|
বাংলাদেশের সঙ্গে ‘পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (পিপিএ)’র চিত্র তুলে ধরল আদানি
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() বাংলাদেশের সঙ্গে ‘পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (পিপিএ)’র চিত্র তুলে ধরল আদানি কিন্তু পিপিএ-এর মূল্যনির্ধারণী প্রবিধান সমূহকে (ট্যারিফ প্রভিশনস) কেন্দ্র করে কিছু ভুল ও মিথ্যা ব্যাখ্যা প্রদান করা হচ্ছে, যেটি দুঃখজনক ও স্বার্থন্বেষী আচরণের শামিল। (১) একটি ভুল ধারণ ও মিথ প্রচলিত আছে- প্রকল্পের নির্ধারিত ব্যয় এর জন্য একটি বড় অংকের টাকা উত্তোলন/লেনদেন হয়েছে কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে গোড্ডা স্টেশন বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড’কে (বিপিডিবি) কোনো বিল/চালান ধার্য করেনি; বরং বাংলাদেশ এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রক্রিয়া চালুর জন্য নিজেদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সরবরাহ গ্রহণে পুরোপুরি প্রস্তুত হবার আগ পর্যন্ত আদামি অপেক্ষা করবে- পারস্পরিক আলোচনায় এমনটাই সমঝোতা করা হয়েছে। (২) মার্চ থেকে আদানি স্টেশন বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং গোড্ডা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যয় অন্যান্য বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান (আমদানিকৃত কয়লা এবং অবশ্যই এলএনজি ও তরলীকৃত জ্বালানি ব্যবহার করে) বা ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিওসারস (আইপিপি) এর তুলনায় হবে বেশ প্রতিযোগিতামূলক ও সাশ্রয়ী। সুতরাং এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের মানুষের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। (৩) গোড্ডা থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্টে (গোড্ডা টিপিপি) অস্বাভাবিক দামে কয়লা ব্যবহার করা হবে- প্রকাশিত এমন কিছু খবর গবেষণাহীন ভুল ব্যাখ্যা ও কল্পনা প্রসূত। কিছু প্রতিবেদন বলা হয়েছে- পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট এর পুরো সময়কালে গোড্ডা স্টেশন থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ (জ্বালানি)-এর মূল্য দাঁড়াবে ১৮ইউএসসি/কেডব্লিউএইচ এর বেশি। এমন বক্তব্য পুরোপুরি অসত্য, বিদ্বেষমূলক এবং স্বার্থন্বেষী। এখন ২০২৩ সালের মার্চ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। এই প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ান গ্লোবাল কোল নিউ ক্যাসেল (জিসিএনসি) সূচকে ১৮৭ মার্কিন ডলার এবং ইন্দোনেশিয়ার সূচকে (এইচবিএ) ১৯৭ মার্কিন ডলার কয়লার মূল্য পূর্ভাবাস দেওয়া হচ্ছে। এই হিসেবে ৬,৩৩২ কেসিএএল কয়লার গড় ইনডেক্স ব্যয় নির্ধারিত হবে ১৯২ মার্কিন ডলার। গোড্ডা চুল্লির জন্য প্রয়োজনীয় ৪,৬০০ কেসিএএল কয়লার আনুপাতিক খরচ দাঁড়াবে ১৩৯ মার্কিন ডলার। উপরোক্ত ‘ফ্রি অন বোর্ড’ (এফওবি) কয়লার মূল্য যুক্ত হবে লোয়ার ফ্রিগেট-এর (মালবাহী নৌযান) সাথে- যা ইতোমধ্যে আদানি পিপিএ’তে যুক্ত করা হয়েছে (যদিও অন্যান্য ক্ষেত্রে এই হিসাব প্রায় দ্বিগুণ পেরিয়ে যায়) এবং নির্ধারিত হয়েছে জিরো কর ও শুল্ক। পিপিএ’তে অন্যান্য আইপিপি যেমন- রামপাল, মাতারবাড়ি এবং এস আলম প্রভৃতি প্রজেক্টের তুলনায় অপেক্ষাকৃত প্রতিযোগিতামূলক ও সাশ্রয়ী ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে আমদানিকৃত কয়লার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ৩টি কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ‘পাওয়ার পারচেজ এগ্রিমেন্ট (পিপিএ)’ রয়েছে। উপরোক্ত সূচকের ভিত্তিতে আদানির গোড্ডা পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে অন্যদের চাইতে কম হবে। আদানির গোড্ডা পাওয়ার প্ল্যান্ট নিয়ে সব বিতর্কের অবসান ঘটাতে, আদানি অবগত করতে চায় যে- এটির বিদ্যুৎ সরবরাহ মূল্য রামপাল, মাতারবাড়ি এবং এস আলম স্টেশন সহ অন্যান্য ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিওসারস (আইপিপি) এর তুলনায় কখনোই বেশি হবে না। প্রসঙ্গক্রমে জানানো যাচ্ছে যে- অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ভাবাস সাপেক্ষে আদানির গোড্ডার সম্ভাব্য বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে ৯.৩৯ ইউএসসি/কেডব্লিউএইচ এবং ক্যাপাসিটি চার্জ হতে পারে ৪.২৪ ইউএসসি/কেডব্লিউএইচ। উপরে উল্লেখিত সংখ্যানুসারে এটা স্পষ্ট যে- গোড্ডা থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্টের বিদ্যুৎ সরবরাহ মার্চ থেকে শুরু হবে এবং সেক্ষেত্রে তা হবে ক্যাপাসিটি চার্জ ও ফুয়েল চার্জ এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অন্যান্য পাওয়ার স্টেশনের তুলনায় সমান ব্যয়সাপেক্ষ অথবা কম ব্যয়সাপেক্ষ ও সাশ্রয়ী। যেসব স্বার্থন্বেষী মহল আদানির গোড্ডা পাওয়ার প্ল্যান্ট ঘিরে বাংলাদেশের ভোক্তোদের কাছে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়েছে, তারা এসব তথ্যের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করেনি। পিপিএ’র পুরো সময়কালে বাংলাদেশের মানুষ প্রতিযোগিতামূলক, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধা লাভ করবেন। পাঠকদের বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) ২০২২ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন পড়ে দেখতে অনুরোধ করা হচ্ছে- সেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে হেভি ফুয়েল ওয়েল (এইচএফও) ভিত্তিক প্ল্যান্টের মোট ট্যারিফ ২০ মার্কিন ডলার সেন্টস ছাড়িয়ে গেছে এবং হাই স্পিড ডিজেল (এইচএসডি) ভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্টের মোট ট্যারিফ ইউএসসি ১৫০/কেডব্লিউিএইচ। আমদানিকৃত গ্যাসভিত্তিক প্ল্যান্টগুলোতেও উচ্চ ট্যারিফ রয়েছে। এখন পর্যন্ত সোলার প্ল্যান্টগুলোর ক্ষেত্রেও ট্যারিফ ধরা হয় ১৪ মার্কিন ডলার সেন্টস থেকে ১৭ মার্কিন ডলার সেন্টস, বিরতিহীন শক্তির (জ্বালানি) উৎস সত্ত্বেও। অর্থ্যাৎ বার্ষিক প্রতিবেদনে আমদানিকৃত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকে টেকসই ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
