে সংগীত উৎসব, নৃত্য উৎসব, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, চল্লিশজন মনীষী স্মরণ করেছি, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় চাঁদ রাত নামক অনুষ্ঠান ছাড়াও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পুজা উৎসব, বৌদ্ধদের বৌদ্ধ পূর্ণিমা, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বড়দিন করেছি। এছাড়াও সরকারের ১৮০ দিনের কর্ম পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সৃজনশীল অর্থনীতির আওতায় শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে ও নাট্যকলার ব্যবস্থাপনায় জেলায় জেলায় নাট্যোৎসব করছি। বিভিন্ন জাতীয় দিবসের অংশ হিসেবে আমরা একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস ও বাঙালির সর্বজনীন উৎসব পয়লা বৈশাখ উৎসবের আয়োজন করেছি। 

আমাকে কাজের অবারিত সুযোগ করে দেওয়ার শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে সরকারের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের সংগীতকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার লক্ষ্যে আমরা বিশ্বসংগীত দিবসে দুদিনের উৎসব করেছি।

আমাদের নাট্যোৎসব ও সংগীত উৎসবগুলো অর্থনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকবে। সরকারের ক্রিয়েটিভ ইকোনমির অংশ হিসেবে আমরা ২৬তম এশিয়ান আর্ট বিয়েনালের আয়োজন করতে যাচ্ছি। এছাড়া প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া যাত্রাশিল্প ও সার্কাসকে পুনরুজ্জীবিত করতে আমরা কর্মশালা ও সেমিনার করেছি। বর্তমান সরকার আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছে।  এছাড়া ক্রিয়েটিভ ইকোনমির অংশ হিসেবে ‘নদীপথে সুরভ্রমণ’ শিরোনামে একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছি। যাতে থাকবে জাহাজের মধ্যে গান লেখা, সুর করা, জাহাজেই স্থাপিত স্টুডিওতে রেকর্ড করে সেগুলো অনলাইনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া। আর দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সুর ও গান সংগ্রহ করে সেগুলো আমরা ছড়িয়ে দিবো। নদীকেন্দ্রিক এই সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞে আমরা চাঁদপুর, বরিশালসহ সারাদেশেই ঘুরে বেড়াবো সুরভ্রমণ নিয়ে। এক্ষেত্রে আমরা পর্যটনকেও নিয়ে আসবো শিল্পের আওতায়।

এক্ষেত্রে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি কিভাবে কাজ করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনলাইন প্লাটফর্মে গান প্রচারের পাশাপাশি টিকেটের বিনিমযয়ে উৎসবের আয়োজন করে আমরা ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবো। এছাড়া কক্সবাজার, কুয়াকাটা, ষাট গম্বুজ মসজিদ, পাহাড়ি এলাকায় কালচারাল হাব তৈরি করে পর্যটন শিল্পের সাথে আমরা সংস্কৃতির বিকাশে পদক্ষেপ নিচ্ছি। দর্শনীয় স্থানগুলোতে যদি নাচ, গান, যাত্রাপালা, সার্কাসসহ দেশিয় সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিতে পারি তাহলে শিল্পের পাশাপাশি শিল্পীরাও স্বাবলম্বী হবে বলে মনে করি। সংস্কৃতির সাথে পর্যটনের মেলবন্ধনে আমাদের পর্যটন ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতেও আমরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবো। 

যেখানকার প্রান্তিক মানুষগুলো স্মার্ট ফোন বা ইন্টারনেটের ব্যবহারে অভ্যস্ত নয় সেসব রিমোট এরিয়া গুলোর ক্ষেত্রে কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, আমরা দেশের প্রতিটি উপজেলায় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র চালু করবো। আর সেসব কেন্দ্রে নিয়মিত উৎসবের আয়োজন করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আমরা সংস্কৃতির আওতায় নিয়ে আসবো। 

সরকার এ বছরকে নজরুল বর্ষ ঘোষণা করেছে। তো নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমি কি ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নজরুল বর্ষ উপলক্ষে নজরুল প্রতিভা অন্বেষণ এর আয়োজন করছি। নজরুলের গান, কবিতা, রচনা, সংগীত, নজরুলের উপর ছবি আঁকাসহ নানা বিষয় নিয়ে সারাদেশের প্রতিযোগিরা এতে অংশ নিবে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে শিল্পকলা একাডেমি পর্যন্ত এলাকা নিয়ে ‘সোনার বাংলা সাংস্কৃতিক বলয়’ গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েও আসাদুজ্জামান নূরসহ বিগত সরকারের তিন মন্ত্রী সেটা কার্যকর করতে পারেনি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, সব শ্রেণীর জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বিগত সরকারের স্তুতিকারক কতিপয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে সরকার সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে তুলতে সকল মত ও আদর্শের সংস্কৃতিকর্মীদের অবজ্ঞা করেছিলো বলে সেটা সম্ভব হয়নি।

হাতিরঝিলে এম্ফি থিয়েটার তৈরির বিষয়ে বিগত সরকার পদক্ষেপ নিয়েছিলো। সেটা একনেক এর বৈঠকে পাশও হয়। কিন্তু সেই প্রকল্পটি পরবর্তীতে মুখ থুবড়ে পড়ে। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়ে সেটা বাস্তবায়ন করতে না পারলে সেটার কোনো মূল্য নেই। আমি মনে করি যেটা আমি পারবো আর যেটা আমাকে দিয়ে সম্ভব সেটাই আমি হাত নিবো। সেই প্রকল্পের টাকাগুলো তারা কি করেছে সেই বিষয়টিও আমার জানা নেই। সংস্কৃতিকর্মীরা সমাজের নানা চিত্র তুলে ধরে জনতার কথা বলে, কিন্তু স্বৈরাচার আমলে কতিপয় সংস্কৃতিকর্মীরা ফ্যাসিবাদের ধামাধরা হিসেবে কাজ করে গণ মানুষের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে বালুর ট্রাক নিয়েও তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছিলো। এসব সংস্কৃতিকর্মীদের কারণে ফ্যাসিবাদ আরো বেশি মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। তাদের ব্যাপারে সরকারের কোনো পদক্ষেপ আছে কিনা, এছাড়া সবক্ষেত্রে যেমন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে ‘সংস্কৃতি কমিশন’ গঠন করার প্রয়োজন আছে বলে আপনি মনে করেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক বলেন, বিএনপি সব সময় উদার, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিশ্বাস করে বলে সবক্ষেত্রে ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে। বিএনপি তাদের ব্যাপারে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলেও জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখান করেছে। সামাজিক অস্থিরতার বিষয়ে রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, মানবিক দেশ ও সমাজ গঠন করতে হলে সংস্কৃতির শক্তিতে এগিয়ে আসতে হবে এবং সংস্কৃতির ব্যাপক প্রসার ঘটাতে হবে। সেই কারণে সরকার এখন সংস্কৃতির বিকাশ ও প্রসারেই বেশি জোর দিয়েছে। ফ্যাসিবাদের নারকীয় দুঃশাসনামলের কতিপয় ব্যক্তিরা শিল্পকলা একাডেমিতে ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের অপচেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে কি রকম ব্যবস্থা নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরকম কিছু হলেই আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও এর সত্যতা পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বিগত সরকারের আমলে বড় অংকের উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে অনৈতিক উপায়ে বেশ কয়েকজনকে নিয়োগ দিয়েছিলেন সাবেক মহাপরিচালক। তাদের বিরুদ্ধে দুদকে তদন্ত চলছে। তাদের বিরুদ্ধে কি ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, দুদক থেকে তদন্ত রিপোর্ট পেলে তাদের বিরদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিবো।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status