|
স্পেন আর পর্তুগালের জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় বিশ্বকাপ
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() স্পেন আর পর্তুগালের জমজমাট লড়াইয়ের অপেক্ষায় বিশ্বকাপ তবে, এই পর্বে যেই খেলাটা দেখার জন্য ফুটবলামোদীরা উন্মুখ হয়ে আছেন তা অনুষ্ঠিত হবে জুলাই'র ছয় তারিখ (বাংলাদেশ সময় সাতই জুলাই, রাত ১টায়) টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে। আইবেরীয় উপদ্বীপের দুই ফুটবলীয় পরাশক্তি স্পেন এবং পর্তুগালের খেলা ঐতিহাসিকভাবেই সব সময়ে উত্তেজনাপূর্ণ হয় আর বিশ্বকাপের নকআউট পর্যায়ে তা অন্যমাত্রা নিয়ে আসবে। এই দুই প্রতিবেশী দেশের এই লড়াই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয় বরং দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শন, দুই ভিন্ন কৌশল এবং দুই ভিন্ন মানসিকতার সংঘর্ষ। পর্তুগাল ভরসা করবে নিজেদের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ব্রুনো ফার্নান্দেজ এবং শক্তিশালী মধ্যমাঠের উপর। অন্যদিকে স্পেনের ভরসা হবে তরুন লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের মতো গতিশীল খেলোয়াড়েরা। শুরু থেকেই স্পেন নিজেদের স্বাভাবিক কৌশল অনুসরণ করে বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। ছোট ছোট পাস, ধৈর্য এবং নিখুঁত পজিশনিংয়ের মাধ্যমে তারা প্রতিপক্ষকে দৌড় করাতে চাইবে। অন্যদিকে পর্তুগাল অপেক্ষাকৃত সংযত শুরু করে দ্রুত পাল্টা আক্রমণের সুযোগ খুঁজবে। মাঝমাঠে বল হারালেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আক্রমণে উঠে যাওয়ার ক্ষমতা তাদের অন্যতম বড় অস্ত্র। এই ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হবে মাঝমাঠের লড়াই। যে দল মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করবে, তারাই ম্যাচের গতি নির্ধারণ করবে। স্পেন ধৈর্য ধরে আক্রমণ গড়বে, আর পর্তুগাল কম সময়ে বেশি ক্ষতি করার চেষ্টা করবে। দুই দলের এই ভিন্ন দর্শনই ম্যাচটিকে কৌশলগতভাবে অসাধারণ করে তুলবে। উইং প্লেতেও লড়াই জমে উঠার কথা। স্পেনের দ্রুতগতির উইঙ্গাররা একের পর এক আক্রমণ গড়ে তুলতে চাইবেন। অন্যদিকে পর্তুগালের ডান ও বাম প্রান্তের আক্রমণভাগ সুযোগ পেলেই প্রতিপক্ষের ফুল-ব্যাকদের পেছনের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে। ফলে পুরো ম্যাচজুড়েই দুই প্রান্তে গতির ঝড় দেখা যেতে পারে। স্পেনের ভরসা কার ওপর ইয়ামালের উপর ভরসা করলেও স্পেনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হতে পারে মিকেল ওয়াইরজাবাল। বাস্ক প্রদেশের এই স্ট্রাইকার দ্বিতীয় রাউন্ডে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল দিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন। এর আগে গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষেও তিনি জোড়া গোল দিয়েছিলেন। গ্রুপ পর্যায়ের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল শূন্য ড্র করলেও এর পর থেকে স্পেন উত্তরোত্তর উন্নতি করছে। নিয়মিত গোল পাওয়া ছাড়াও দারুন রক্ষণ করে যাচ্ছে। যার প্রমাণ হচ্ছে টুর্নামেন্টে এখনো পর্যন্ত একমাত্র দল হিসেবে স্পেন এখনো গোল খায়নি। স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন সবচেয়ে বেশী সময় গোল না খাবার রেকর্ডও ভেঙ্গে দিয়েছেন। রোনালদোর শেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে? পর্তুগাল এতোটা আত্মবিশ্বাসের সাথে এগোতে পারছে না। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের দুইটিতেই ড্র করে গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দল হিসেবে পরের রাউন্ডে উন্নীত হয় দলটি। সেই ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে হাড্ডহাড্ডি লড়াই হয়। ইনজুরি টাইমে গনসালো রামোস পর্তুগালের পক্ষে গোল দিলে এবং এরপর ক্রোয়েশিয়ার একটি গোল চুল পরিমাণ অফসাইডের কারনে ভারে বাতিল হলে খেলাটি জিতে যায় পর্তুগাল। তবে, অবস্থা যাই হোক দুইদল মুখোমুখি হলে তা অন্য আবহ তৈরী করে। গত বছর ন্যাশনস কাপের ফাইনালে এই দুইদলের খেলা টাইব্রেকারে গড়িয়েছিলো এবং শেষতক স্পেন জিতেছিল। এর আগে, ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে এই দুইদলের গ্রুপ পর্বের খেলা ৩-৩ গোলে শেষ হয় এবং সেদিন হ্যাট্রিক করেন পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সব ছাপিয়ে এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারেন এই মহাতারকা। নিশ্চিতভাবেই পর্তুগিজ এই মহাতারকার শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে এই আসর। রোনালদোর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসি প্রতি ম্যাচেই নিজেকে ছাপিয়ে যাচ্ছেন। জিতেছেন গত বিশ্বকাপও। ফলে,এই খেলায় জেতার মাধ্যমে নিজের বিশ্বকাপ স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে উদ্গ্রীব থাকবেন রোনালদো। উদগ্রীব থাকবে যুক্তরাষ্ট্র দিনের অপর খেলায় নিজেদের স্বপ্নযাত্রা অব্যহত রাখার ব্যাপারে একই রকম উদগ্রীব থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষত অপর দুই স্বাগতিক কানাডা ও মেক্সিকোর বিদায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের উপর চাপটাও থাকবে বেশী। সিয়াটলে বাংলাদেশ সময় ভোর ছয়টায় তারা মুখোমুখি হবে বেলজিয়ামের। ম্যাচের আগেই সবচেয়ে বেশী আলোচনা হছে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের ফেরা নিয়ে।বসনিয়ার বিপক্ষে পাওয়া লাল কার্ডের কারণে ফোলারিন বালোগানের এই ম্যাচে খেলার কথা ছিল না, কিন্তু ফিফা তার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে দিয়েছে, ফলে তিনি খেলতে পারবেন। এই টুর্নামেন্টে তিনি এখন পর্যন্ত তিন গোল করেছেন এবং সের্হিনিয়ো দেস্ত, মালিক টিলম্যান, ওয়েস্টন ম্যাককেনি ও ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচকে আরও কার্যকর করে তুলেছেন। কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো তার পুরো আক্রমণাত্মক কৌশলটাই বালোগানকে কেন্দ্র করে সাজিয়েছেন, তাই তার ফেরাকে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। পচেত্তিনোর পরিকল্পনা হবে হাই লাইনে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে চাপে রাখা এবং পুলিসিচ ও উইং খেলোয়াড়দের মাধ্যমে দ্রুত আক্রমণে ওঠা। অ্যাডামস-টিলম্যানের মিডফিল্ড জুটি গভীরে বসে খেলার বদলে বল পুনরুদ্ধার ও দ্রুত পুনর্বিতরণে দক্ষ, রক্ষণে দোকু ও ত্রোসাকে সামলানো হবে আন্তোনি রবিনসন ও আলেক্স ফ্রিম্যানের জন্য বড় পরীক্ষা। বেলজিয়ামের শক্তি অভিজ্ঞতায় বেলজিয়ামের শক্তি দলটির অভিজ্ঞতায়। এক সময় ফিফা র্যাঙ্কিং এ শীর্ষস্থানে থাকা দলটিতে আছেন একগাদা অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। ডি ব্রুইনার মাধ্যমে হাফ-স্পেসে সময় নিয়ে খেলে, দো কোতলার অথবা অভিজ্ঞ লুকাকুকে লাইনের মাঝে খুঁজে বের করে এবং ডকুকে ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে ছেড়ে দেওয়ার কৌশলে সবচেয়ে কার্যকর। গ্রুপ পর্যায়ে দুইটি ড্র করা বেলজিয়াম নিজেদের এখনো তেমনভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। দ্বিতীয় রাউন্ডেও সেনেগালাএর বিরুদ্ধে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে দলটির বিদায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিলো। কিন্তু, সেখান থেকেই দারুনভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ইউরোপের দলটি। নির্ধারিত সময়ে দুই গোল দেয়া বেলজিয়াম অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে এক গোল দিয়ে কেবল ম্যাচই জেতেনি, পরের রাউন্ডের জন্য দারুন মানসিক শক্তিও অর্জন করেছে। এর আগের রাতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজি অবশ্য সেই মানসিকতা দেখাতে পারেনি। টানা জয়বার দলটি ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নক্আউট পর্ব থেকে বিদায় নিলো। ব্রাজিল শুধু হতশ্রীই খেলেনি, সুযোগের অপচয়ও করেছে যার মাশুল অবধারিত। খেলার শুরুর দিকেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ব্রাজিলের মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারেস। তার দুর্বল শট ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরান নাইল্যান্ড। এই গোলরক্ষক ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রাচীর হয়ে দাড়ান। তবে, ব্রাজিল খুব বেশী সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি। ম্যাচের বেশীরভাগ পজেশন ছিলো নরওয়ে। কিন্তু, ম্যাচের সহজতম সুযোগটা মিস করেন ব্রাজিলের এন্ড্রিক। সাবস্টিটিউট হিসেবে নামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের দারুন এক পাসে গোলকিপারকে একা পেয়েও তার গায়ে বল মারেন এই তরুন স্ট্রাইকার। এর খেসারত দিতে হয় ব্রাজিলকে। ম্যাচের বেশীরভাগ সময় নিস্প্রভ থাকলেও বর্তমান দুনিয়ার অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড নিজের জাত চেনান লাফ দিয়ে দারুন এক হেডে দুর্দান্ত গোল করে। ম্যাচের নব্বই মিনিটে ম্যানচেষ্টার সিটির এই তারকা বক্সের বাইরে থেকে দারুন এক শটে দ্বিতীয় গোল দেন। ইনজুরী সময়ে ব্রাজিল পেনাল্টি থেকে একটি গোল দিলেও তা যথেষ্ঠ ছিলো না। অবশ্য আরেক সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড দেখিয়েছে কেন দলটিকে এই টুর্নামেন্টের অন্যতম দাবীদার বলা হচ্ছে। ম্যাচের শেষ ৩৬ মিনিটের বেশি সময় ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলে সহ-আয়োজক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। সূত্র: বিবিসি নিউজ বাংলা |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
আলফাডাঙ্গায় চাঞ্চল্যকর সুমন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কবির শেখ নারায়নগঞ্জ থেক গ্রেপ্তার
যে কারণে ব্রাজিল কখনো নরওয়েকে হারাতে পারেনি
অবহেলিত মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত পাইকগাছার কাটীপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভবনের অভাবে বারান্দা ও টিনের ছাউনিতে চলছে ক্লাস
ভ্যানের সিটের নিচে ১৪ কেজি ভারতীয় গাঁজা, আটক ২
