ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ১২ মে ২০২৬ ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩
এসআই মিনহাজুলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
নোয়াখালীর হাতিয়া থানায় 'মামলা বাণিজ্য' ও চাঁদাবাজি
আবু আফরান মোঃ নোমান
প্রকাশ: Monday, 29 December, 2025, 5:35 PM
সর্বশেষ আপডেট: Monday, 29 December, 2025, 5:45 PM

নোয়াখালীর হাতিয়া থানায় 'মামলা বাণিজ্য' ও চাঁদাবাজি

নোয়াখালীর হাতিয়া থানায় 'মামলা বাণিজ্য' ও চাঁদাবাজি

নোয়াখালীর হাতিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মিনহাজুল আবেদীনের বিরুদ্ধে 'মামলা বাণিজ্য', গুরুতর চাঁদাবাজি এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানির মতো ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি হাতিয়া অঞ্চলে এক ধরনের ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছেন।

এসআই মিনহাজুল আবেদীনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো 'মামলা বাণিজ্য'। অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিংবা সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য দিয়ে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও দুর্বল মামলা সাজান। এসআই  মিনহাজুল দুর্বল মামলাগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তিনি নিরীহ মানুষকে আর্থিক চাপে ফেলেন। মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে পড়ার ভয়ে অনেকে দ্রুত আপস করতে বাধ্য হন।

অভিযোগ উঠেছে, যে ব্যক্তি বা পক্ষ অর্থ দিতে রাজি না হন, তাদেরকে দ্রুত চার্জশিট প্রদানের ভয় দেখানো হয়। অন্যদিকে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মামলা হালকা করা বা সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়ায় তিনি আইনের শাসনকে ব্যক্তিগত অর্থের উৎস হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, তিনি স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতার সঙ্গে আঁতাত করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জন করেন। এর মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারেও ভূমিকা রাখছেন বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, "আমার পৈত্রিক জমি নিয়ে সামান্য ঝামেলা ছিল। এসআই মিনহাজুলকে বিচারের জন্য ডেকেছিলাম। কিন্তু তিনি উল্টো প্রতিপক্ষের কাছ থেকে টাকা খেয়ে আমাকেই মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। পরে টাকা না দেওয়ায় আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।" এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে।এসআই মিনহাজুল আবেদীনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিরও বহুবিধ অভিযোগ রয়েছে।

ঘাটে অবৈধ তেল ও চাঁদা: অভিযোগ রয়েছে, তিনি হাতিয়ার বিভিন্ন নৌ-ঘাটে অবৈধভাবে তেল ওঠানামার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। শুধু তাই নয়, এই অবৈধ ব্যবসা থেকে তিনি নিয়মিত চাঁদা তোলেন। এর পাশাপাশি, ঘাটের অন্যান্য বৈধ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও তাকে নিয়মিত অর্থ দিতে হয় বলে অভিযোগ। এই কর্মকান্ড উপকূলীয় অর্থনীতির স্বচ্ছতা নষ্ট করছে।

থানায় জমি-জমা সংক্রান্ত বা পারিবারিক কলহের মতো ঘটনাগুলোর বিচার বা মধ্যস্থতার জন্য উভয় পক্ষকে ডেকে এনে তিনি মোটা অংকের 'বিচার ফি' বা ঘুষ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, বিচারপ্রার্থীসহ উভয় পক্ষকেই তিনি আর্থিক চাপে রাখেন। আইনগত সহায়তা চাইতে এসে সাধারণ মানুষকে উল্টো অর্থদন্ড দিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল এই এসআই-এর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা এবং তদন্ত দাবি করেছেন। তারা বলছেন, এই ধরনের অভিযোগ একজন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যের প্রতি মানুষের আস্থা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দেয়। স্থানীয় সুশীল সমাজ অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি কর্তৃক দ্রুত তদন্ত শেষ করে এসআই মিনহাজুল আবেদীনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এসআই মিনহাজুলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মোঃ নুরুল আনোয়ার জানান, তিনি বিষয়গুলো সম্পর্কে মাত্র অবগত হয়েছেন। তিনি আরও জানান এসআই মিনহাজুল আবেদিনকে এক মাস  আগেই মূল দায়িত্ব থেকে সরিয়ে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

এসপি আরও নিশ্চিত করেন যে, এসআই মিনহাজুলের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ও যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসব গুরুতর অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status