বৃষ্টির একদিন পেরুলেও পানির নিচে বকশিবাজার, বুয়েট ক্যাম্পাসসহ রাজধানীর কিছু এলাকা। সিটি করপোরেশন শত শত কোটি টাকা খরচ করার পরও বর্ষায় এমন অবস্থায় ক্ষুব্ধ নগরবাসী। এমন পরিণতির জন্য নগর কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অসচেতনতাকে দুষলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখছেন তারা।
রাজধানী ঢাকাকে ভালোবেসে ডাকা হয় তিলোত্তমা নগরী। যে নগরীর আছে ৪০০ বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য। সেই নগরীই কিনা ভেসে গেল মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টার বৃষ্টিতে! এ কেমন বৃষ্টি! এমন বৃষ্টি কি বিশ্বে বিরল? কেমনই বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা?
শুক্রবারের (১২ জুলাই) তিন থেকে চার ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয় বুয়েট ক্যাম্পাসে। শিক্ষার্থীদের হল, কর্মকর্তা-কর্মচারী-শিক্ষকদের বাসাবাড়ি কোথাও বাদ যায়নি জমে থাকা পানি থেকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি ভবনের নীচতলা জলমগ্ন। কেউ হাত ব্যবহার করে পানি নিষ্কাশন করেন। আবার কেউ লাগান পাম্প। বাসিন্দাদের দাবি, বছরের পর বছর বর্ষা মৌসুমে এমন করুণ পরিণতির শিকার হতে হয় তাদের।
বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে কেড়ে নিয়েছে বাসিন্দাদের থাকা-খাওয়া এমনকি বন্ধ হয়ে যায় টয়লেটে যাওয়ার ব্যবস্থাও! শুধু বুয়েট ক্যাম্পাসই নয়, বকশিবাজার, পলাশীসহ শনিবারও (১৩ জুলাই) পানিবন্দি দক্ষিণ সিটির অনেক এলাকা।
এমন পরিণতির জন্য নগর কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অসচেতনতাকে দুষলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। খাল দখলমুক্ত করে প্রাকৃতিক সমাধানেরও পরামর্শ তাদের।
বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আসিফ-উজ-জামান সময় সংবাদকে বলেন, খালগুলোকে দখলমুক্ত করে প্রাকৃতিক সমাধান করলে সেটা বেশি কার্যকর ও টেকসই হবে। এতে খরচও কম পড়বে।