|
ফেব্রুয়ারি আসছে মাসরুর আরেফিনের পঞ্চম উপন্যাস ‘ককপিট’
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ফেব্রুয়ারি আসছে মাসরুর আরেফিনের পঞ্চম উপন্যাস ‘ককপিট’ উপন্যাসের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে এক নাটকীয় ও বিপর্যস্ত মুহূর্তকে কেন্দ্র করে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ এক প্রতাপশালী সহযোগী ৫ আগস্ট একটি বিমানে ঢাকায় ফেরার পথে পড়েন এমন এক পরিস্থিতিতে, যখন একই দিনে হাসিনাসহ তাঁর দলের শীর্ষ নেতারা দেশ ছাড়তে ব্যস্ত। ৩০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড্ডয়নরত বিমানে কীভাবে সরকার পতনের খবর পৌঁছে যায় এই রহস্যের মধ্য দিয়েই গল্পের সূচনা। ইকোনমি ক্লাসের যাত্রীদের ক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। তারা ওই ক্ষমতাবান ব্যক্তির ওপর চড়াও হলে ক্যাপ্টেন তাকে আশ্রয় দেন বিমানের ককপিটে। নিচে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ঢাকা, চারপাশে অস্থিরতা আর আকাশে মৃত্যুভয় এই চরম সংকটময় মুহূর্তে শুরু হয় স্বৈরাচারী শাসনের এক প্রত্যক্ষ সহযোগীর অন্তর্জগতের নির্মম উন্মোচন। উপন্যাসে উঠে আসে ক্ষমতা, দায়, সহিংসতা ও নৈতিকতার জটিল প্রশ্ন। ককপিটে আটকে পড়া চরিত্রটি যাত্রীদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলে ওঠে মনে করবেন না, আপনারা ইনোসেন্ট। রক্ত সবারই হাতে আছে। একই সঙ্গে আকাশপথে ভেসে আসে রহস্যময় বার্তা ‘Ghazi’ নামের একটি লং-রেঞ্জ সাবসনিক ক্রুজ মিসাইল তার পথ হারিয়েছে যা কাহিনিতে যুক্ত করে বৈশ্বিক সামরিক উত্তেজনার মাত্রা। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন পাইলট ৭৫০০ কোড সক্রিয় করেন যা আন্তর্জাতিকভাবে সুপার ইমার্জেন্সি এসওএস সংকেত হিসেবে পরিচিত। একদিকে যাত্রীদের ককপিট ভাঙার চেষ্টা, অন্যদিকে ল্যান্ডিংয়ের পর সশস্ত্র হস্তক্ষেপের আশঙ্কা সব মিলিয়ে উপন্যাসটি এগিয়ে যায় টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে। নিশ্চিত মৃত্যু কিংবা কারাবাসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ক্ষমতাচ্যুত সেই মানুষটি শেষ পর্যন্ত নিজের জীবন, অপরাধবোধ এবং ক্ষমতার ভঙ্গুরতার হিসাব কষতে থাকে। উপন্যাসের প্রতীকী ও দার্শনিক গভীরতা পাঠককে নিয়ে যায় এক ভয়াবহ অথচ আত্মসমালোচনামূলক যাত্রায়।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
