|
মানিকগঞ্জের ঘিওরে তিন ফসলি জমির টপ সয়েল গিলে খাচ্ছে স্টোন ব্রিকস
বাবুল আহমেদ মানিকগঞ্জ
|
![]() মানিকগঞ্জের ঘিওরে তিন ফসলি জমির টপ সয়েল গিলে খাচ্ছে স্টোন ব্রিকস জানাগেছে, পরিবেশবান্ধব ইট প্রস্তুতের প্রতিশ্রুতিতে ১০১৫ সালে ঘিওর উপজেলার ঢাকা আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন পুখুরিয়া এলাকায় কৃষি জমি বিনষ্ট করে স্থাপন করা হয় স্টোন ব্রিকস লিমিটেড। বছরখানেক পর অর্থাৎ ২০১৬ সালে দৈনিক তিন লাখ ইট প্রস্তুতের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করা হয়। এই হিসাবে প্রতিবছর ৯ কোটি ইট তৈরি করা হয় স্টোন ব্রিকসে। যার প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কৃষি জমির উর্বর মাটি বা টপ সয়েল। স্টোন ব্রিকসের চাহিদা মাফিক একাধিক ভূমিদস্যুচক্র মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক দিয়ে রাত দিন মহাসড়ক ব্যবহার করে মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে দিন দিন ঘিওর ও শিবালয় উপজেলার কৃষি জমি বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক । সরজমিন খোঁজ দিয়ে দেখা যায়, ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোরা ইউনিয়নের পুখুরিয়া চকে মহাসড়কের দুপাশে, বানিয়াজুরী ইউনিয়নের যুব ভবনের পিছনে জোকার চকে, বৈন্যা প্রসাদ ও ছোট বৈন্যা চকের তিন ফসলি জমির টপ সয়েল এক্সকেভেটর (ভেকু) দিয়ে কেটে নেওয়া হয়েছে। ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের বাষ্টিয়া গ্রামের কৃষক খেরু মিয়া জানান, আমাদের চকে এক সময় মরিচ ও করলার ব্যাপক উৎপাদন হতো। তরতাজা এসব শাকসবজি ট্রাক দিয়ে ঢাকার কাওরান বাজার সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হতো। স্টোন ব্রিকস চালু হওয়ার পর বহু জমি পুকুরে পরিণত হয়েছে। কৃষি উৎপাদন কমে গেছে। এখন সামান্য চাষ করি। শুনেছি বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে অনেক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আমাদের দাবি সরকার যেন কৃষিজমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়। একই গ্রামের কৃষক কৃষাণিরা বলেন, জনগণের বাধা উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুকুরিয়া চকের কৃষি জমির উপর মাটি ফেলে স্টোন ব্রিকস নামক কারখানা তৈরি করা হয়। এর পর থেকে কৃষি জমির মাটিকাটা শুরু হয়েছে। এখনো চলছে। জোকার গ্রামের এক যুবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগে আওয়ামী লীগের এমপি ও দলীয় ক্যাডাররা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা স্টোন ব্রিকস থেকে অনৈতিক সুবিধা নিতো। বর্তমানেও মাটি খেকো হিসেবে পরিচিত তাদের দোসরা নেপথ্যে থেকে মাটি সরবরাহ করছে। স্টোন ব্রিকস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মীর রজ্জব আলী দিনকালকে বলেন, তিনটি ইউনিটের মধ্যে একটি বন্ধ রয়েছে। দুটি ইউনিটে তিন শিফটে কাজ করেও দৈনিক মাত্র ৪০ থেকে ৫০ হাজার ইট উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। চলতি বছর মাটি সরবরাহার জন্য চারজনকে লিখিতভাবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তারা কারখানার চাহিদা অনুযায়ী মাটি সরবরাহ করতে পারছেনা। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই ফ্যাক্টরি শাটডাউন করতে বাধ্য হবো। বরংগাইল হাইওয়ে থানার ওসি হারুন অর রশিদ দৈনিক নতুন সময়কে বলেন, মহাসড়কে অতিরিক্ত মাল বোঝাই ১০ চাকার ড্রামট্রাক চলাচল নিষেধ। এই সকল যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হচ্ছে। তবুও বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এবিষয়ে ঘিওর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো.তানভীর ইসলাম বলেন, কৃষি জমির উর্বর মাটি রক্ষায় সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। তবে জনগণের সহযোগিতা ছাড়া ভূমি খেকোদের এই অপতৎপরতা বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য তিনি সকল স্তরের জনগণকে সহায়তা করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের বৈন্যা প্রসাদ এলাকায় দুটি এবং স্টোন ব্রিকস সংলগ্ন পুখুরিয়ার চকে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসময় ঘটনা স্থলে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়ে কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে এক্সভেটর দিয়ে কেটে নেওয়ার জন্য অভিযুক্তকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
