|
চট্টগ্রামের মেয়র পদ জল্পনা: চিন্তা করিনি বলছেন মনজুর, এনসিপির দাবি রাজি
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() চট্টগ্রামের মেয়র পদ জল্পনা: চিন্তা করিনি বলছেন মনজুর, এনসিপির দাবি রাজি বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে, দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে দূরে থাকা মনজুর আলম আবারও সক্রিয় হতে পারেন। এমনকি তিনি এনসিপির প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে লড়তে পারেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে নিজ অবস্থান স্পষ্ট করে মনজুর আলম বলেছেন, তিনি এখনো কোনো নির্বাচনের বিষয়ে ভাবেননি। গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “আমি কেন নির্বাচন করব? কে আমাকে নির্বাচন করাবে? আমি মূলত সমাজসেবামূলক কাজ করি। মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে আমার কাছে আসে—কেউ দেখা করতে, কেউ পরামর্শ নিতে, কেউ বা কুশল বিনিময় করতে।” তিনি আরও জানান, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এবং তার আগে-পরে তিনি বহু সামাজিক ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। “আমি প্রায় ১২০টি প্রতিষ্ঠান করেছি—স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা। এগুলোই আমার কাজের মূল ক্ষেত্র,” বলেন তিনি। তবে এনসিপির পক্ষ থেকে ভিন্ন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দলটির চট্টগ্রাম মহানগরীর যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন দাবি করেছেন, মনজুর আলম মেয়র পদে প্রার্থী হতে ‘রাজি’ আছেন। তিনি বলেন, “উনি সরাসরি দলের রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছেন না, তবে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক। ১১ দলীয় জোট থেকেও তাকে প্রার্থী করা হতে পারে। এ নিয়ে আলোচনা চলছে।” আরিফ মঈনুদ্দিন আরও জানান, এনসিপির ভেতরে এ বিষয়ে এখনো মতভিন্নতা রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মনজুর আলম প্রার্থী হলে দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে থাকা নেতারা আড়ালে পড়ে যেতে পারেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মনজুর আলমের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় এবং জনপ্রিয়তা তাকে এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে রেখেছে। তিনি ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন এবং পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। তবে ২০১৫ সালের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন এবং রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। মনজুর আলম নিজেও তার রাজনৈতিক অতীত নিয়ে বলতে গিয়ে জানান, তিনি কখনোই দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। “মেয়র হওয়ার পর আমাকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া উপদেষ্টা করেছিলেন। তবে আমি খুব বেশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলাম না,” বলেন তিনি। এর আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। তিনি একসময় উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ছিলেন এবং সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরে ২০১০ সালে সেই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধেই বিএনপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেন। রাজনীতির এই বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে নিজেকে মূলত একজন সমাজসেবী হিসেবেই তুলে ধরছেন মনজুর আলম। তিনি বলেন, “মানুষ আমাকে সামাজিক কাজের জন্য চেনে। সেই কাজই করে যাচ্ছি।” তবে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা তাকে আবার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে এনসিপির ইফতার অনুষ্ঠানে তার ছবি সংবলিত সামগ্রী বিতরণ এবং হাসনাত আব্দুল্লাহর তার বাসায় যাওয়া—এসব বিষয় নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। উল্লেখ্য, মনজুর আলম পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং মোস্তফা হাকিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের সম্ভাব্য মেয়র নির্বাচনকে ঘিরে মনজুর আলমকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। যদিও তিনি নিজে এখনো ‘চিন্তা করেননি’ বলে দাবি করছেন, তবুও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আগ্রহ ও আলোচনার কারণে তার নাম ঘিরে জল্পনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: বিডিনিউজ২৪ |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
জ্বালানি সংকটে জাবিতে এক ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত
পাইকগাছা-কপিলমুনি বাজারের ফুটপাত দখল করে ব্যাবসা: চরম ভোগান্তিতে ক্রেতা বিক্রেতা
তেঁতুলিয়ায় সাংবাদিকদের ভিডিও করতে বাঁধা, ডিসির মতবিনিময় সভা বয়কট করলেন সাংবাদিকরা।
কচ্ছপিয়া থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ট্রলারডুবি: ৪ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু, এলাকায় শোকের ছায়া
