ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ৫ মে ২০২৬ ২২ বৈশাখ ১৪৩৩
সতর্ক অভিভাবকরাই সন্তানদের সাইবার ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখছেন: ক্যাসপারস্কির গবেষণা
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 5 May, 2026, 4:14 PM

সতর্ক অভিভাবকরাই সন্তানদের সাইবার ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখছেন: ক্যাসপারস্কির গবেষণা

সতর্ক অভিভাবকরাই সন্তানদের সাইবার ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখছেন: ক্যাসপারস্কির গবেষণা

সন্তানদের অনলাইন নিরাপত্তা রক্ষায় আত্মবিশ্বাসী অভিভাবকেরাই বেশি কার্যকর, এমন তথ্য উঠে এসেছে গ্লোবাল সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি ও সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’র এক যৌথ গবেষণায়। ডিজিটাল যুগে অনেক অভিভাবকই ‘শেয়ারেন্টিং’ বা সন্তানের ছবি ও তথ্য সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন। তবে এই অভ্যাস শিশুদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ক্যাসপারস্কি ও সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি পরিচালিত ‘স্মল শেয়ারস, বিগ রিস্ক: হাও প্যারেন্টস অ্যাসেস থ্রেটস অ্যান্ড কোপ উইথ শেয়ারিং অফ চিলড্রেন ডাটা’ নামক এই যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব অভিভাবক নিজেদের সিদ্ধান্তে আত্মবিশ্বাসী, তারা সন্তানের তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে বেশি সতর্ক থাকেন। তারা সাধারণত সংবেদনশীল তথ্য এড়িয়ে চলেন, পরিচিত মানুষের মধ্যেই শেয়ার সীমিত রাখেন এবং অপ্রয়োজনীয় শেয়ারিং কমানোর চেষ্টা করেন। এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ১৫২ জন অভিভাবকের মতামতের ভিত্তিতে এই গবেষণা পরিচালিত হয়। 

গবেষণায় ‘কপিং অ্যাপ্রেইজাল’ বা ঝুঁকি মোকাবিলার মানসিক প্রস্তুতিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব অভিভাবক নিজের সক্ষমতার ওপর আস্থা যত বেশি আস্থা রাখেন, তিনি বেশি সতর্ক থাকেন। শতকরা ৮৫% অভিভাবক সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকেন, ৮৪% অভিভাবক কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে পারেন এবং অতিরিক্ত শেয়ারিং নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

অনেকে প্রযুক্তিগত দিক থেকেও সতর্কতা নিচ্ছেন। যেমন, ৮০% অভিভাবক কনটেন্ট পুনরায় শেয়ার করার অপশন বন্ধ রাখেন এবং ৭৮% ছবির অতিরিক্ত তথ্য বা মেটাডাটা মুছে ফেলেন। যেসব অভিভাবক এসব পদক্ষেপকে কার্যকর মনে করেন, তারা নিয়মিতই এসব ব্যবস্থা অনুসরণ করেন।

গবেষনায়, অভিভাবকদের বয়স ও লিঙ্গভেদে আচরণে কিছু পার্থক্য দেখা গেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকেরা আরও সচেতন হন। একইভাবে মায়েদের মধ্যে সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।

গবেষক অক্টাভিয়ানো এ প্রসঙ্গে বলেন, অভিভাবকেরা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং ঝুঁকি বুঝতে সক্ষম হন, ফলে তারা আরও সচেতনভাবে পদক্ষেপ নেন। আর মায়েদের ক্ষেত্রে সন্তানকে সুরক্ষিত রাখার প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই বেশি, যা ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও দেখা যায়। তবে বয়স বা লিঙ্গ নির্বিশেষে সবার জন্য নিয়মিত সাইবার নিরাপত্তা শিক্ষা ও মিডিয়া সচেতনতা জরুরি বলে আমি মনে করি।

গবেষণার সহ-লেখক অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর জি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে পরিবারের মুহূর্ত শেয়ার করা একদিকে যেমন সংযোগ তৈরি করে, অন্যদিকে শিশুদের অজান্তেই বিভিন্ন ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে যেমন- প্রোফাইলিং, অনাকাঙ্ক্ষিত ট্র্যাকিং বা ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার। আমরা দেখেছি, অভিভাবকেরা যখন নিজেদের সক্ষমতার ওপর আত্মবিশ্বাসী হন এবং পদক্ষেপগুলো কার্যকর বলে মনে করেন, তখন তারা সন্তানের গোপনীয়তা রক্ষায় আরও সক্রিয় হন। তাই এখনই সামাজিক মাধ্যমের প্রাইভেসি সেটিংস দেখে নেওয়া এবং পরিবারের মধ্যে কী শেয়ার করা উচিত, আর কী নয় এ নিয়ে আলোচনা করা জরুরি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status