|
জুলাই অভ্যুত্থানে যুক্তরাষ্ট্রের যুক্ত থাকার অভিযোগ মিথ: সাবেক মার্কিন কূটনীতিক
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() জুলাই অভ্যুত্থানে যুক্তরাষ্ট্রের যুক্ত থাকার অভিযোগ মিথ: সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষিতে জুলাই বিপ্লবের তাৎপর্য: পেছন ফিরে দেখা, সামনে এগিয়ে চলা’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে এনএসইউর সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এসআইপিজি)।এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও এসআইপিজির জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো মুহাম্মদ সুফিউর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান, এনএসইউ বিজনেস স্কুলের ডিন এ কে এম ওয়ারেসুল ইসলাম এবং বিজিএমইএর সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সল সামাদ। এতে কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়িসহ বিশিষ্ঠজন অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন এনএসইউর রাজনৈতিক বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মদ সরকার। জন ড্যানিলুইৎজ বলেন, গত বছর জুলাই-আগস্টে এখানে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিল বলে বিগত সরকারের লোকজন ও তাদের সমর্থকেরা প্রচার করে থাকে। মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো প্রমাণ তিনি পাননি। এক-এগারো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনেকে বিশ্বাস করেন ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এতে কোনো ভূমিকা ছিল না। পরের দুই বছর বাংলাদেশে কাজের ধারা কেমন হবে, সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তখনকার সেনা নেতৃত্ব। এর মানে কিন্তু এটা নয় যে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির আগের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উদ্বেগ ছিল না। এর মানে আবার এটাও নয় যে যুক্তরাষ্ট্র ২০০৭-৮ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত থেকে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করেনি।’ মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিবর্তনের বিষয় তুলে ধরেন সুফিউর রহমান। তিনি নতুন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে কূটনৈতিক উদ্যোগ পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অধ্যাপক শাহিদুজ্জামান ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্লেষণ করেন। তিনি চীন ও ভারতের আঞ্চলিক বিশেষ গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন। ফয়সাল সামাদ সম্প্রতি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাবের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য নীতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাস্তববাদী বাণিজ্য কূটনীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। অধ্যাপক এ.কে.এম. ওয়ারেসুল করিম বলেন, গণতন্ত্র কেবল একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা নয়—এটি একটি মূল্যবোধ। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে কেবল আমাদের পাশে নয়, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার যৌথ অভিযানে দেখতে চাই। সমাপনী বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী জাতীয় স্বার্থে কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে অগ্রগতি সাধনে প্রমাণভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন। |
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
