|
ফেনী-১ আসন বিএনপির ঘাঁটি, প্রচারণায় রয়েছে অন্যান্য দলও
হারুন অর রশিদ, পরশুরাম
|
![]() ফেনী-১ আসন বিএনপির ঘাঁটি, প্রচারণায় রয়েছে অন্যান্য দলও দীর্ঘদিন অসুস্থ ও কারাগারে থাকায় বিএনপির হাই-কমান্ডের নির্দেশনায় সমন্বয়ক হিসেবে ফেনী ১ আসনের দেখভাল করছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু। শারীরিক কারণে বেগম জিয়া নির্বাচন না করলে আসনটিতে দলীয় নেতাকর্মী ও তৃণমূলের পছন্দের তালিকায় মজনু। ২০১৮ সালে ধানের শীষে নির্বাচন ও ঢাকা দক্ষিণের পাশাপাশি এই আসনে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে জড়িত হওয়ায় দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন পরীক্ষিত এই নেতা। এছাড়া নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে প্রচারণায় রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলীয় অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলনও। তবে এখানে কোনো কমিটি নেই তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এ আসনটিতে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট কালাম আহমেদ'কে। দলীয় প্রার্থী হিসেবে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে স্থানীয়দের মন জয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (মামুনুল হক) জেলা সভাপতি মাওলানা নাজমুল আলম, খেলাফত মজলিসের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আবদুল আজিজ আহমদী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জেলা কমিটির উপদেষ্টা ফরিদ উদ্দিন আল মোবারককে নিজ নিজ দলের একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ আসনে এখন পর্যন্ত কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি এনসিপি। ফলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন এ নতুন দলটিসহ গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ আসন থেকে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে সর্বপ্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন খ্যাতিমান সাংবাদিক এবিএম মূসা। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮-র নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে জাফর ইমাম বীরবিক্রম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে তিনি একই আসনে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে লাঙ্গল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে তিনি একই আসনে খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান। ফেনী-১ আসনে ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকারিয়া ভূঞাকে পরাজিত করে খালেদা জিয়া সর্বপ্রথম বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এম ওয়াজী উল্লাহ ভূঞাকে পরাজিত করে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং ১৯৯৬ সালের পুনর্নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে বিরোধীদলীয় নেত্রীর দায়িত্ব পালন করেন খালেদা জিয়া। ২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাফর ইমামকে পরাজিত করে তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে এ আসনে ১৪ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে প্রথমবার বিনাভোটে ও ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার বিএনপি প্রার্থী রফিকুল আলম মজনুকে মধ্যরাতে জালিয়াতির মাধ্যমে পরাজিত করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার দ্বিতীয় মেয়াদে সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত ছাড়াই ভোটারবিহীন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের আলাউদ্দিন নাসিম সংসদ সদস্য হয়েও ছয় মাস না পেরুতেই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা বলছেন, দীর্ঘদিনের ভোটারবিহীন নির্বাচনের বাইরে এসে এবারের নির্বাচন উৎসবমুখর হয়ে উঠবে। প্রবীণ নেতৃত্বের পরামর্শে নতুন নেতৃত্ব চায় বেশিরভাগ রাজনীতিক কর্মী। স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও মাফিয়া সিন্ডিকেট মুক্ত নেতৃত্বেই ফেনীকে এগিয়ে নিতে পারবে বলে মনে করছেন অনেকে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিজেই দাঁড়াবেন নাকি বিকল্প কেউ—এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে। এছাড়া হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী জেলার এ আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৬১ জন রয়েছে বলে জানা গেছে। দেশের জাতীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ভৌগোলিক অবস্থান এবং নানা কারণে জেলার সীমান্তবর্তী তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসনটি জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
অস্ত্র মামলায় বেনাপোলের মোস্তাফিজুর রহমানের ১৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে উচ্চশিক্ষা সহযোগিতা জোরদারে ড. মো. সবুর খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল
দেশের টিভির বার্তা প্রধান আখতার হোসেন সাদ্দামকে সন্ত্রাসী ‘হোয়াইট বাবু’র হত্যার হুমকি, বাসায় মহড়া
‘হয় অর্থ, নয় রক্ত’, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে তুলে নেওয়ার হুমকি
