ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬ ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
যুদ্ধ অবসানের পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কতদূর এগিয়েছে?
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Saturday, 30 May, 2026, 2:34 AM

যুদ্ধ অবসানের পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কতদূর এগিয়েছে?

যুদ্ধ অবসানের পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কতদূর এগিয়েছে?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি এবং ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ ও কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন এখনও বাকি।



এই চুক্তি হলে তা বিশ্বকে জ্বালানি সংকটের দিকে ঠেলে দেয়া যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মূল বিরোধটি আগামী কয়েক সপ্তাহের আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

 
আলোচনা কতদূর এগিয়েছে?
 

এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মূল বিষয়গুলোতে মতবিরোধ রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা, লেবাননে ইসরাইলের হিজবুল্লাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ জব্দকৃত সম্পদ মুক্তির দাবি।
 
কয়েক সপ্তাহ ধরে মূলত পরোক্ষ আলোচনার পর গত বৃহস্পতিবার সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ থামানো এবং চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ৬০ দিন সময় দেয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) সম্মত হয়েছে।তবে উভয় পক্ষ আগেও একাধিকবার বলেছে যে, ‘চুক্তি খুব কাছাকাছি’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি হয়নি।
 
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইরানের ওপর বিমান হামলা চালানো ইসরাইলের অবস্থান যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে চুক্তিতে ইসরাইলের ভূমিকা এখনো স্পষ্ট নয়।
 
সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এই চুক্তির অনুমোদন দেননি। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘আমরা এখনো সেখানে পৌঁছাইনি, তবে খুব কাছাকাছি আছি এবং আমরা কাজ চালিয়ে যাব।’
 
 
ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি আলোচনা দলের কাছাকাছি একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, চুক্তির খসড়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি বা নিশ্চিত হয়নি।
 
ইরানি সূত্রগুলো আগে বলেছে, এই কাঠামোগত চুক্তি মূলত সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক ও ইরানি জাহাজ চলাচলের জন্য ৩০ দিনের কাঠামো এবং সম্ভাব্য কিছু আর্থিক সুবিধা প্রদানের বিষয়ে।
 
এরপর আরও কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। যেমন— ইরানের অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থা, প্রণালী নিয়ে বিস্তারিত ব্যবস্থা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও নিরাপত্তাসহ প্রাথমিক চুক্তির বিভিন্ন পয়েন্টের ক্রম।
 
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সর্বশেষ চুক্তিটি ২০১৫ সালে হয়েছিল, যা ২০১৮ সালে ট্রাম্প নিজেই ছিঁড়ে ফেলেন। সেটি তৈরি করতে বড় বড় দলের প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বছরের পর বছর আলোচনা লেগেছিল।

মূল ইস্যুগুলো কী কী?
 

হরমুজ ও উপসাগরীয় অবরোধ
 

ইরান বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে।
 
প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং ইরানের সবচেয়ে বড় চাপের হাতিয়ার। তবে এটি বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে।
 
ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ ইরানের নিজস্ব রপ্তানি ও রাষ্ট্রীয় আয়ে বড় ধরনের আঘাত হানছে। এই অবরোধ প্রত্যাহার ইরানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একটি স্পর্শকাতর বিষয় হলো— মার্কিন বাহিনী কতদূর সরে যাবে।
 
পরমাণু ইস্যু
 

যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে, ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করতে চায়। ইরান এটি সবসময় অস্বীকার করে এসেছে এবং বলেছে তার পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। মূল ফোকাস ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (এনরিচমেন্ট) নিয়ে। এটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি তৈরি করে, আবার বোমার উপাদানও তৈরি করতে পারে।
 
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি 
 

যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল— ইরানকে তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এমনভাবে সীমিত করতে হবে যাতে তা ইসরায়েলে পৌঁছাতে না পারে। ইরান সবসময় বলে এসেছে, প্রচলিত অস্ত্রের ওপর তার অধিকার অপরিসীম এবং তাদের কাছে এখনো বিশাল মজুত রয়েছে।
 
নিষেধাজ্ঞা ও জব্দকৃত সম্পদ
 

বছরের পর বছর ধরে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা জানুয়ারিতে দেশব্যাপী অস্থিরতার অন্যতম কারণ। তেহরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশি ব্যাংকে জব্দকৃত শত শত কোটি ডলারের তেলের আয় মুক্তির জন্য খুবই আগ্রহী। তারা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণও চায়।
 
যুক্তরাষ্ট্র এতে বাধা দিয়ে আসছে। ট্রাম্প ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির সময় বারাক ওবামাকে জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেয়ার জন্য তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। কিছু গণমাধ্যম জানিয়েছে, সর্বশেষ খসড়া চুক্তিতে ইরানের জন্য একটি বিনিয়োগ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
 
লেবানন ইস্যু
 

ইরান বারবার বলেছে, লেবাননে হিজবুল্লাহের বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধকে যেকোনো চুক্তির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
 
গত মাসে ইসরাইল ও লেবানন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, কিন্তু উভয় পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে অভিযান আরও জোরদার করেছে। ইসরাইল কোনো মার্কিন-ইরানি চুক্তি মেনে নেবে না, যা লেবাননে তার সামরিক তৎপরতা সীমিত করে। 

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status