|
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি
বিধান বিশ্বাস, চট্টগ্রাম
|
![]() চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার ফাহমুন নবী গণমাধ্যমকে বলেন, সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেইট সংলগ্ন একটি ভবনের ভাড়াটিয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর বিতণ্ডার জেরে শনিবার মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী রাত ১১টার দিকে বাসায় ফেরেন। ভবনের গেইট বন্ধ থাকায় তিনি প্রহরীকে ডাকাডাকি করেন। এসময় প্রহরী এসে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তর্কে জড়ায়। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীকে তিনি গালাগাল করেন এবং চড় মারেন। ওই ছাত্রী তখন সহপাঠীদের খবর দিলে তারা সেখানে যান এবং গ্রামবাসীও ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর পক্ষ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে। তখন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই পক্ষই ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে পরস্পরকে ধাওয়া করে। এসময় স্থানীয়রা মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। স্থানীয় লোকজন সে সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিক্ষার্থীদের আঘাত করে বলেও অনেকে অভিযোগ করেছেন। রাত ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মো. হায়দার আরিফ ফেইসবুকে পোস্টে দিয়ে সবার সহযোগিতা চান। তিনি লেখেন, “দুই নম্বরে (গেইটে) আমাদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে প্রচুর শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। সহকারী প্রক্টর কুরবান আলী স্যার, নাজমুল স্যার ও নিরাপত্তা প্রধান রহিম ভাই আহত। নিরাপত্তা বাহিনীর অনেকেই আহত। প্রক্টোরিয়াল বডি, পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ভায়চুর করা হয়েছে।” রাত সাড়ে ৩টার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। উপ উপাচার্য (প্রশাসন) কামাল উদ্দিন সে সময় বলেন, “পর্যাপ্ত পুলিশ আমরা ঘটনাস্থলে পাইনি। র্যাবের সাথে যোগাযোগ করেও তাদের পাইনি। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী আসছে। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।” চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব গণমাধ্যমকে বলেন, রাতে অন্তত ৬০ জন আহত শিক্ষার্থীকে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ২১ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাতভর সংঘর্ষের পর রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে যোগ দেননি। এদিকে রাতে সংঘর্ষের পর স্থানীয় লোকজন সকালে আবার সড়কে অবস্থান নিতে শুরু করে। দুই নম্বর গেইট এলাকার বিভিন্ন ভাড়া বাসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থীরা থাকেন, তারা যার যার বাসায় আটকা পড়ে যান। বেলা ১১টার পর ক্যাম্পাস থেকে ছোট ছোট দলে শিক্ষার্থীরা ওই এলাকায় যাওয়া শুরু করেন। ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে দুই নম্বর গেইট এলাকায় গেলে ফের স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। তখন উপ উপাচার্য কামাল উদ্দিনসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে যান। কিন্তু সংঘর্ষের মধ্যে ইটের আঘাতে উপ-উপচার্যসহ শতাধিক শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী আহত হন। সোশাল মিডিয়ায় আসা ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। ধানক্ষেতের মধ্যে এক শিক্ষার্থীকে দা দিয়ে কোপাতে দেখা যায় কয়েকজন গ্রামবাসীকে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন সাংবাদিক গণমাধ্যমকে বলেন, বিকাল তিনটার দিকেও দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিল। দুই পক্ষ দুই দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নিয়ে ছিল এবং বৃষ্টির মত ঢিল ছুড়ছিল। চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) রাসেল সে সময় গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে আছি। এখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছি যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পরিবেশ স্বাভাবিক করা যায়।” |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
