|
পাথরঘাটায় ৪ কোটি টাকার প্রকল্প মাত্র ১০ লাখে সমাপ্ত
ইব্রাহীম খলীল, পাথরঘাটা
|
![]() পাথরঘাটায় ৪ কোটি টাকার প্রকল্প মাত্র ১০ লাখে সমাপ্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে পাথরঘাটা উপজেলায় প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয় থেকে ৪ কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৫ টাকা বরাদ্ধ হয়। এর মধ্যে ৭ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ১৫০ টি প্রকল্পের কাজ করার কথা। কাগজ কলমে এসব প্রকল্পের নাম থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে এই কাজের কোন অস্থিত্ব খুজে পাওয়া যায়নি। এ প্রকল্পের গুলোর কাজে সরেজমিনে অনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার কাজ হয়েছে। সরেজমিনে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বরইতলা গ্রামের খাইরুলের বাড়ি থেকে ছগির মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত মাটি ভরাটের জন্য ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা, আশরাফ আলীর বাড়ি থেকে কবির দফাদার বাড়ি পর্যন্ত আরও একটি প্রকল্পে ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ টাকা এবং একই রাস্তায় আরও দুটি প্রকল্পের আওতায় ২০ টন গম (সরকারি মূল্য প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা) ও নগদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা, উত্তর হাতেমপুর এলাকার মালেক মাস্টারের বাড়ি থেকে আলমের ঘের পর্যন্ত মাটির রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা, ১০৩ নং মাছেরখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে ২ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা, নিজলাঠিমারা এসকান্দারের বাড়ি থেকে কিল্লাগামী মাটির রাস্তা নির্মাণের জন্য ১২ টন চাল, যার সরকারি মূল্য ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬৮ টাকা। একই এলাকার একটি পার্শ্ব রাস্তায় আরও ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এ সকল রাস্তায় বরাদ্ধ হলেও সেটি অধিকাংশ রাস্তার কাজ না করেই টাকা উত্তোলন করা হয়ে গেছে। এদিকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে একজন ব্যক্তি একাধিক প্রকল্পের সভাপতি হতে পারেন না। কিন্তু কাগজ কলমে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সগীর আলম একাই ৯টি প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত এবং ওই প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম হাজী, মোঃ সগীর, সাহিন পঞ্চায়েত ও আবুল কালাম বলেন, গত দুই বছরে এই রাস্তাগুলোতে কোন কাজ করতে দেখা যায়নি। বুজেছিলাম ৫ আগস্টের পরে চোরগুলো সব পালিয়ে গেছে, এখন দেখছি আগের চোরের চেয়ে আরো বড় চোরে ধরেছে আমাদের। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অধিকাংশই কাগজে সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছেন তারা। মাছেরখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিখা রানী অধিকারী বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ থাকাকালীন সময় এক জাহাজ বালু ফেলেছেন তা আমরা জানিনা। এই এক জাহাজ বালুর দাম ১৫ হাজার টাকা কিন্তু আমার বিদ্যালয় বাজেট হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৫শত টাকা। এসব কিছুই স্থানীয় সদস্য নিজে করেছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কার্য সহকারী স্বপন জানান, অফিসের সকল কাজ করেছেন পিআইও, তিনি দেখে দেখেই বিল পাস করেছেন। এর দায়ভার সব তার। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। সাবেক ইউপি সদস্য শাহিন মোল্লা বলেন, ইউএনও বরাবর অভিযোগ করলেও তিনি পিআইওকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে সব বিল পরিশোধ করেছেন। ৪ কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৫ টাকার প্রকল্পের বিপরীতে ১০ লাখ টাকার দৃশ্যমান কাজও দেখানো সম্ভব না। এমন লুটপাট আমার জীবনে দেখিনি। এ বিষয়ে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সগীর আলম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সকল প্রকল্পের কাজ ঠিক মতো হয়েছে বলেও তিনি দাবি তরেন। একাধীক প্রকল্পে এক ব্যাক্তির নাম থাকতে পারে না সেখানে আপনার নাম কিভাবে থাকে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে অনেকগুলো প্রকল্পে তার নাম দিয়েছেন তিনি। প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে জানতে চাইলে অস্বীকার করে বলেন, যারা এসব বলছে তারা মিথ্যা বলছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রুনু বেগমের কাছে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে জানতে বলেন এবং কোন কথা বলবেন না বলে তার অফিস ত্যাগ করেন। পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, যে প্রকল্পের কাজ হয়নি, সেই প্রকল্প সম্পর্কে নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব। কাজ না হলে প্রকল্পের টাকা ফেরতের বিধান আছে, তা আমরা আইনগতভাবে অনুসরণ করব। পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক বলেন, পাথরঘাটার মতো এমন অনিয়ম কোথাও হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। কাজগুলো ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। পিআইও অফিস কোনো সঠিক তদারকি করেনি, আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানাই। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
