|
৬ বছর মামলা চালিয়ে সরকারকে সমঝোতার প্রস্তাব গ্রামীণফোন ও রবির
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ৬ বছর মামলা চালিয়ে সরকারকে সমঝোতার প্রস্তাব গ্রামীণফোন ও রবির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে পৃথক চিঠি দিয়ে এ প্রস্তাব দেয় গ্রামীণফোন ও রবি। চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলা, সময়ক্ষেপণ, আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে তারা সমঝোতার ভিত্তিতে সমাধান চায়। ২০১৬ সালে গ্রামীণফোন ও রবির আর্থিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিটিআরসি অডিট বা নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এতে ১৯৯৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তরঙ্গ ব্যবহারের মূল্য, লাইসেন্স ফি, কর ও ভ্যাটসহ বিভিন্ন আর্থিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। অডিট শেষে গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা দাবি করে বিটিআরসি। অডিটের দাবির বিরোধিতা করলেও গ্রামীণফোন ইতোমধ্যে ২ হাজার কোটির বেশি এবং রবি ১৩৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। তবে বাকি অর্থ পরিশোধ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ২০১৮ সালে বিটিআরসির দাবির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে পৃথক মামলা করে অপারেটর দুটি। গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, নিরীক্ষা দাবির টাকা নিয়ে ছয় বছর ধরে মামলা চলছে। দীর্ঘ সময়, প্রক্রিয়া ও কারিগরি জটিলতা বিবেচনায় আমরা সালিশি পদ্ধতিতে সমাধান চাই। সমঝোতায় যে সিদ্ধান্তই হোক, যদি তা আইনি কাঠামোর ভেতরে থাকে, তাহলে দুই পক্ষই সেটি মেনে নেবে। রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, যেভাবে অডিট করা হয়েছিল, তা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন রয়েছে। পারস্পরিক স্বার্থ বজায় রেখে আর্বিট্রেশনের মাধ্যমে যদি বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়, তবে আমরা সেটিকে স্বাগত জানাই। একসময় এই বিরোধ নিয়ে আলোচনায় যেতে অনাগ্রহী থাকলেও এখন সালিশের মাধ্যমে সমাধানের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বিটিআরসি। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, টেলিকম ইন্ডাস্ট্রির মোট রাজস্বের ৯৩-৯৪ শতাংশ আসে মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে। তাদের সঙ্গে একটি বড় আর্থিক বিরোধ রয়েছে। আর্বিট্রেশনে যাওয়ার আগে এর আইনি ভিত্তি, সুবিধা ও অসুবিধা সরকার বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে দেশে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৮ কোটি এবং রবির গ্রাহক সংখ্যা ৫ কোটি ৭৫ লাখ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বিরোধ নিষ্পত্তি হলে টেলিকম খাতে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা বাড়বে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
