|
দেশীয় সীমা পেরিয়ে মহাদেশীয় ফুটবল জায়ান্ট হওয়ার পথে বসুন্ধরা কিংস
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() দেশীয় সীমা পেরিয়ে মহাদেশীয় ফুটবল জায়ান্ট হওয়ার পথে বসুন্ধরা কিংস সেবছর তারা প্রথমবারের মতো বিদেশি কোচ হিসেবে স্প্যানিশ অস্কার ব্রুজনকে নিয়োগ দেয় এবং বিশ্বকাপে খেলা কোস্টারিকান তারকা ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেসকে দলে ভেড়ায়। এটি ছিল বাংলাদেশের ফুটবলে এক ঐতিহাসিক অর্জন। এরপর থেকে কিংস নিয়মিত এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ বাছাইপর্ব, এএফসি কাপ এবং নতুন চালু হওয়া এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মতো এশিয়ান প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।এই যাত্রায় যেমন চ্যালেঞ্জ এসেছে, তেমনি এসেছে বড় জয়ও। এর মধ্যে অন্যতম ভারতীয় সুপার লিগ জায়ান্ট মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে এএফসি কাপে হারানো। সর্বশেষ তারা এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের বাছাইপর্বে সিরিয়ার আল-কারামাহকে এক গোলে হারিয়ে তাদের মহাদেশীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে আরো পোক্ত করেছে বসুন্ধরা কিংস। এই জয় সম্পর্কে ক্লাব অধিনায়ক তপু বর্মণ বলেন, ‘আমরা খুব ভালো বোধ করছি। গত বছর আমরা লিগে তৃতীয় হয়েছিলাম, যা আমাদের প্রাপ্য ছিল না। যদি মোহামেডান না হারত, তাহলে আমরা এই সুযোগ পেতাম না। এরপর আমরা একটি শক্তিশালী দলের (আল-কারামাহ) মুখোমুখি হয়েছিলাম, যারা এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং এএফসি কাপের ফাইনালে খেলেছে। আমি মনে করি, এটি বসুন্ধরা কিংস এবং সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য একটি বড় অর্জন।’তিনি আরো বলেন, ‘এই জয়ের মাধ্যমে কিংস একটি বড় ক্লাব হিসেবে নিজেদের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করেছে। আমি খেলোয়াড়দের প্রতি কৃতজ্ঞ। সবার কঠোর পরিশ্রম দরকার ছিল। আমরা শুরুতেই গোল করেছি এবং প্রায় ৯৩ মিনিট ধরে সফলভাবে রক্ষণভাগ সামলেছি— এটা দলগত ডিফেন্ডিংয়ের কারণেই সম্ভব হয়েছে।’বিদেশি ও স্থানীয় প্রতিভার কৌশলগত মিশ্রণই কিংসের উত্থানের মূল চালিকাশক্তি। কলিন্দ্রেস এনে দেন দৃষ্টি, টেকনিক্যাল দক্ষতা ও নেতৃত্ব; ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রবসন রবিনহো যোগ করেন গতি, সৃজনশীলতা ও গোল করার দক্ষতা। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হার্নান বারকোস, ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ডরিয়েলটন, লেবানিজ ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ জালাল কদুহের মতো খেলোয়াড়রা দলকে শক্তিশালী করেছে। ইউরোপিয়ান অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বাংলাদেশের নাগরিক তারিক কাজি রক্ষণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভরসা, আর ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া কিউবা মিচেলের মতো তরুণ প্রতিভাগুলো ক্লাবটির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতির উদাহরণ। তবু স্থানীয় ফুটবলাররাই কিংসের সাফল্যের কেন্দ্রে। অধিনায়ক তপু বর্মন জাতীয় দলে যেমন, প্রায়শই বিশ্বনাথ ঘোষের সঙ্গে জুটি বেঁধে ক্লাবের রক্ষণভাগেও অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। আক্রমণে রাকিব হোসেনের গতি ও গোল করার সামর্থ্য, সাদ ও তাজউদ্দিনের বহুমুখীতায় কিংসের প্রশিক্ষণ ও মানের প্রতিফলন ঘটে। এটি বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য একটি মডেল। ছয় বছর ধরে ক্লাবে থাকা এবং এখন অধিনায়কত্ব করা তপু তার ভিশন শেয়ার করে বলেন, ‘আমি দলটিকে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো এলিট পর্যায়ে নিতে চাই। এটি খুব চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু আমাদের সঠিক ম্যানেজমেন্ট এবং শক্তিশালী স্কোয়াড রয়েছে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আল নাসরের মতো ক্লাবগুলো এএফসি কাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, এবং আমরা এখন শীর্ষ দলগুলোর মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পাব যদি আমরা ধারাবাহিকতা বজায় রাখি।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমরা যেখানেই খেলেছি, মালদ্বীপ, ভারত, কাতার বা শারজাহ, মানুষ আমাদের চিনেছে, অনুসরণ করেছে এবং আমাদের খেলার ধরণ পছন্দ করেছে। এটা সত্যিই গর্ব করার মতো।’ ম্যানেজমেন্টকেও প্রশংসা করে কপু বলেন, ‘ক্লাব দারুণ কাজ করেছে। আমরা সব ঘরোয়া ট্রফি জিতেছি, টানা পাঁচবার লিগ শিরোপা নিয়েছি। এর কৃতিত্ব প্রেসিডেন্ট ইমরুল হাসানকে দিতে হয়ে, তার দৃষ্টি, পরিকল্পনা আর ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপ সবসময় খেলোয়াড়দের সমর্থন দিয়েছে, আস্থা রেখেছে এবং ক্লাবকে পেশাদারভাবে গড়ে তুলেছে। হার্নান বারকোস বা ড্যানিয়েল কলিন্দ্রেসের মতো বিদেশি খেলোয়াড় আনার কৃতিত্বও তাদের। এসব অর্জন এসেছে ইমরুল স্যারের পরিকল্পনা ও অব্যাহত নিষ্ঠার ফলেই।” বহুবার এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বে খেলা, ২০২০-২১, ২০২১-২২ এবং ২০২৩-২৪ মৌসুমে রানার্স-আপ হওয়া, ২০২৫-২৬ মৌসুমে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বে ওঠা ও আল-কারামাহকে হারানো, প্রতিটি সাফল্যই প্রমাণ করে বসুন্ধরা কিংস এখন কেবল দেশীয় জায়ান্ট নয়, এশিয়ার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। একটি শক্তিশালী স্থানীয় কোর, কৌশলগত বিদেশি সাইনিং এবং শক্তিশালী ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বসুন্ধরা কিংস এখন কেবল একটি জাতীয় শক্তি নয়; তারা ধীরে ধীরে প্রকৃত অর্থে এক মহাদেশীয় ফুটবল জায়ান্ট হয়ে উঠছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
