|
চাল বিতরণে পুনঃ সময় চেয়ে মন্ত্রনালয়ে চিঠি
ঈদুল ফিতরে বগুড়ায় ভিজিএফ’র চাল পাচ্ছেন দুই লাখের অধিক দুস্থ মানুষ
দীপক সরকার, বগুড়া
|
![]() ঈদুল ফিতরে বগুড়ায় ভিজিএফ’র চাল পাচ্ছেন দুই লাখের অধিক দুস্থ মানুষ জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার ১২টি পৌরসভার ৩৮ হাজার ৫০৮ জনের বিপরীতে ৩৮৫ দশমিক ৮০ মেট্রিকটন এবং ১২ উপজেলায় এক লাখ ৭১ হাজার ৩৪৮ জনের বিপরীতে এক হাজার ৭১৩ দশমিক ৪৮০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে বগুড়ায় ২ লাখ ৯ হাজার ৮৫৬ জন কার্ডধারীর বিপরীতে জন প্রতি ১০ কেজি হারে মোট ২ হাজার ৯৮ দশমিক ৮ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। সুত্রতথ্যে জানা যায়, ঈদ উল ফিতর উপলক্ষ্যে বগুড়ার বিতরণ হয়নি এমন উপজেলার মধ্যে ধুনট উপজেলা ও পৌরসভা, শেরপুর পৌরসভাসহ ৪টি ইউনিয়ন, শিবগঞ্জ পৌরসভা, গাবতলী উপজেলা ও পৌরসভা, সারিয়াকান্দি ১১টি ইউনিয়ন ও সোনাতলা উপজেলার সবগুলো ইউনিয়ন। সম্প্রতি সরেজমিনে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহ-বন্দেগী ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণ কার্যক্রমে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার ১৬ হাজার ৭১৪ জনের বিপরীতে ১৬৭ দশমিক ১৪০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ চাল বিতরণ কাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আশিক খান। শাহ-বন্দেগী ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় ২৪ হাজার দুস্থ ও অসহায় মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আব্দুল জব্বার, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মাও: আবুল কালাম আজাদ, ইউপি সচিব সাজেদুল ইসলাম, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম সহ অন্যান্য উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জানা যায় উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে, শেরপুর পৌরসভা, বিশালপুর, ভবানীপুর, মির্জাপুর ও খামারকান্দি ৪টি ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত চাল অদ্যবধি বিতরণ হয়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্ত্রণালয়ের দেয়া নিদের্শনা মতে গত ১৬ মার্চের মধ্যে এসব চাল বিতরণ কথা থাকলেও স্থানীয় গুদামে চাল সংকট থাকায় এমন জটিলতায় খাদ্য সরবরাহ করতে পারেনি উপজেলা খাদ্য বিভাগ। তাছাড়া বর্তমানে খাদ্য চাল সংকট সমাধান করলেও বিতরণে পুনঃ তারিখ না আসায় চালের ডিও ছাড় দিতে পারছেনা সংশ্লিষ্ট জেলার উপজেলা খাদ্য বিভাগগুলো। এনিয়ে কথা হয় শেরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল জব্বারের সাথে। এসময় তিনি বলেন, এ চাল বিতরণ সংক্রান্ত জটিলতায় ইতোমধ্যে সমাধান হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের কর্তৃক বিতরণে পুনঃ নির্দেশনা না আসেনি এমনটাই জানতে পেরেছি। তাছাড়া জেলা দপ্তরের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি নির্দেশনা আসা মাত্রই চাল বিতরণ শেষ করা হবে। তবে এ সমস্যার আগামী দু/এক দিনের মধ্যেই সমাধান হবে বলে দাবী করেন ওই কর্মকর্তা। প্রাপ্ত তথ্যে আরো জানা যায়, জেলার ১২টি পৌরসভার মধ্যে বগুড়া পৌরসভায় ৪ হাজার ৬২১ জনের বিপরীতে ৪৬ দশমিক ২১০ মেট্রিকটন। একই পরিমাণ কার্ডধারীর বিপরীতে শেরপুর, নন্দীগ্রাম, সান্তাহার এবং দুপচাঁচিয়া পৌরসভায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪৬ দশমিক ২১০ মেট্রিকটন করে। ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভা ধুনট, সোনাতলা ও গাবতলী পৌরসভায় ৩ হাজার ৮১ জনের বিপরীতে ৩০ দশমিক ৮১০ মেট্রিকটন করে এবং ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভা সারিয়াকান্দি, শিবগঞ্জ, কাহালু এবং তালোড়া পৌরসভার জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১৫ দশমিক ৪’শ মেট্রিকটন চাল। এই পৌরসভাগুলোতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা এক হাজার ৫৪০ জন করে। উপজেলাগুলোর মধ্যে শেরপুরে ১৬ হাজার ৭১৪ জনের বিপরীতে ১৬৭ দশমিক ১৪০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আদমদীঘি উপজেলায় ৯ হাজার ৭০৬ জনের বিপরীতে ৯৭ দশমিক ০৬০ মেট্রিকটন, বগুড়া সদরে ৭ হাজার ৬২ জনের বিপরীতে ৭০ দশমিক ৬২০ মেট্রিকটন, ধুনটে ২২ হাজার ৮৫৯ জনের বিপরীতে ২২৮ দশমকি ৭৫০ মেট্রিকটন, দুপচাঁচিয়ায় ৮ হাজার ৬৭৪ কার্ডের বিপরীতে ৮৬ দশমিক ৭৪০ মেট্রিকটন। গাবতলীতে ২২ হাজার ৮৫৯ কার্ডের বিপরীতে ২২৮ দশমিক ৫৯০ মেট্রিকটন। কাহালু উপজেলায় ৮ হাজার ৪৮৭ জনের বিপরীতে ৮৪ দশমিক ৮৭ মেট্রিকটন। নন্দীগ্রাম উপজেলায় ১০ হাজার ৫৭৩ জনের বিপরীতে ১০৫ দশমিক ৭৩০ মেট্রিকটন। সারিয়াকান্দিতে ২৩ হাজার ৮৮ জনের বিপরীতে ২৩০ দশমিক ৮৮০ মেট্রিকটন। শাজাহানপুরে ৫ হাজার ৪৭৩ জনের বিপরীতে ৫৪ দশমিক ৭৩০ মেট্রিকটন। শিবগঞ্জের ২০ হাজার ৪২৭ কার্ডের বিপরীতে ২০৪ দশমিক ২৭০ মেট্রিকটন চাল এবং সোনাতলায় ১৫ হাজার ৪১০ জনের বিপরীতে ১৫৪ দশমিক ১০০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এই চাল বিতরণ শুরু হয়ে গেছে। দুঃস্থ এবং অতিদরিদ্র ব্যক্তির পরিবারকে এ সহায়তা দেওয়া হবে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া জানান, জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে ৫টি উপজেলা বাকি রয়েছে। বাকী ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় দুস্থ ও অসহায়দের বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এছাড়াও শেরপুর উপজেলায় খাদ্য বিভাগে চাল সংকট থাকায় ৪টি ইউনিয়নে বিতরণ কিছুটা ব্যতয় হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের নিদের্শনা অনুযায়ী সেক্ষেত্রেও সমাধান হয়েছে। চিঠি আসবে দুই-একদিনের মধ্যেই। আশা করি আগামী ২৮ মার্চের মধ্যে বাকী উপজেলার সুবিধাভোগীদের মাঝে বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ শেষ করতে পারবো। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
