|
অবশেষে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো নবাব ফয়জুন্নেছা জাদুঘরে প্রবেশপথের অবৈধ দেয়াল
শারমিন সুলতানা, লাকসাম
|
![]() গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী জাদুঘরের প্রবেশপথের অবৈধ দেয়াল। জানা যায়, জাতীয় ঐতিহ্যের স্মৃতিবহ কুমিল্লার লাকসাম নবাব বাড়ি। ভারতীয় উপমহাদেশের একমাত্র মহিলা নবাব ও নারী আন্দোলনের প্রথম অগ্রদূত নবাব ফয়জুন্নেছার স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক এ বাড়িটি চমৎকার একটি স্থাপত্য যা দক্ষিণ এশিয়ার সৌন্দর্যমণ্ডিত বাড়িগুলোর অন্যতম। ব্রিটিশ আমলের কারুকার্য দিয়ে নির্মিত নবাব ফয়জুন্নেছা জমিদার বাড়িটি দীর্ঘদিন অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থাকার পর অবশেষে ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর বাড়িটিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। বাড়িটি জাদুঘরের গেজেটভুক্ত হলেও বাড়ির গেটের মালিকানা দাবি করে জনৈক সৈয়দ আলী ২০২৪ সালের ৩ মার্চ একটি মামলা দায়ের করেন। ওই বছরের ৩০ অক্টোবর তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাড়িটির প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়াল নির্মাণ করেন। ওয়াকফ প্রশাসন কর্তৃপক্ষ বিষয়টির আইনি দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সাপেক্ষে নবাব ফয়জুন্নেছা জাদুঘরের বন্ধ থাকা গেটটি খুলে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে সুপারিশ করে। সৈয়দ আলীর এ সম্পর্কিত দায়েরকৃত একটি ইনজেকশন মামলা নিম্ন আদালত ইতিমধ্যে খারিজ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। জানা যায়, বেআইনিভাবে বন্ধ করা নবাব বাড়ির প্রবেশপথ খুলে দিতে লাকসাম পৌরসভার পক্ষ থেকে আইনি দিক যাচাই বাছাই সাপেক্ষে গেট খুলে দিতে সৈয়দ আলীকে চূড়ান্ত নোটিশ দিলেও তিনি তোয়াক্কা করেননি। পৌর কর্তৃপক্ষের মতে, এই অবৈধভাবে নির্মিত দেয়ালের অনুমোদন নেই। যা নির্মাণ ও নবাব বাড়ির প্রবেশ পথ বন্ধের বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিধিমালা লঙ্ঘনের শামিল। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, সৈয়দ আলীর দলিলের চৌহদ্দি নবাব বাড়ির উত্তর প্রান্তে। কিন্তু তিনি মালিকানা দাবি করেন দক্ষিণ প্রান্তে। সৈয়দ আলীর দলিল দাতা রফিকুল হক জায়গা মালিক ছিলেন ১ শতক ৯ সেন্ট। কিন্তু সৈয়দ আলী ৫ শতকের দলিল নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, দীর্ঘদিন পর বিক্ষুব্ধ জনতা নবাব ফয়জুন্নেছা জাদুঘরের অবৈধ দেয়াল গুঁড়িয়ে দেওয়ায় স্থানীয়রা বেশ খুশি। জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মোতাওয়াল্লী সৈয়দ মাসুদুল হক। ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীর পিতার বংশধর ফজলে রহমান চৌধুরী আয়াজ বলেন, গেটটি অনেক আগেই উন্মুক্ত হওয়া দরকার ছিল। বিষয়টি নিয়ে আমরা অস্বস্তিতে ছিলাম। কারণ নবাব বাড়ি আমাদের সকলের গর্বের ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহক। আইনজীবী ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, চলাচলের পথ কেউ বন্ধ করতে পারেনা। যদি সৈয়দ আলী জায়গার মালিকও হন তাও পথ বন্ধ করা বেআইনি। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
