|
ইয়ামালকে সমর্থন দিয়ে একসঙ্গে লড়াইয়ের ঘোষণা ভিনিসিয়ুসের
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() ইয়ামালকে সমর্থন দিয়ে একসঙ্গে লড়াইয়ের ঘোষণা ভিনিসিয়ুসের তার সেই সাহসী অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়ে ভিনিসিউস ঘোষণা করেছেন, ফুটবলের ময়দান থেকে এ ধরনের ঘৃণা মুছে ফেলতে তারা একসঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাবেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হওয়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ভিনিসিউস এসব কথা বলেন। ঘটনার সূত্রপাত হয় স্পেনের এস্পানিওলের মাঠে আয়োজিত স্পেন বনাম মিসরের ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে। ম্যাচ চলাকালীন স্প্যানিশ সমর্থকদের একটি অংশ প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের লক্ষ্য করে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক স্লোগান তোলে। ইয়ামাল এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন যে, ফুটবলের মাঠে ধর্মকে কৌতুক হিসেবে ব্যবহার করা অজ্ঞতা ও বর্ণবাদের পরিচয়। তিনি নিজেকে একজন গর্বিত মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, গ্যালারিতে ‘যে লাফাবে না, সে-ই মুসলিম’—এমন স্লোগান শোনা তার কাছে অত্যন্ত অসম্মানজনক ও অসহনীয় মনে হয়েছে। ইয়ামালের এই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে সমর্থন জানিয়ে ভিনিসিউস বলেন যে, ইয়ামালের মতো তরুণ তারকারা যখন মুখ খোলেন, তখন তা বিশ্বের অন্য প্রান্তের সাধারণ মানুষের মনেও সাহস জোগায়। ভিনিসিউস জুনিয়র নিজেও ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বারবার বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হয়েছেন। লা লিগা থেকে শুরু করে চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চেও তাকে লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে। লিসবনে বেনফিকার বিপক্ষে ম্যাচেও তাকে ‘বানর’ বলে ডাকার অভিযোগ উঠেছিল, যার প্রেক্ষিতে উয়েফা অভিযুক্ত খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধও করেছিল। সংবাদ সম্মেলনে ভিনিসিউস আক্ষেপের সঙ্গে জানান যে, প্রতিনিয়ত ঘটে চলা এসব ঘটনা নিয়ে কথা বলাটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তিনি মনে করেন যে, তাদের মতো খ্যাতিমান ও সামর্থ্যবান খেলোয়াড়দের চেয়েও সেইসব কৃষ্ণাঙ্গ ও সাধারণ মানুষের সংগ্রাম অনেক বেশি কঠিন, যারা প্রতিদিন সমাজের নানা স্তরে এমন বৈষম্যের শিকার হন। তাই সব খেলোয়াড়কে এক হয়ে এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার আহ্বান জানান তিনি। ভবিষ্যতে যেন কোনো ফুটবলার বা সাধারণ মানুষকে বর্ণবাদ ও ধর্মীয় বিদ্বেষের মুখে পড়তে না হয়, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, স্পেন, জার্মানি বা পর্তুগাল সরাসরি বর্ণবাদী দেশ না হলেও এসব দেশে বর্ণবাদী মানুষের অস্তিত্ব রয়েছে, যেমনটা ব্রাজিলসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও দেখা যায়। তাই দেশ বা ক্লাবের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক এই সমস্যার সমাধানে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মাঠের লড়াই চিরন্তন হলেও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ভিনিসিউস ও ইয়ামালের এই সংহতি ফুটবল বিশ্বে এক নতুন ও ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
