ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ১৭ জুন ২০২৬ ৩ আষাঢ় ১৪৩৩
এক বছরে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা
ব্যাংকে সমস্যাগ্রস্ত ঋণ বেড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Wednesday, 17 June, 2026, 11:40 AM

ব্যাংকে সমস্যাগ্রস্ত ঋণ বেড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা

ব্যাংকে সমস্যাগ্রস্ত ঋণ বেড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা

ব্যাংক খাতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ আরও বেড়েছে। মূলধন ঘাটতি নেমেছে ঋণাত্মক ধারায়। গত বছর রেকর্ড এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিলের পরও বেশির ভাগ সূচকের অবনতি হয়েছে। বছর শেষে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এক বছরে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। 

বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত বার্ষিক আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন-২০২৫ থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংক খাতের আদায় অনিশ্চিত উচ্চ ঝুঁকির ঋণকে দুর্দশাগ্রস্ত তথা ডিসট্রেস অ্যাসেট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বলতে ব্যাংক খাতের দেখানো মোট খেলাপি ঋণ, পুনঃতপশিল করা ঋণের অনাদায়ী অংশ এবং অবলোপন করে আলাদা করে রাখা অনাদায়ী ঋণ স্থিতির যোগফলকে বোঝানো হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান ৫৫০ কোটি ডলার ঋণের শর্ত মেনে ২০২১ সালের তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

প্রতিবছর এ ধরনের ঋণ বাড়ছে। এর আগে ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে বেড়েছিল ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা।

মূলত এসব ঋণ অনাদায়ী। তবে নানা উপায়ে নিয়মিত দেখানো হতো। কিছু ঋণ অবলোপনের মাধ্যমে ব্যালান্স শিট বা আর্থিক হিসাব বিবরণী থেকে আলাদা রাখা হয়। এ ধরনের ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা খুব কম। যে কারণে এসব ঋণকে দুর্দশাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ ধরনের ঋণ বৃদ্ধির ফলে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক মূলধন ঘাটতি ঋণাত্মক চলে গেছে। ব্যাংকগুলোর মোট ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের যেখানে সাড়ে ১২ শতাংশ ধনাত্মক রাখার কথা, সেখানে উল্টো ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ ঋণাত্মক রয়েছে। আগের বছর শেষেও প্রয়োজনের তুলনায় মূলধন অনেক কম ছিল। তবে তা ছিল ইতিবাচক ৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। মূলত ২০টি ব্যাংকের ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির প্রভাবে পুরো খাত এ পরিস্থিতিতে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকায়। এর মধ্যে খেলাপি হিসেবে দেখানো হয় ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। পুনঃতপশিলের পর অনাদায়ী রয়েছে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। আর অবলোপন করা অনাদায়ী স্থিতি রয়েছে ৮৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। এক বছর আগে মোট ঋণ স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ১১ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে পুনঃতপশিল করা অনাদায়ী ঋণ তিন লাখ ৪৮ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত ছিল তিন লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। এ ছাড়া অবলোপন করে অনাদায়ী ঋণ স্থিতি বেড়ে ২০২৪ সাল শেষে ৬২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের যা ছিল ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা বা ৪৪ দশমিক ২১ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্দশাগ্রস্ত এসব ঋণের বড় অংশই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সৃষ্ট। তবে ওই সময় এসব ঋণ কৌশলে নিয়মিত দেখানো হতো। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে প্রকৃত চিত্র দেখাতে শুরু করে। এদিকে অনিয়ম-জালিয়াতিতে সম্পৃক্ত প্রভাবশালী ব্যবসায়ী অনেকেই পালিয়েছেন। কেউ কেউ কারাগারে। ব্যবসায়ীদের খুশি করতে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগ থেকে একের পর এক সুবিধা দেওয়া শুরু হয়। কখনও নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতপশিল, কখনও ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় ১২ বছরের জন্য ঋণ নবায়ন কিংবা পুনর্গঠন করা হয়। তবে সেসব ঋণের বড় অংশই এখন খেলাপি হওয়ায় পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। অবশ্য অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পর গত বছর শেষদিকে বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতপশিলের সুযোগ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের রেকর্ড এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা পুনঃতপশিল করা হয়। আগের বছর মোট ৮৫ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়েছিল। ২০২৪ সালে পুনঃতপশিল করা হয়েছিল ৯১ হাজার ২২১ কোটি টাকা। তার আগের বছর পুনঃতপশিল হয় ৬৩ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। এর আগে ২০২১ সালে যেখানে মাত্র ২৬ হাজার ৮১০ কোটি টাকা পুনঃতপশিল করা হয়। আর ২০২০ সালে পুনঃতপশিলের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৯ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। অবশ্য করোনা মহামারির প্রভাবকে কেন্দ্র করে ২০২০ সালে এক টাকা পরিশোধ না করলেও নিয়মিত দেখানো হয়। ২০২১ সালে কিস্তির মাত্র ১৫ শতাংশ দিলেই নিয়মিত দেখানোর সুযোগ ছিল। যে কারণে ওই দুই বছরে পুনঃতপশিলে তেমন আগ্রহ দেখাননি ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক খাতের তারল্য পরিস্থিতির ওপর কোনো চাপ নেই। তবে মূলধন ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ ঋণাত্মক হওয়ার মূলে ইসলামী ব্যাংকিং খাত। এ খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত মারাত্মক কমে নেগেটিভ ৪৩ দশমিক ১৮ শতাংশে নেমেছে। অবশ্য একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংককে হিসাবের বাইরে রাখলে এ খাতের মূলধন পর্যাপ্ততা দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৭১ শতাংশে। ইসলামিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লিকুইডিটি কাভারেজ রেশিও, নেট স্ট্যাবল ফান্ডিং রেশিও এবং ইনভেস্টমেন্ট-ডিপোজিট রেশিও বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এ খাতের দুর্বলতা সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকির সৃষ্টি করছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status