ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১১ বৈশাখ ১৪৩৩
বগুড়া শেরপুরে ধান কাটার মজুরির টাকা না পেয়ে শ্রমিকের থানায় অভিযোগ
দীপক সরকার, বগুড়া
প্রকাশ: Tuesday, 20 May, 2025, 3:18 PM

বগুড়া শেরপুরে ধান কাটার মজুরির টাকা না পেয়ে শ্রমিকের থানায় অভিযোগ

বগুড়া শেরপুরে ধান কাটার মজুরির টাকা না পেয়ে শ্রমিকের থানায় অভিযোগ

দিনমজুরি শ্রমিকের কাজ করেই  চলে এদের সংসার। কাঁক ডাঁকা ভোরে বের হতে হয়  সংসারের স্ত্রীসহ ছেলেমেয়েদের  মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য অর্থের সন্ধানে। তাইতো প্রতিদিনের ন্যায় হাতে  কাস্তে ও কাঁধে বাইন(বাঁশের তৈরি জড়বস্তু, যেটির দু'পাশে ভারী পণ্য সামগ্রী বেঁধে রেখে বহন করা হয়) নিয়ে শ্রম বিক্রি করতে নিজে হাজির হয় শ্রমিক বাজারে। কথাগুলো বলছি সাতান্ন বছর বয়সী  শ্রমিক আব্দুল হান্নানকে নিয়ে। 

তিনি শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের  মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে। আব্দুল হান্নান গতকাল সোমবার দিনভর শ্রম বিক্রি হিসেবে ধান কাটার কাজ শেষ করেও মালিকের কাছ থেকে মজুরী না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে থানায় অভিযোগ করেন। শুধু তিনিই নন, তার সাথে দিনমজুরির  টাকা না পাওয়ার অভিযোগ একমত পোষন করে আরো চারজন শ্রমিক। 

ঘটনাটি গতকাল সোমবার(১৯ মে) জেলার শেরপুর উপজেলার  মির্জাপুর সরকার পাড়া গ্রামের রাজেক আলীর ছেলে আব্দুল কুদ্দুস আলীর জমির ধান কাটায় নিয়োজিত শ্রমিকদের সাথে ঘটে। শ্রমিকদের  কাজের বিনিময়ে  অর্থ না দেওয়া, বাগবিতণ্ডা ও হুমকি ধামকির অভিযোগ তোলেন শ্রমিকরা ।

এহেন ঘটনায় ওই ভুক্তভোগী ৫ শ্রমিক গতকাল সোমবার (১৯ মে) রাতে  আব্দুল হান্নান নামের এক দিনমজুর বাদী হয়ে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।  এ সময় দিনমজুর শেরপুর উপজেলার  মির্জাপুর ইউনিয়নের  কৃষ্ণপুর নামাপাড়া গ্রামের  মৃত মনসুর মন্ডলের ছেলে  হাফিজুর রহমান,  আপনি মৃত সাহেব আলী প্রামানিকের ছেলে আশরাফ আলী, মোহাম্মদ বেলাল হোসেনের ছেলে  রিপন ও আবির হোসেন আকন্দর ছেলে  হুমায়ুন কবির। 

এ সময় তারা  তাদের দিনমজুরির ৩৫০০ টাকা উদ্ধারসহ ধান কাটাতে নেয়া জমির মালিকের বিরুদ্ধে শাস্তি দাবি করেন। শ্রমিক হাফিজুর, আশরাফ, রিপন ও হুমায়ুন বলেন, " তারা প্রতিদিনের ন্যায়  তাদের শ্রম বিক্রি করতে শেরপুরের র নবীর বালা ঘাটপাড় (করোতোয়া নদীর ব্রীজ) সংলগ্ন 'শ্রমিকের হাট' নামক স্থানে উপস্থিত হয়ে থাকে।  আর এখান থেকেই  তাদের শ্রম  কিনে নিতে অধিকাংশ বিভিন্ন পেশাজীবী মালিকরা  দামদর করে  দিনমজুর  ভাড়া নিয়ে থাকেন। 

এ বাজার থেকেই  তাদের প্রতিদিনের  কাজ ও আয়- রোজগারের সন্ধান মেলে। নিত্যদিন শ্রম বিক্রি করা  তাদের নেশা ও পেশা। এ যেন রক্তের সাথে মিশে গেছে। যেদিন শ্রম বিক্রি করতে না পারেন, সেদিন পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকটাই অর্ধাহারে -অনাহারের মধ্য দিয়ে  দিনাতিপাত করতে হয় । সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পর  যদি  মজুরি থেকে বঞ্চিত হতে হয় তাহলে  কিভাবে চলবে তাদের  জীবন ও সংসার।

এমন আক্ষেপ ও ক্ষোভ নিয়ে যখন কথাগুলো বলছিলেন  ভুক্তভোগী শ্রমিকরা।  তখন তাদের চোখে মুখে যেমন ক্লান্তি ছিল, তেমনি ছিল হতাশা আর না পাওয়ার বেদনা। এমন দৃশ্যে বেশ চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় থানা চত্বরে। এ বিষয়ে দিনমজুর  আব্দুল হান্নান জানান, শেরপুরের শ্রমিক বাজার থেকে মির্জাপুর সরকার পাড়া গ্রামের ফিরোজ আলী  ৭০০ টাকা জনপ্রতি দিনমজুরি দিবে মর্মে  আমাদের পাঁচজনকে নিয়ে যায়।  

আমরা তাদের চাহিদা মত  দেড় বিঘা জমির ধান  কেটে  ও বহন করে জমির মালিকের  আঙ্গিনায় নিয়ে আসি।  দিনশেষে মালিক  ভালো কাজ হয়নি মর্মে অভিযোগ তুলে  আমাদের মজুরীর টাকা না দিয়ে গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে  তার সাথে বাক বিতন্ডাকালে  সে বিভিন্ন হুমকিধামকি দিয়ে আমাদের বিতারিত করে দেয়। তাছাড়া ওই মালিক  দিনমজুরির টাকা না দিলেও  সকাল ও দুপুরে  খাবার দিয়েছেন। কিন্তু মজুরির টাকা ফিরে পেতে উপায়ান্তর না দেখে  আমরা  থানা পুলিশের আশ্রয় নিয়েছি।

তবে কি করবো ভাই, " দিনমজুরি টাকাটা যদি না পাই  তাহলে  কালকে  পরিবারের লোকজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। " তাছাড়া যারা গরিবের হাড় ভাঙ্গা খাটুনির পরেও  দিনমজুরের টাকা দিতে চায় না, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।  এমন কথাগুলো বলছিলেন উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে।

অপরদিকে ওই সব দিনমজুর নেওয়া জমির মালিক আব্দুল কুদ্দুসের  মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে  শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের এহেন মানবিক  একটি অভিযোগ পেয়েছি। ওই ইউনিয়নের   সংশ্লিষ্ট দারোগাকে  বিষয়টি তদন্তপূর্বক  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য  নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status