ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ● ১১ কার্তিক ১৪৩৩
ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচ চলবে ‘বিশেষ বন্দোবস্তে’
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Tuesday, 29 July, 2025, 2:11 PM

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচ চলবে ‘বিশেষ বন্দোবস্তে’

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচ চলবে ‘বিশেষ বন্দোবস্তে’

প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ হওয়ার আগেই ‘বিশেষ বন্দোবস্তে’ শুরু হচ্ছে প্রথম ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম। ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাই প্রথম ব্যাচ, যাদের পাঠদান চলবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম অনুযায়ী বিদ্যমান শিক্ষাক্রমে। পাঠদান করাবেন সরকারি সাত কলেজের শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকরা। অধ্যাদেশ হওয়ার আগে ‘বিশেষ বন্দোবস্তে’র অন্তর্বর্তী এ সময় প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ। প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হচ্ছে প্রথম ব্যাচ।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরি কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিক কারিকুলাম চালুর জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি পায় সরকারি সাত কলেজ। সরকারি সাত কলেজ হলো— ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ এবং সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ।

১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল সরকারি এই সাত কলেজ। ২০১৭ সালে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এ সাতটি সরকারি কলেজকে অধিভুক্ত করা হলে প্রশাসনিক জটিলতা ও বিভিন্ন অদক্ষতার অভিযোগ উঠতে থাকে। বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীরা নানা দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর ওই বছরের অক্টোবর থেকে শিক্ষার্থীরা নতুন করে আন্দোলন শুরু করেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকার ডিসেম্বরে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাবি ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা শুরু হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে কলেজগুলোর অধিভুক্তি বাতিল করে। ততদিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির জন্য প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীর ফি-সহ আবেদন গ্রহণ করে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ তৈরি হতে থাকে। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়র অধ্যাদেশ জারি হওয়ার আগেই ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম চালানোর অনুমোদন দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ৯ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেয় ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম আগামী মাসে শুরু হচ্ছে। প্রথম ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ২২ ও ২৩ আগস্ট। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় ২০২৪-২৫ এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকারি সাত কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষা কার্যক্রম বিশেষ একটি বন্দোবস্তে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছিল, ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে আবেদন করেছিল। টাকা দিয়ে ফরম জমাও দিয়েছিল। এই শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম আমরা বন্ধ করতে পারি না। যার ফলে বিশেষ বন্দোবস্তে ফিরতে চাচ্ছি। ভর্তি বিজ্ঞপ্তির মাঝখানেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব (অধিভুক্তি) ছেড়ে দিয়েছিল— যার ফলে এই শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছিল। তাই বিদ্যমান কাঠামোতে রেখে এই ব্যাচটাকে কনটিনিউ করাতে হবে। যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দায়িত্ব ছেড়ে দিছে, তাই এই ছাত্রদের দায়িত্ব বর্তায় প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর।

অধ্যাদেশ জারি অক্টোবরে

ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান বলেন, ‘প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়টির গঠন শেষ পর্যায়ের দিকে রয়েছে। ইতোমধ্যে রূপরেখা হয়ে গেছে। আমরা আশা করছি যথাসময়ের মধ্যে ঘোষণা করে অধ্যাদেশের কাজটা শেষ করে ফেলবো। ছাত্রদের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হতেই অধ্যাদেশ জারি হয়ে যাবে। অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে বিশেষ বন্দোবস্তের মধ্যে যেতে হতো। যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি না দিতো, তাহলে আমাদের এ সংকটে পড়তে হতো না। ভর্তি কার্যক্রমের অনুমতি নেওয়া হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অক্টোবরের মধ্যে জারি হয়ে যাবে। অধ্যাদেশ হওয়ার আগে অন্তর্বর্তী প্রশাসক চালাবেন ভর্তি কার্যক্রম। ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন।’

পরের ব্যাচের জন্য শিক্ষাক্রম হবে ভিন্ন

ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান জানান, শুধু এই শিক্ষাবর্ষটা থাকবে বিদ্যমান কাঠামোতে এবং শিক্ষা কার্যক্রম চালাবেন সাত কলেজের শিক্ষকরা। পাঠদানের দায়িত্ব আগে যা ছিল, তাই থাকবে। নতুন যে বিশ্ববিদ্যালয় হবে, তার কাঠামো ভিন্নতর হবে। যেহেতু ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল, সেহেতু এটি একটি বিশেষ বন্দোবস্ত।

এবার যেভাবে ভর্তি পরীক্ষা

প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসক ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস গণমাধ্যমকে বলেন, ‘২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২২ ও ২৩ আগস্ট। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় ২০২৪-২৫ এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। আমরা ইতোমধ্যে একটি সার্কুলার প্রস্তুত করেছি। তবে আমাদের নিজস্ব পরীক্ষা গ্রহণের কাঠামো না থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হবে।’

এ কে এম ইলিয়াস আরও বলেন, ‘শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। আগামী ৩ আগস্ট থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে হবে। ১২ আগস্ট চলে যাবে বুয়েটের হাতে।’

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status