ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ১১ মে ২০২৬ ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
কালিয়াকৈরের বন দখল আদালতের স্থগিতাদেশে থমকে গেল উচ্ছেদ অভিযান
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
প্রকাশ: Sunday, 7 September, 2025, 6:44 PM

কালিয়াকৈরের বন দখল আদালতের স্থগিতাদেশে থমকে গেল উচ্ছেদ অভিযান

কালিয়াকৈরের বন দখল আদালতের স্থগিতাদেশে থমকে গেল উচ্ছেদ অভিযান

গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার কালিয়াকৈর রেঞ্জ ও কাচিঘাটা রেঞ্জে বনভূমি দখল ও স্থাপনা নির্মাণের প্রবণতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে হঠাৎ করে বন অপরাধীরা বন আইন, ১৯২৭-এর সুস্পষ্ট বিধান লঙ্ঘন করে নির্বিচারে গাছ কেটে, বনভূমি ক্ষতবিক্ষত করে এবং ছোট-বড় স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে। রাতারাতি ভাড়ার উদ্দেশ্যে কাঁচা, আধাপাকা ও পাকা ঘরবাড়ি তৈরি হওয়ায় বনভূমি ধ্বংসের গতি বেড়ে যায়।

বন, বনভূমি ও বন্যপ্রাণির আবাস রক্ষায় বন বিভাগ বন আইন, ১৯২৭-এর ৬৬ ধারার বিধান অনুসারে যৌথ বাহিনীর সহায়তায় সদ্য নির্মিত ও নির্মাণাধীন স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। তবে আদালতের স্থগিতাদেশে শেষ পর্যন্ত সেই অভিযান থেমে যায়। ফলে দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতার পালাবদলের সুযোগে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা দখলদারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতে শুরু করেন। ভোট ব্যাংক ও জনসমর্থনের আশায় তারা মানবিকতার দোহাই দিয়ে দখলকারীদের পক্ষে অবস্থান নেন। অভিযোগ রয়েছে, দখলকারীদের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ এবং ভুয়া তথ্য দিয়ে আদালতে রীট আবেদন করানোর ঘটনাও ঘটেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এক মৌজার কয়েকজনের ব্যক্তিগত জমির কাগজপত্র ব্যবহার করে বন বিভাগের মালিকানাধীন গেজেটভুক্ত বনভূমিকেও ব্যক্তিগত জমি হিসেবে দাবি করা হয়। এভাবে উচ্ছেদ অভিযানকে ‘বসতবাড়ি উচ্ছেদ’ আখ্যা দিয়ে আদালতে রীট আবেদন করে স্থগিতাদেশ আদায় করা হয়।

একজন (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বন কর্মকর্তা জানান, আমরা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছিলাম এবং সাধারণ মানুষকেও অবহিত করেছিলাম। কিন্তু উল্টো চাপ বেড়ে যায়। সব প্রস্তুতি শেষ হলেও আদালতের স্থগিতাদেশে অভিযান স্থগিত হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, রীট আবেদনকারীদের অনেকেরই সংশ্লিষ্ট খতিয়ান বা চুক্তিনামার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি সংযুক্ত চুক্তিনামার শর্ত অনুযায়ী বনভূমিতে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। এটি স্পষ্টভাবে বন আইন লঙ্ঘন।

কালিয়াকৈরের বন দখল আদালতের স্থগিতাদেশে থমকে গেল উচ্ছেদ অভিযান

কালিয়াকৈরের বন দখল আদালতের স্থগিতাদেশে থমকে গেল উচ্ছেদ অভিযান

স্থগিতাদেশের সুযোগ নিয়ে রীট আবেদনকারীরা ও অন্যান্য দখলদাররা পার্শ্ববর্তী মৌজাগুলোতেও সরকারি বনজ সম্পদ দখল ও ধ্বংসের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এতে বনভূমির অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সুশীল সমাজ মনে করছে, রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়ে বন দখলের প্রবণতা বেড়েই চলেছে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকায় মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যদি দখল চলতেই থাকে, তবে বন আর টিকবে না। কাচিঘাটা বা কালিয়াকৈর রেঞ্জের বন ধ্বংস হলে শুধু স্থানীয় মানুষ নয়, গাজীপুরসহ আশপাশের পুরো এলাকার পরিবেশ বিপর্যস্ত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবিক বিবেচনার আড়ালে জমির মালিকানা জালিয়াতি ও রাজনৈতিক প্রভাবজনিত বন দখলের বৈধতা পাচ্ছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ছে।

পরিবেশবিদরা মনে করছেন, বন রক্ষায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ জরুরি। আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া বন, বনভূমি ও বন্যপ্রাণির আবাসস্থল বাঁচানো সম্ভব নয়। অন্যথায় দখলদারদের লাগামহীন কার্যকলাপে কালিয়াকৈরের বনভূমি একদিন ইতিহাঁসে পরিণত হবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status