|
রোডম্যাপ ঘোষণার পরও নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কেন?
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() রোডম্যাপ ঘোষণার পরও নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কেন? শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই আগামী নির্বাচন কবে হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংশয় দেখা দিলেও গত ৫ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সেই সংশয় দূর করেন। তিনি ওইদিন বলেছিলেন, রোজার আগে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজন করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দেবেন। পরদিনই সেই চিঠি দেয় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের জন্য এ বছরের মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা। সে অনুযায়ী সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন ডিসি, এসপি, ইউএনও ও ওসি পোস্টিংয়ের জন্য লটারি সিস্টেম চালু করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের জন্য গত ২৮ আগস্ট নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে ইসি। আগামী বছরের ১৭-১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রমজান শুরু হবে ধরে নিয়ে এর আগেই নির্বাচন আয়োজন করা এবং নির্বাচনের ৬০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে ইসি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম দুইদিন আগেই বলেছেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই নির্বাচন হবে এবং তা ঠেকানোর মতো শক্তি কারো নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধান উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন উপদেষ্টা ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের নিশ্চয়তা দেওয়ার পর বিএনপি একে স্বাগত জানালেও জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম-সাময়িক বিভিন্ন কর্মসূচি ও নির্বাচন বিষয়ে দলগুলোর শীর্ষ নেতদের বিভিন্ন বক্তব্যে নির্বাচন ঘিরে সংশয় সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন দলের সমর্থকসহ সাধারণ মানুষও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে লিখছেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে তো? জাতীয় নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি চালুর দাবি জানাচ্ছেন জামায়াত ও এনসিপি নেতারা। জামায়াত নেতারা স্পষ্টভাবেই বলছেন, পিআর পদ্ধতি ছাড়া নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। এছাড়া, দেশে নির্বাচনের পরিবেশ নাই বলেও দাবি করছে দল দুটি। অন্যদিকে, এনসিপির আরও কিছু দাবি রয়েছে, যেগুলো পূরণ করতে গেলে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন। তার মধ্যে রয়েছে- আগে গণপরিষদ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করা। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা এবং জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িতদের বিচার সম্পন্ন করা। তারপর জাতীয় নির্বাচন চাচ্ছে দলটি। আর নির্বাচন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আচরণ স্পষ্ট নয়। দলটি একদিকে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের বিরোধিতা করার পাশাপাশি পিআর পদ্ধতি চাচ্ছে। অন্যদিকে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীকে ভোটারদের কাছে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। গত ২৬ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন দেশকে আবারও ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যাবে। তাই সংস্কার ছাড়া আগামী নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পক্ষে ও বিপক্ষে, বিদ্যমান পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন এবং পিআর পদ্ধতি চালু করা- এই ভিন্ন অবস্থানে বিএনপি ও জামায়াত রাজনীতির মাঠে শক্তি বাড়াতে অন্যান্য ইসলামী দল ও বামদলগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতির এই পরিস্থিতির মধ্যে হঠাৎ করে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে গরম হয়ে উঠছে জাতীয় রাজনীতি। গণঅধিকার পরিষদ ও জাতীয় পার্টির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর সরকার আজ বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে মিটিংয়ে বসছে। সেখানে নির্বাচন আয়োজন, জাতীয় পার্র্টির ভবিষ্যৎ নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে দলগুলোর মতামত নিতে পারে সরকার। হঠাৎ করে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি, নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি আর নির্বাচন ঘিরে সৃষ্ট নিশ্চয়তায় স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনিশ্চয়তা কমছে না। সরকারি ও ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগে গতি ফিরছে না, সৃষ্টি হচ্ছে না নতুন কর্মসংস্থান। যার প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে। ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা কাটতে শুরু করেছিল, চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সেখানে ভাটার সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরতে থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তির আভাষ দেখা যাচ্ছিল। গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তা এখন নিভু নিভু করছে। আজকেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক ভায়োলেন্স হয়েছে এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছে। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে ভীত করে রাজনৈতিক সংঘাত, সংঘর্ষ। এ ধরনের পরিবেশ দেখা দিলে বিনিয়োগকারীরা সেখানে বিনিয়োগ করা দূরের কথা, পুরনো বিনিয়োগ নিয়েও ভয়ে থাকেন। ফলে বাংলাদেশের এখনকার পরিস্থিতিতে নতুন কোন বিনিয়োগ হবে না, কর্মসংস্থানও হবে না, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়বে না। ফলে প্রতি বছর যে ২০ লাখ তরুণ শ্রম বাজারে ঢুকছে, তাদের জন্য দুঃসময় অপেক্ষা করছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
