|
গ্রিনল্যান্ড দখলে যা করতে পারেন ট্রাম্প
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() গ্রিনল্যান্ড দখলে যা করতে পারেন ট্রাম্প আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তাঁর দেশ থেকে অপহরণ করার পর ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে তাঁর আকাঙ্ক্ষার কথা জোরের সঙ্গে বলে যাচ্ছেন। হোয়াইট হাউসে বিভিন্ন তেল ও গ্যাস কোম্পানির নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড আমরা না নিলে রাশিয়া ও চীন সেটি দখলে নিতে পারে। আমরা রাশিয়া ও চীনকে আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চাই না। আমি একটি চুক্তি করতে চাই। আপনারা জানেন, সেটাই সহজ পথ। সহজ উপায়ে না হলে আমরা শক্ত হাতে সেটা করতে চাই।’ কীভাবে তিনি গ্রিনল্যান্ড দখল করতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রিনল্যান্ডবাসীকে অর্থ দেওয়ার কথা ভাবছেন কি গ্রিনল্যান্ডের জনসংখ্যা প্রায় ৫৬ হাজার। বিকল্প হিসেবে তাদের প্রত্যেককে অর্থ দেওয়া নিয়ে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন বলে জানা গেছে। আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ। এর প্রায় ৮০ শতাংশ হিমবাহে আচ্ছাদিত। যুক্তরাষ্ট্র সরকার যদি গ্রিনল্যান্ডের প্রত্যেককে এক লাখ ডলার দেয়, তবে গণভোটের জন্য ৫৬০ কোটি ডলার খরচ হবে। যুক্তরাষ্ট্র কি গ্রিনল্যান্ড ‘কিনতে’ পারবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট গত বুধবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ডেনমার্কের এ অঞ্চল কেনার সম্ভাব্য প্রস্তাব নিয়ে ‘সক্রিয়ভাবে’ আলোচনা করছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সোমবার জানান, গ্রিনল্যান্ডে হামলার পরিবর্তে এটি কিনে নেওয়াকেই অগ্রাধিকার দেবেন ট্রাম্প। আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কের নেতাদের সঙ্গে রুবিওর বৈঠক করার কথা রয়েছে। আগেও গ্রিনল্যান্ড কেনার চেষ্টা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও একাধিকবার গ্রিনল্যান্ড কিনতে চেয়েছিল। ১৮৬৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম সিওয়ার্ড আলাস্কা কেনার সময় গ্রিনল্যান্ড কেনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ১৮৬৮ সালের মধ্যে তিনি ৫৫ লাখ ডলার মূল্যের স্বর্ণের বিনিময়ে গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ড কিনতে চেয়েছিলেন বলে জানা যায়। এরপর ১৯১০ সালে ত্রিপক্ষীয় ভূমি বিনিময় নিয়ে একটি আলোচনা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আবারও একটি আনুষ্ঠানিক চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের কেউই সফল হতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্র কি গ্রিনল্যান্ডে হামলা করতে পারে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হামলা ন্যাটো চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন হবে। তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহার করা একটি সম্ভাব্য বিকল্প উপায় হতে পারে। ন্যাটো সহযোগী ডেনমার্কও বলেছে, এমন কোনো হামলা হলে ন্যাটো জোটের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাবে। কেন গ্রিনল্যান্ড পেতে মরিয়া ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রধান কারণ হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করেছেন। গ্রিনল্যান্ডের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর আমেরিকা থেকে খুব সহজে ইউরোপে প্রবেশ করতে পারবে। গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যকে সংযুক্ত করা জলরাশিতে রাডার স্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে তার সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে চায়। এ জলরাশি রুশ ও চীনা জাহাজের একটি প্রবেশপথ। এ কারণে ওয়াশিংটন সেখানে নজরদারি করতে চায়। এ ছাড়া গ্রিনল্যান্ড খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। এর মধ্যে রয়েছে দুর্লভ পদার্থ। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
