ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২৬ মে ২০২৬ ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 26 May, 2026, 3:23 PM

লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান

লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান

‘লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে মক্কার ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দান। মঙ্গলবার (২৬ মে) পবিত্র হজের সবচেয়ে পবিত্র এবং আধ্যাত্মিক দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘উকুফে আরাফাহ’ পালনে অংশ নিতে এই ময়দানে সমবেত হয়েছেন ১৬ লাখেরও বেশি হাজি। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই গভীর ভক্তি ও প্রার্থনার দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে।

জিলহজ মাসের নবম দিনে ভোর থেকেই হাজিরা দলে দলে আরাফাতের ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেন। সেখানে তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারিত সীমানার মধ্যে অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগি, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও আকুল প্রার্থনায় মগ্ন থাকবেন।


ইসলামি ঐতিহ্যে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান যা ‘ওকুফে আরাফাহ’ নামে পরিচিত, যাকে হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে গণ্য করা হয়। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছিলেন, ‘হজই হলো আরাফাহ’, যা এই সমাবেশের অপরিহার্য গুরুত্বকে প্রকাশ করে।


ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এই দিনটি ইসলামী ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে পবিত্র দিনগুলোর একটি, যা আল্লাহর রহমত, ক্ষমা এবং আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিদায় হজের স্মৃতিও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। সে সময় তিনি আরাফাত পাহাড়ে তার ঐতিহাসিক শেষ খুতবা দিয়েছিলেন; যেখানে ন্যায়বিচার, সমতা এবং জীবন ও সম্পদের পবিত্রতার নীতিগুলো তুলে ধরা হয়েছিল।

মঙ্গলবার দুপুরে হাজিদের উদ্দেশ্যে আরাফাতের খুতবা দেওয়া হবে, যেখানে ধর্মীয় দিকনির্দেশনা এবং এই দিনের ফজিলত সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে। এরপর হাজিরা মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে এবং সংক্ষিপ্ত করে আদায় করবেন। সারা দিন ধরে হাজিরা হাত তুলে প্রার্থনা করছেন, তালবিয়া ও তাকবীর পাঠ করছেন এবং অত্যন্ত বিনয় ও আত্মোপলব্ধির মধ্য দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাত মূলত একটি উন্মুক্ত প্রান্তর, যার কেন্দ্রে রয়েছে ‘জাবাল আল-রাহমাহ’ বা রহমতের পাহাড়। অনেক হাজিই সেখানে প্রার্থনা ও ধ্যানের জন্য সমবেত হন। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্থানটি আদম ও হাওয়া (আ.)-এর পুনর্মিলনের সঙ্গে জড়িত এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে এটি গভীর প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে।

এর আগে মিনায় ‘তারবিয়াহর দিন’ অতিবাহিত করে হাজিরা আরাফাতের ময়দানে আসেন। সোমবার তারা মিনায় হজের সবচেয়ে কঠিন এই ধাপের জন্য নিজেদের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করেন এবং আধ্যাত্মিক সাধনায় লিপ্ত থাকেন।

এদিকে হাজিদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। পবিত্র স্থানগুলো জুড়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, চিকিৎসা সেবা, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং জরুরি সাড়াদান ইউনিটের মতো নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছর ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা থাকায় হাই অ্যালার্টে রয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। তারা হাজিদের প্রচুর পানি পান করার এবং সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

দিন শেষে সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হতে শুরু করেছেন। সেখানে পৌঁছানোর পর তারা মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে সংক্ষেপে আদায় করবেন। এরপর প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করার আনুষ্ঠানিকতার প্রস্তুতি নিতে সেখানে ইবাদত ও বিশ্রামের মধ্য দিয়ে রাত কাটাবেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status