|
গাজীপুরের কাশিমপুরে ভূয়া পুলিশ গ্রেপ্তার
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
|
![]() গাজীপুরের কাশিমপুরে ভূয়া পুলিশ গ্রেপ্তার কাশিমপুর থানার এসআই শিবলু মিয়া সঙ্গীয় ফোর্স-সহ মোবাইল টিম (৪) নিয়ে নাইট ডিউটিতে কর্মরত অবস্থায় ২৮ মে দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, সারদাগঞ্জ পুকুরপাড় এলাকায় তালতলা তিন রাস্তার মোড়ে এক ব্যক্তি পাকা রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে নিজেকে পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। এসআই শিবলু মিয়া তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি মহানগরীর বারেন্ডা এলাকার মৃত মজিদ মিয়া ও জায়েদা খাতুন দম্পতির ছেলে, মো. লাল মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করে। এসময় তাকে তল্লাশিকালে লাল মিয়ার হেফাজত থেকে একটি পুরাতন হ্যান্ডকাপ (হাতকড়া) উদ্ধার করা হয়, যা সে পুলিশ পরিচয় দেয়ার জন্য ব্যবহার করে আসছিল বলে জানা গেছে। হাতকড়াটি জব্দ করে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরবর্তীতে এসআই শিবলু মিয়া বাদী হয়ে কাশিমপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২৭, তারিখ: ২৯/০৫/২০২৫)। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৭০ ও ১৭১ ধারায় রুজু করা হয়েছে জানায় পুলিশের সূত্র। যা সরকারি কর্মচারীর ভুয়া পরিচয় প্রদান এবং তার ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কিত মামলা। আজ বৃহস্পতিবার (২৯মে) দুপুরে লাল মিয়াকে কাশিমপুর থানা থেকে মামলা রজু করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। স্থানীয়দের মতে, মো. "লাল মিয়া” নামটি আশপাশের এলাকায় আতঙ্কের নাম। পুলিশ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এনায়েতপুর, রৌশন মার্কেট, জরুনসহ আশেপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছিল এই ব্যক্তি। তার মূল টার্গেট ছিল মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নারীরা, যাদের তিনি ‘মাদকসম্রাজ্ঞী’ বলে আখ্যা দিতেন এবং পরবর্তীতে তাদের জিম্মি করে আদায় করতেন মাসোয়ারা। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, লাল মিয়ার রয়েছে একটি গোপন ‘টর্চার সেল’। স্থানীয়ভাবে কুখ্যাত এই নির্যাতনকেন্দ্রে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নেওয়া হতো নিরীহ মানুষদেরও, শুধুমাত্র তার চাহিদা মত টাকা আদায়ের সার্থে। অনেক ভুক্তভোগী ভয়ে মুখ খুলতে পারতেন না, কারণ পুলিশ পরিচয়ের আড়ালে তার ছিল অদৃশ্য প্রভাব ও ভয়ংকর প্রতিশোধের হুমকি। সু-শীল সমাজের সদস্যদের মতে, লাল মিয়ার মতো প্রতারকেরা সমাজে মাদকের বিস্তার আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। একজন সুশীল নাগরিক বলেন, “যেখানে অপরাধ দমনকারী সেজে অপরাধ করে গোপনে, তখন সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? যুব-সমাজ ও কিশোর-কিশোরীরা সহজেই মাদকের নাগালে চলে আসছে তাদের অপকৌশলে, কারণ এসব চক্রগুলোর সঙ্গে গোপনে যোগসাজশ রয়েছে এমন অসাধু লোকজনের।” এলাকাবাসীর জোর দাবি, লাল মিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং তার ‘টর্চার সেল’ এর অপতৎপরতা যেন দ্রুত বন্ধ হয়, সে দাবি জানান তারা। কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান জানান, “এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। আমরা জনগণকে অনুরোধ করছি, এ ধরনের সন্দেহজনক ব্যক্তির সম্পর্কে সাথে সাথে পুলিশকে অবহিত করতে।” আইনী প্রকৃয়া অনুসরণ করে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানোর কথাও জানান ওসি। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
