ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১৫ মে ২০২৬ ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বিশ্বের নজর এখন ‘ইসলামাবাদ টক্‌স’-এ
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Saturday, 11 April, 2026, 10:57 AM

বিশ্বের নজর এখন ‘ইসলামাবাদ টক্‌স’-এ

বিশ্বের নজর এখন ‘ইসলামাবাদ টক্‌স’-এ

বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল কূটনৈতিক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে, যাকে নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইসলামাবাদ টক্‌স’। মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা প্রশমনে এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তান এই বিশেষ আলোচনার আয়োজন করেছে। সংঘাতের দুই পক্ষকে এক টেবিলে বসানোর এই বিরল ক্ষমতা দেখিয়ে পাকিস্তান এখন বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।

‘ইসলামাবাদ টক্‌স’-কে কেন্দ্র করে বর্তমানে পাকিস্তানের রাজধানী এক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে ঢাকা। এটি কোনো সাধারণ সামিট নয়, বরং অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি আলোচনা। কোনো ধরণের রাজনৈতিক বা বাহ্যিক বিঘ্ন যাতে এই শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে না পারে, সেজন্য শহরজুড়ে ‘লকডাউন’ পরিস্থিতি বজায় রাখা হয়েছে।

শান্তি প্রক্রিয়ায় চার প্রধান চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা

১. অনিশ্চিত লক্ষ্য ও কঠোর গোপনীয়তা: ‘ইসলামাবাদ টক্‌স’-এর মূল লক্ষ্য হলো পর্দার আড়ালের অনির্দিষ্ট আলোচনাগুলোকে একটি টেকসই এবং স্থায়ী চুক্তিতে রূপান্তর করা। বৈঠকের সময়সূচী বা ধাপগুলো পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে, যা এই আলোচনার গভীরতাকে নির্দেশ করে।

২. ইসরাইলি বাধার হুমকি: এই আলোচনা এমন এক সময়ে শুরু হচ্ছে যখন যুদ্ধবিরতি চরম হুমকির মুখে। অভিযোগ উঠেছে যে, ইসরাইল এই শান্তি প্রক্রিয়া নস্যাৎ করতে বারবার বাধা সৃষ্টি করছে। লেবাননে সাম্প্রতিক ভয়াবহ হামলা এবং ইরানের তেল সমৃদ্ধ খারিগ দ্বীপে আক্রমণকে এই আলোচনার পথে বড় ‘স্পয়লার’ বা বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৩. পাকিস্তানের সক্রিয় ভূমিকা: এই বৈঠকে পাকিস্তান কেবল আয়োজক নয়, বরং আলোচনার বিষয়বস্তু এবং ফর্মুলা তৈরিতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। গত প্রায় ১২ দিন ধরে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব দুই পক্ষের মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে কাজ করছেন। এই উদ্যোগে সৌদি আরব এবং চীনকেও নিবিড়ভাবে যুক্ত রাখা হয়েছে।

৪. স্থায়ী সমাধানের লড়াই: সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সম্প্রতি ফাঁস হওয়া তথ্যমতে, ইসরাইল দীর্ঘকাল ধরেই ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা করে আসছে। ফলে ‘ইসলামাবাদ টক্‌স’ এখন মূলত ইসরাইলি যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং পাকিস্তানের গঠনমূলক কূটনীতির মধ্যকার এক অসম লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

এক সময়ের কোণঠাসা কূটনীতি কাটিয়ে পাকিস্তান এখন বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার হোস্ট। যদি ‘ইসলামাবাদ টক্‌স’ থেকে একটি স্থায়ী সমাধানের পথ বেরিয়ে আসে, তবে তা হবে পাকিস্তানের কৌশলগত সক্ষমতার এক বিশাল বড় বিজয়। পুরো বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইসলামাবাদের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের দিকে—সেখান থেকে শান্তির বার্তা আসে নাকি সংঘাত আরও ঘনীভূত হয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: জিও নিউজ

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status