ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ৭ মাঘ ১৪৩২
আপিলে টিকে গেলেন মাহমুদুর রহমান মান্না
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 11 January, 2026, 4:40 PM

আপিলে টিকে গেলেন মাহমুদুর রহমান মান্না

আপিলে টিকে গেলেন মাহমুদুর রহমান মান্না

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।

রোববার তার আপিল আবেদনের শুনানি নিয়ে এ সিদ্ধান্ত দেয় নির্বাচন কমিশন। সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ আপিল শুনানি হয়। মান্নার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সৈয়দ মামুন মাহবুব, জ্যোর্তিময় বড়ুয়াসহ কয়েকজন আইনজীবী।

শুনানি শেষে সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, “বগুড়া-২ আসনে রিটার্নিং অফিসার খুবই খেলো কারণে নাগরিক ঐক্যের সভাপতির মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল দুটি গ্রাউন্ডে- মামলার তথ্য গোপন ও সিগনেচারের তারিখে গড়মিল দেখিয়ে।

“আসলে ব্যাপার হচ্ছে—তার নামে দুটি মামলা ছিল, সেটি ফাইনাল রিপোর্ট হয়েছে কাজেই উনি অভিযুক্ত কখনোই হননি। আরেকটা হচ্ছে, এফিডেভিটে একটা সিগনেচার দুটা পাতায় দুইটা ডেটের একটা গড়মিল হয়েছে। এই ধরনের ছোটখাট মামুলি ভুল নির্বাচন কমিশনের গ্রহণ করে নিতে হয়। আপিল মঞ্জুর হয়েছে। সুতরাং এখন থেকে মাহমুদুর মান্না বগুড়া-২ আসনের একজন বৈধ প্রার্থী।”

ইতোমধ্যে ঢাকা-১৮ আসনে মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। এর ফলে ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২ আসনে লড়তে পারবেন তিনি। এর আগে গত ২ জানুয়ারি বগুড়ার রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই শেষে মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছিলেন।

মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে তিনটি বিষয়ের কথা বলেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান।

তিনি বলেছিলেন, “হলফনামার এফিডেভিটে একইদিনে আইনজীবী ও প্রার্থীর সই থাকতে হয়। কিন্তু মান্না যেদিন সই করেছেন, আইনজীবী তার একদিন আগেই সই করেছেন। মান্না যেসব মামলায় খালাস পাওয়ার কথা লিখেছেন, সেগুলোর কাগজপত্র দেননি। আর সম্পদের যে বিবরণী দিয়েছেন, তাতে ত্রুটি আছে।”

এরও আগে মান্নার নাম ঋণ খেলাপির তালিকায় থাকায় তার ভোটের পথ আটকেছিল। ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে নাম কাটানোর জন্য তিনি হাই কোর্টে আবেদন করলে তা খারিজ হয়ে যায়।

সেই আদেশের বিরুদ্ধে মান্না আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে গিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে ঋণ পুনঃতফসিল করে সিআইবির তালিকা থেকে নাম কাটানোর আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী।

এ আবেদন শুনে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক গত ২৯ ডিসেম্বর হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। সেই সঙ্গে সিআইবির তালিকায় মান্নার নামও স্থগিত করা হয়। ফলে ঋণ সংক্রান্ত জটিলতায় তার নির্বাচন করার জটিলতা কেটে যায়।

বগুড়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করার পর ইসিতে আপিল করেছিলেন মাহমুদুর রহমান মান্না। সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে আবেদন মঞ্জুর করে কমিশন।

এবার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। ‎শনিবার শুরু হওয়া আপিল শুনানি চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শনি, রোব ও সোমবারে অনুষ্ঠেয় ২১০ আপিল শুনানির রায়ের অনুলিপি মিলবে সোমবার। আপিল নিষ্পত্তি শেষে ২০ জানুয়ারি চূড়ান্ত হবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা, যাদের ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন হবে, একইদিন গণভোটও রয়েছে।

‘কূটকৌশল’ করা হয়েছিল

মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর নির্বাচন ভবনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ের উদ্দেশ্য—কাউকে বাদ দেওয়া নয়, বরং ভুলত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া।

“আইন অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকলে তাৎক্ষণিক সংশোধন কিংবা সময় দিয়ে ঠিক করার সুযোগ রয়েছে। এমনকি হলফনামায় ভুল থাকলেও সম্পূরক হলফনামা দেওয়ার বিধান আছে।”

তিনি বলেন, “আমি আগেও বগুড়া থেকে নির্বাচন করেছি; এবারও করছি। অথচ আমাকে বিরোধিতা করতে যে কূটকৌশল করা হয়েছে, তা খুবই অশুভ ইঙ্গিত বহন করে।”

মান্নার ভাষ্য, “পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠায়। না হলে মনোনয়ন বাতিলের কোনো কারণ ছিল না।”

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মান্না বলেন, “রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে আমরা যে অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছি, সেই গণতন্ত্রকে ব্যঙ্গ করার মতো ঘটনা ঘটলে দুঃখ প্রকাশ ছাড়া কিছু থাকে না।

“ক্ষমতার জন্য এ ধরনের ঘটনা কখনোই গণতন্ত্রের পথ হতে পারে না। দল বা ব্যক্তি যত বড়ই হোক, সমগ্রের কাছে সবাই ছোট। এই মানসিকতা না থাকলে গণতন্ত্র কার্যকর হবে না।”

ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে খেলাপি হওয়ার যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইসলামী ব্যাংকের বগুড়ার বড়গোলা শাখার এক কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি ভুয়া নোটিস তৈরি করা হয়েছিল।

“পরে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা শাস্তিমূলকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ ও ট্রান্সফার হন। কিন্তু এই তথ্য মিডিয়ায় আসেনি।”

প্রতিদ্বন্দ্বীদের নাম উল্লেখ না করে মান্না বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে কোমরের নিচে আঘাত করে কাউকে হারানোর চেষ্টা রাজনীতি নয়।

“ষড়যন্ত্র করে জেতা যায় না। গণতন্ত্রের লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হলে ষড়যন্ত্র টেকে না। আজকের রায় তার প্রমাণ।”

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে মান্না বলেন, “কমিশন অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রতিপক্ষকে বাদ দিয়েই বিজয় অর্জনের মানসিকতা গণতন্ত্রকে রুদ্ধ করে।

“প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আমার শঙ্কা রয়েছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত সক্রিয় বা প্রোঅ্যাকটিভ ভূমিকা রাখছে না। অনেক জায়গায় নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status